সবার প্রিয় দেবাঞ্জন’কে হারিয়ে কাঁদছে সারা শালবনী! অতিমারীর সময়ে পরোপকারী পিন্টুর মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না কেউই

thebengalpost.in
দেবাঞ্জন মাহাত (২০) :

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৬ মে: সময় বড় কঠিন, নিয়তি আজ সত্যিই নির্দয়, নিষ্ঠুর! যে ছেলেটা করোনার প্রথম ঢেউয়ের সময় ক্লাবের বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে এলাকার দুঃস্থ পরিবারগুলিকে সাহায্য করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, সেই হাসিখুশি ছেলেটাই মাত্র ২০ বছর বয়সে এই পৃথিবীকে চির-বিদায় জানাল! হৃদয়-বিদারক বললেও কম হয়। শনিবার দুপুর পর্যন্ত সবকিছুই ঠিকঠাক ছিল। সদ্য শুরু করা মাইকের ব্যবসার কাজে ছোট পিক আপ ভ্যান (হাতি গাড়ি নামে পরিচিত) এ করে যাচ্ছিল দেবাঞ্জন মাহাত (ডাকনাম পিন্টু)। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেল, প্রথমে ড্রাইভারের পাশে বসলেও, গরম লাগছিল বলে পিক আপ ভ্যানের পেছনে যে সাউন্ড বক্স চাপিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল, তার উপরই চড়ে বসে জঙ্গলমহলের এই দামাল ছেলে। শালবনী টাঁকশালের পেছনের দিক দিয়ে যে ফাঁকা রাস্তা বা পিচ সড়কটি চলে গেছে জুয়ালভাঙার দিকে, সেই রাস্তাতেই গাড়িটি একটি টার্ন বা মোড় ঘুরতেই নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনা পিন্টু! পিচের রাস্তার উপর পড়ে যায়, মাথার ভারে। সরাসরি আঘাত পায় মাথায়! ঘটনাস্থলেই সংজ্ঞা হারায় পিন্টু। ওই গাড়ির ড্রাইভার দ্রুত ফোন করে পরিচিতদের খবর দেয় এবং পিন্টুকে শালবনী গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে সঙ্গে সঙ্গে রেফার করা হয় মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। সেখানে এমার্জেন্সি’তেই পিন্টুকে মৃত ঘোষণা করা হয়! শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েন সঙ্গে থাকা বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-পরিজনরা।

thebengalpost.in
দেবাঞ্জন মাহাত (২০) :

মোবাইলে খবর পেতে জয়েন করুন
Whatsapp Group এ

যে ছেলেটা পরের বিপদে আপদের সময়ে ঝাঁপিয়ে পড়ত, তাঁর এভাবে অসহায় ও আকস্মিক মৃত্যু’র কথা শুনে সারা শালবনী এলাকাই শোকে মুহ্যমান! নিষ্ঠুর নিয়তি যে সদা হাস্যময় ও প্রাণবন্ত পিন্টুর জন্য এরকম মর্মান্তিক মৃত্যু লিখে রেখেছিল, তা ভাবতে পারছেন না শালবনীর সমাজকর্মী নুতন ঘোষ থেকে পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ সন্দীপ সিংহ কেউই। সকলেই বলছেন, “কিছুতেই মেনে নিতে পারছিনা, পরোপকারী, হাসিখুশি ছেলেটার এরকম দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যু!” তবে, একটা অভিযোগও উঠেছে। শালবনী গ্রামীণ হাসপাতাল থেকে আহত ও সংজ্ঞাহীন পিন্টুকে মেদিনীপুর মেডিক্যালের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার পথে, শালবনীর লেভেল ক্রসিংয়ে প্রায় ১০-১৫ মিঃ আটকে যেতে হয় গাড়িকে। অভিযোগ যে, এই লেভেল ক্রসিংয়ের আন্ডার-পাসের অনুমোদন পেয়ে যাওয়ার পরও কাজ শুরু করতে গড়িমসি করছে কর্তৃপক্ষ। শেষমেশ মেদিনীপুর মেডিক্যালে পৌঁছলেও শেষ রক্ষা হয়নি! শনিবার ভরদুপুরেই সকলকে কাঁদিয়ে চির-বিদায় নেয় দেবাঞ্জন। ইন্টারন্যাল হেমারেজ বা মাথার ভেতরে রক্তক্ষরণের জন্যই মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে বিস্তারিত জানা যাবে। পিন্টুর বাড়ি পিড়াকাটা এলাকার মেমুল সংলগ্ন এলাকায় হলেও, সে থাকত শালবনীতে নিজের বাড়িতেই। মেসো একজন রেল কর্মী বলে জানা যায়। লকডাউনের মধ্যে কলেজ ছুটি থাকায় নিজেই ছোটোখাটো মাইক ভাড়া দেওয়ার কাজ করত আর সঙ্গে অন্যের বিপদে গিয়ে সাহায্য করা! সেই ছেলেটার এই অকাল-বিদায় কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না শালবনী বাসী। দেবাঞ্জনের ফেসবুক টাইম লাইন জুড়ে এখন শুধুই বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের আর্তনাদ! সকলের মুখেই একটা কথা—“এভাবে কাউকে না বলে, ছেড়ে চলে গেলি!”

thebengalpost.in
অকালেই ঝরে পড়ল একটি তরতাজা প্রাণ :

আরও পড়ুন -   পারিবারিক বিবাদের জেরে পশ্চিম মেদিনীপুরে ছেলের হাতে 'খুন' হলেন বাবা! গ্রেফতার 'গুনধর' ছেলে