মণিরাজ ঘোষ, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২২ সেপ্টেম্বর: ধীরে ধীরে বাগে আসছে সংক্রমণ! বাড়ছে সুস্থতার হার। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের নিজস্ব রিপোর্ট অনুযায়ী, সোমবার রাত পর্যন্ত জেলায় মোট সংক্রমিত হয়েছেন ৮৫৪৮ জন। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৬৩৩৯ জন। এখনো চিকিৎসাধীন আছেন, ২০৮৩ জন। গত চব্বিশ ঘণ্টায় ৪ জনের মৃত্যু সহ, সোমবার পর্যন্ত জেলায় করোনা সংক্রমিত হয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ১২৬ জনের। মৃত্যু’র হার মাত্র ১.৪৭ শতাংশ! সুস্থতার হার বেশ অনেকটাই বেড়ে প্রায় ৭৫ শতাংশ হয়েছে। তবে, সোমবার রাতের জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের রিপোর্টে সবথেকে ভয়ানক অবস্থা শহর মেদিনীপুরের। একদিকে, পুজো পুজো গন্ধ, খুঁটি পুজো প্রায় শেষ, নতুন মাসের বেতন ঢুকলেই বাজার করার ভাবনা-চিন্তা; অপরদিকে প্রতিদিনই গড়ে সংক্রমিত হচ্ছেন ২৫-৩০ জন করে। রবিবার, মাত্র ১৩ জন সংক্রমিত হওয়াতে কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিলেন শহরবাসী, সোমবার ফের আইপিএলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে হাফসেঞ্চুরি হাঁকিয়ে বসল! গত চব্বিশ ঘণ্টায় জেলায় মোট সংক্রমিত ১৪৩ জনের মধ্যে শুধুমাত্র মেদিনীপুর শহর ও শহরতলীই ৫২। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের আরটি-পিসিআর (RT-PCR) ও র্যাপিড অ্যান্টিজেন (RAPID ANTIGEN) এবং বেসরকারি হাসপাতালের ট্রুনেট (TRUENAT) মিলিয়ে জেলায় সংক্রমিত হয়েছেন যথাক্রমে- ১০৯, ৩০ ও ৪ জন, মোট ১৪৩ জন। মেদিনীপুর শহর ও শহরতলীর ৫২ জন ছাড়াও, খড়্গপুরে ৭, ডেবরা ৬, শালবনী ৩, দাঁতন ৪, কেশপুর ৪ এবং ঘাটাল মহকুমায় ২৬ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে, শুধুমাত্র মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের আরটি-পিসিআর টেস্ট অনুযায়ী। এর সঙ্গে, জেলার বিভিন্ন এলাকায় (ব্লকে) যে র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হচ্ছে, তাতে ৩০ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। র্যাপিড অ্যান্টিজেনের জন্য, সোমবার সারাদিনে জেলায় মোট ১০৭৪ জনের নমুনা সংগৃহীত হয়েছিল, ৩০ টি রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে, অর্থাৎ সংক্রমণের হার মাত্র ২.৭৯ শতাংশ! ৩০ জনের মধ্যে অনেকেই আবার উপসর্গহীন! এর থেকেই প্রমাণিত হচ্ছে, সংক্রমণের তীব্রতা অনেকখানিই কমেছে। শুধুমাত্র কো-মর্বিডিটি থাকাদের এবং বেশকিছু ক্ষেত্রে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, নাহলে, করোনাসুরের যে ক্রমেই শক্তিক্ষয় হচ্ছে তা বলাই বাহুল্য!

সোমবার রাতের রিপোর্ট অনুযায়ী, মেদিনীপুর শহরের পুলিশ লাইন, এসপি বাংলো এবং কোতোয়ালী থানা সহ প্রায় ৯ জন করোনা যোদ্ধা সংক্রমিত হয়েছেন বলে জানা যায়। এছাড়াও, শরৎপল্লীতে একটি পারিবারে বাবা ও ছেলে (৩৪ ও ৭)’র রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। ধর্মা ও বিবেকানন্দ নগরে পারিবারিক সংক্রমণের ধারা অব্যাহত আছে। গতকাল ধর্মায় একটি পরিবারে ৩ জন ও বিবেকানন্দ নগরে একটি পারিবারে ২ জন সংক্রমিত হয়েছেন। অপরদিকে, রাঙামাটি, পাহাড়ীপুর, হবিবপুর, কোতবাজার, কর্ণেলগোলা সহ কয়েকটি এলাকায় ১ জন করে সংক্রমিত হয়েছেন। শহরতলীর আবাস, খয়েরুল্লারচক, গুড়গুড়িপাল সহ বিভিন্ন এলাকায় আরো ৩০ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। খড়্গপুরের ঝাপেটাপুর (২), রবীন্দ্রপল্লী (২), তালবাগিচা, মালঞ্চ, বিবেকানন্দ পল্লী সহ মোট ৭ জন সংক্রমিত হয়েছেন। ডেবরা’র সত্যপুর ৩ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত সত্যপুর, বেলার, ভইনাগড় এলাকায় মোট ৩ জন এবং ডুঁয়া (ডুঁয়া ১০/১), চককুমার (ডেবরা ৫/২) এবং রাধামোহনপুরের চন্দনপুর সহ মোট ৬ জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। কেশপুর ব্লকের আনন্দপুর থানার আমডাঙড়া গ্রামের ৩ জন সহ কেশপুরে মোট ৪ জনের রিপোর্ট এদিন পজিটিভ এসেছে। শালবনীতে ৩ জন (শালবনী), দাঁতনে ৪ জন এবং ক্ষীরপাইতে ১ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। দাসপুর ২ নং এ ১৬ জন, দাসপুর ১ নং এ ৬ জন এবং ঘাটালে আরো ৩ জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। গত চব্বিশ ঘণ্টায়, জেলায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন প্রায় ১৮০ জন।





