অমিত শাহের সভার আগেই মেদিনীপুরে আরেক ‘দাদা’র আবির্ভাব! ফের শুরু নতুন জল্পনা

বিজ্ঞাপন

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, মেদিনীপুর, ১৬ ডিসেম্বর: আগামী শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) ঐতিহাসিক মেদিনীপুর শহরের ঐতিহ্যমণ্ডিত কলেজ-কলেজিয়েট ময়দানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মেগা জনসভা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। সভা শুরুর আগে, মেদিনীপুর শহরের হবিবপুরে বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু’র জন্মভিটে, সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির এবং তারপর শালবনী ব্লকের কর্ণগড়ের মহামায়া মন্দির দর্শন করতে যাওয়ার সূচি নির্ধারিত হয়েছে বলে জানা গেছে দলীয় সূত্রে। আপাতত, অমিত শাহের সভা নিয়েই সরগরম মেদিনীপুর শহর। মুখে মুখে জল্পনা- ওইদিনই মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র ‘জননেতা’ শুভেন্দু অধিকারী বিজেপি’র পতাকা হাতে তুলে নেবেন, ঐতিহাসিক মেদিনীপুর শহরের ঐতিহ্যমণ্ডিত কলেজ-কলেজিয়েট ময়দানে দাঁড়িয়ে! দাদার অনেক অনুগামীও তেমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে। ‘দাদা’ অর্থাৎ শুভেন্দু অধিকারী’কে নিয়ে জল্পনার মধ্যেই, আরেক ‘দাদা’ রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবির্ভাব ঘটল মেদিনীপুর শহরে! তবে, সশরীরে নয়, হোর্ডিংয়ের মধ্য দিয়ে! গতকাল (১৫ ডিসেম্বর), নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ডোমজুড়ের এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে, তাঁর প্রতি হওয়া বঞ্চনার কথা তুলে ধরেছেন বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। আর ওই দিনই রাতের মধ্যে মেদিনীপুর শহর জুড়ে, তাঁর ছবি সহ বড় বড় হোর্ডিং পড়ল। ছবির নীচে লেখা- “দাদার পাশে আমরা”। উপরে লেখা- “স্বচ্ছতার প্রতীক”। শহরের নতুনবাজার, জগন্নাথ মন্দির থেকে শুরু করে গোলকুঁয়ারচক, পঞ্চুরচক সর্বত্র দেখা যাচ্ছে এই হোর্ডিং। স্বাভাবিকভাবেই শহর জুড়ে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে, ১৯ শে ডিসেম্বরের আগে। তবে কি “সততার প্রতীক” এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এবার “স্বচ্ছতার প্রতীক”? সঙ্গে, “মেদিনীপুরের দামাল ছেলে”? ১৯ শে ডিসেম্বর কি তবে দু’জনকেই একসাথে দেখা যাবে, ঐতিহাসিক মেদিনীপুর শহরের সভায়? এখনও এই বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও, একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে, এই মুহূর্তে মেদিনীপুরই যে সমস্ত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে, তা বলাই বাহুল্য!

thebengalpost.in
মেদিনীপুর শহরে (জগন্নাথ মন্দির) পড়ল রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের পোস্টার :

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
thebengalpost.in
১৯ শে ডিসেম্বর মেদিনীপুরে জনসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ :

এদিকে, মাঝখানে মাত্র একদিন ‘চুপ’ থাকার পর, ফের বিস্ফোরণ ঘটালেন রাজ্যের বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের বিধানসভা নির্বাচনী এলাকা ডোমজুড়ে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে রাজীব বাবু বলেন, “অনেকে অনেক কিছু হয়তো পান। অনেকে অনেক জায়গায় অনেক রকম ভাবে গুরুত্ব পান না! তারপরে সেখানে মান-অভিমান হয়। বাংলার মানুষ দেখেছেন আমাকে কিভাবে ডিপ্রাইভ (বঞ্চিত) করা হয়েছে। ডোমজুড়ের মানুষও দেখেছেন।” তিনি আরও বলেন, “সেই জায়গা থেকে আমি বলেছি। আমার নিজের দুঃখ, ডোমজুড়ের মানুষের দুঃখের কথা। বাংলার মানুষের কাছে কিছু প্রশ্ন ছিল সেটাই আমি বলেছি। এর বাইরে আর কিছু বলতে চাই না।” প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষোভ প্রশমনে উদ্যোগী হয়েছিল দল। সোমবারই শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়েছিল। তবে, সেই বৈঠকে যে ‘চিঁড়ে ভেজেনি’, এদিনের বিস্ফোরক মন্তব্যের পর তা স্পষ্ট হল!

thebengalpost.in
রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের হোর্ডিং মেদিনীপুরে, নীচে লেখা- ‘দাদার পাশে আমরা’ :

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে