“ধাক্কাধাক্কিতে পাগড়ি খুলে যায়, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ সকল ধর্মকে সম্মান প্রদর্শন করে”, পাগড়ি বিতর্কে রাজ্য পুলিশের বার্তা, আক্রমণ দিলীপ-লকেটদের

.

দ্য বেঙ্গল পোস্ট বিশেষ প্রতিবেদন, মণিরাজ ঘোষ, ১০ অক্টোবর: ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার ৮ অক্টোবরের নবান্ন অভিযান’কে কেন্দ্র করে বিতর্কের রেশ এখনো সবেগে বহমান! ‘বন্দুক’ (উদ্ধার হওয়া নাইন এম এম পিস্তল) আর ‘বেগুনি’ (জলকামানে বেগুনি রং মিশিয়ে দেওয়া) বিতর্কের পর, নবতম সংযোজন ‘পাগড়ি বিতর্ক’। ৮ অক্টোবরের মিছিলে, ব্যারাকপুরের বিজেপি নেতা তথা বিজেপি যুবমোর্চার রাজ্য কমিটির সদস্য প্রিয়াঙ্গু পাণ্ডের ব্যক্তিগত দেহরক্ষী বলবিন্দার সিংহের কাছ থেকে হাওড়া থানার পুলিশ একটি নাইন এমএম পিস্তল বাজেয়াপ্ত করে। আর, সেই সময়ই পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে শিখ সম্প্রদায়ের মানুষ বলবিন্দরের মাথা থেকে, তাঁর পাগড়ি খুলে পড়ে যায়। এরপর অবশ্য, বালবিন্দর’কে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে, ৮ তারিখ রাত অবধি এই পাগড়ি বিতর্কের অভ্যুত্থান হয়নি। বিতর্কের সূত্রপাত, গতকাল প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার হরভজন সিংয়ের এ নিয়ে করা মন্তব্যের পর থেকে! পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়’কে উদ্ধৃত করে, হরভজন বলেন, “পাগড়ি খুলে দেওয়া পুলিশের উচিত হয়নি! এতে শিখ সম্প্রদায়’কে অপমান করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়‘কে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আবেদন জানাচ্ছি।” এরপরই গতকাল (৯ অক্টোবর), পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের পক্ষ থেকে নিজেদের অফিশিয়াল ফেসবুক ও টুইটার অ্যাকাউন্টে, ঘটনার ভিডিও ও ছবি সমেত পোস্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়, “গতকালের প্রতিবাদের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিটি (বলবিন্দর সিংহ) আগ্নেয়াস্ত্র বহন করছিলেন। গোলমালের সময় ধাক্কাধাক্কির জন্য তার পাগড়িটি খুলে পড়ে যায় (সংযুক্ত ভিডিওতে দৃশ্যমান), পুলিশের কোনোরকম প্ররোচনা ছাড়াই। কোনও সম্প্রদায়ের অনুভূতিতে আঘাত করা কখনও আমাদের উদ্দেশ্য নয়। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ সকল ধর্মকে সম্মান প্রদর্শন করে। অফিসার তাকে গ্রেপ্তারের আগে বিশেষভাবে তাঁর পাগড়ি পরে নিতে বলেছিলেন। থানায় নিয়ে যাওয়ার ঠিক আগেই সংযুক্ত ছবিটি (গ্রেপ্তারের আগে পাগড়ি পরা অবস্থায় বলবিন্দার সিংহের ছবি সংযুক্ত করা হয়) সংগ্রহ করা হয়েছিল। রাজ্যে আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।” এদিকে, পুলিশ সূত্রে এও জানানো হয়, উদ্ধার হওয়া বন্দুকটির লাইসেন্স জম্মুর রাজৌরি থেকে বের করা হয়েছে। ওই বন্দুক এ রাজ্যে বৈধ নয়!

thebengalpost.in
থানায় নিয়ে যাওয়ার আগে তোলা বলবিন্দর সিংহের ছবি : (সৌ: পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ)

.
.

এদিকে, হরভজন সিংয়ের মন্তব্যের পরই আসরে নামেন, রাজ্য বিজেপি’র নেতা-নেত্রীরাও। বিজেপি কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে সুরে সুর মিলিয়েই, রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন রাজ্য প্রশাসনকে। বর্ধমানের সভা থেকে তিনি বলেন, “ওটা পাগড়ি বলেই হাত পড়েছে, গোল টুপি হলে খুলতে পারতোনা !” অপরদিকে, আজ (১০ অক্টোবরের) কেশপুরের সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেন, “শিখ সম্প্রদায়ের ধর্মে আঘাত করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মুখে যতই বলুন না কেন, হিন্দু-মুসলিম-শিখ-জৈন ভাই ভাই, এ দিনের ঘটনার পর থেকে এই কথা আর ওনার মুখে সাজবেনা। এটি একটি কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রইল।” এ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া না এলেও, তৃণমূল নেতা ও কর্মীরা সমাজ মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন এভাবে, “এটাই বিজেপির চরিত্র। একটা সামান্য ঘটনাকে ধর্মীয় বিভেদে পরিণত করতে চাইছে। কিন্তু, পশ্চিমবঙ্গে তা বিজেপি করতে পারবেনা!”

.
.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে