লকডাউনের আগের রাতে মেদিনীপুর শহরে তুমুল ভিড়! মদের দোকানের লাইন ছাপিয়ে গেল টিকা নেওয়ার লাইনকেও

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, মেদিনীপুর, ১৫ মে: রবিবার সকাল ৬ টা থেকেই রাজ্য জুড়ে লকডাউন শুরু হয়ে যাচ্ছে আগামী ১৫ দিনের জন্য। তবে, সকাল ৭ টা থেকে ১০ টা পর্যন্ত শাক-সবজি, ভূষিমাল থেকে শুরু করে মাছ-মাংস-দুধ সবকিছুই পাওয়া যাবে। জরুরি পণ্য হিসেবে ওষুধ থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সবকিছুকে অবশ্য এই লকডাউনের বাইরে রাখা হয়েছে। তা সত্ত্বেও, কিছুটা আতঙ্কে আর কিছুটা বাঙালি-সুলভ আবেগ নিয়ে লকডাউনের আগের রাতে মানুষ কেনাকাটা করতে বেরলেন দল বেঁধে! অন্তত লকডাউনের আগের রাতে করোনা-বিধি ভেঙে চুরমার জেলা শহর মেদিনীপুরেও। রাস্তায় রাস্তায় ভিড়। শহরের কেরানীটোলাতে অনেকদিন পর দেখা গেল, ট্রাফিক সামলাতেও হিমশিম খাচ্ছেন কর্তব্যরত পুলিশ অফিসাররা। এদিকে, আগামীকাল থেকে কার্যত লকডাউন! তাই আগের রাতে, সন্ধ্যা ৭ টার মধ্যে দোকান বন্ধের নিয়মবিধিও ভিড়ের চাপে ভেঙে গেল। আটটা-সাড়ে আটটা’র পরেও অনেক দোকান পত্র খোলা থাকল। শহরজুড়ে পুলিশ গাড়ি চক্কর কাটল। বাধ্য হয়েই গাড়ি থেকে নেমে পুলিশ কর্মীরা দোকান বন্ধ করার আবেদন থেকে হুঁশিয়ারি পর্যন্ত দিলেন। তবে, তাঁরাও বুঝলেন লকডাউনের আগের রাত, কি আর করা যাবে! প্রশাসন যতই নিয়ম করুক, শেষ সচেতনতা তো মানুষের নিজের কাছেই!

thebengalpost.in
কেরানীটোলা তে ভিড়, আছে পুলিশের গাড়িও :

মোবাইলে খবর পেতে জয়েন করুন
Whatsapp Group এ

তবে, সবকিছুর ভিড়কে এদিন টপকে গেল, সরকারি মদের দোকান বা ফরেন লিকারের অফ শপের ভিড়! সেই ‘লকডাউন’ ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই অর্থাৎ শনিবার সকাল ১১ টা থেকে যে ভিড় শুরু হয়েছিল তা বজায় থাকল রাত্রি ৮ টা অবধি। হ্যাঁ, ঠিকই পড়ছেন, সন্ধ্যা ৭ টা নয়, রাত্রি ৮ টা – সাড়ে ৮ অবধি কয়েকটি দোকানে লাইন দেখা গেল (একেবারে জলজ্যান্ত প্রমাণ রেখেছি আমরা!)। তবে, কয়েকটি দোকান অবশ্য সন্ধ্যা ৭ টার আগেই পাততাড়ি গুটিয়ে নিয়েছিল, হয়তো জোগান দিতে হিমশিম খাচ্ছিলেন! সে যাই হোক, এদিনের লাইন অন্তত করোনা টিকা নেওয়ার লাইনকেও যে বলে বলে ৫ গোল দেবে, তা বলাই বাহুল্য! এই অবস্থা শুধু মেদিনীপুর শহরের নয়, সারা রাজ্য জুড়েই আজ একই চিত্র উঠে এসেছে! অবশ্য, ‘চিত্র’ তুলতে গিয়ে সাংবাদিকদেরও লজ্জা পেতে হয়েছে! অনেক পরিচিত কাকু-জ্যাঠু-দাদা-ভাই-বন্ধু-বান্ধবরাও লাইনে দাঁড়িয়ে যে! কেউ কেউ তো মোবাইল বা ক্যামেরা দেখে ‘মাস্ক’ পরেও মুখ লুকোলেন! দিনের শেষে অন্তত এটাই প্রমাণিত হল, “ভ্যাকসিন” মিলুক না মিলুক, “ওটা” অন্তত রাত্রে এক চুমুক চাই, করোনা থেকে বাঁচতে! কেউ কেউ আবার উত্তম কুমারের ঢংয়ে বলছেন—“এই তো জীবন…!!!”

thebengalpost.in
কেরানীটোলাতেই একটি অফ শপের দোকানে রাত্রি ৮ টার ভিড় :

আরও পড়ুন -   আবার সেই গড়বেতা! হামলা দুই বর্ষীয়ান বাম নেতার উপর, অভিযোগের তীর তৃণমূলের দিকে, প্রতিবাদ মিছিল সিপিআইএমের