“ঝাড়গ্রাম জেলা পরিষদ দখল করেছিল বিজেপি, মধ্যরাতের গণনায় পুলিশ দিয়ে হারানো হয়েছিল”, শুদ্ধিকরণে স্বীকার শুভেন্দুর

বিজ্ঞাপন

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, ঝাড়গ্রাম, ২৮ ডিসেম্বর: বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ বলেছে- পাপ বা অপরাধ স্বীকার করে অনুতপ্ত হলে তা লঘু হয়ে যায়,‌ পাপীও হয় ক্ষমার যোগ্য! একে বলে শুদ্ধিকরণ। বিজেপি’তে এসে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক ও মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কি সেই শুদ্ধিকরণ-পর্বের মধ্য দিয়ে হেঁটে চলেছেন, প্রশ্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। টেট সহ চাকরিতে দুর্নীতি, বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা চুরি, বিরোধীদের পুলিশ দিয়ে হেনস্থা ও ফাঁসানো, এমনকি বিভিন্ন জায়গায় বিরোধীদের প্রার্থী দিতে না দেওয়া এবং দিলেও অন্যায় বা কারচুপি করে হারানোর অভিযোগ, ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদান করার পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারী ধাপে ধাপে এসব নিয়ে সরব হচ্ছেন! অপরদিকে, তৃণমূল নেতা-কর্মীরা কাউন্টার করছেন, তিনি নিজেই তো তখন দোর্দন্ডপ্রতাপ তৃণমূল বিধায়ক ও মন্ত্রী! আজ (২৮ ডিসেম্বর) যেমন, ঝাড়গ্রামে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে, রীতিমতো বিস্ফোরণ ঘটিয়ে শুভেন্দু জানিয়েছেন, ২০১৮ এর পঞ্চায়েত নির্বাচনে ঝাড়গ্রাম জেলা পরিষদ বিজেপিই দখল করেছিল, কিন্তু, মধ্যরাতে পুলিশ দিয়ে গণনায় কারচুপি করে তৃণমূলকে জেতানো হয়েছিল! শুভেন্দু বলেন, “আমি জানি ঝাড়গ্রামে জনগণের ভোটে বিজেপিই জিতেছিল। জেলা পরিষদ পাওয়ার কথা বিজেপিরই। মধ্যরাতে পুলিশ দিয়ে গণনায় কারচুপি করা হয়েছিল!” একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ঝাড়গ্রামের চারটি বিধানসভাতেই ৫০,০০০ এর বেশি ভোটে জিতবে বিজেপি।

thebengalpost.in
শুভেন্দু অধিকারী :

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

তবে, প্রশ্ন উঠছে, এতবড় দুর্নীতি যখন ঘটছে শুভেন্দু অধিকারী তখন জঙ্গলমহলের একমেবাদ্বিতীয়ম তৃণমূল নেতা! এই অপরাধ তিনি প্রশ্রয় দিয়েছিলেন কেন? সাংবাদিকরা তাঁকে আরও প্রশ্ন করেন, প্রাইমারিতে তাঁর অঙ্গুলিহেলনে ব্যাপক দুর্নীতির বিষয়ে। এমন প্রশ্নও করা হয়, ‘লজ্জা’ নিয়ে ২১ বছর তিনি তৃণমূল করলেন কি করে! যদিও সদুত্তর দিতে পারেননি শুভেন্দু। এড়িয়ে যান তিনি এবং ‘যত দোষ নন্দ ঘোষ’ এর মতোই সব দায় তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রীর ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে বলেন, “সরকারটা একজনই চালান। এর দায় তাঁকেই ‌নিতে হবে। চাকরি দেওয়ার দায়িত্ব আমার হাতে ছিল না!” আর এও বলেন, “আমি সংবিধান মেনে মন্ত্রিত্ব, বিধায়ক পদ ও তৃণমূল দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেছি!” রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, এর ফলেই কি ‘সাত খুন মাফ’ হয়ে যায়? নৈতিক ভাবে হয় কিনা জানা নেই, তবে ‘রাজনীতিতে’ যে হয় তা বলাই বাহুল্য! তবে, শুভেন্দু অধিকারীর দলবদলের ফলে সাধারণ মানুষ অন্তত কতগুলি বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারছে! গতকাল স্বয়ং তৃণমূল যুব সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সারদা-নারদা’কে একপ্রকার স্বীকৃতি দিয়েই দিয়েছেন! আজ শুভেন্দু অধিকারী’র সৌজন্যে চাকরি-বাকরি সহ নানা দুর্নীতি স্পষ্ট হচ্ছে! স্বাভাবিকভাবেই এসবকিছুর দায় একজনের উপরই বর্তাবে! তিনি ‘পরিবারের মাথা’। শাসকদলের কর্মীরা এখন শুভেন্দু’কে দোষ দিয়ে লাভ কি, শুভেন্দু অধিকারী ২০২০ র মার্চ-এপ্রিল থেকেই দলের সঙ্গে একপ্রকার সম্পর্ক ত্যাগ করে দিয়েছিলেন, এর মধ্যেই আমফানে দুর্নীতি হয়েছে, আপার প্রাইমারি সহ একাধিক নিয়োগে দুর্নীতি হয়েছে। সত্যিই সত্যিই সেইসব নিয়োগের মাথায় বসেছিলেন, মুখ্যমন্ত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ দক্ষিণ কলকাতারই এক মন্ত্রী! এর আগেও, WBCS , SLST, PSC সহ একাধিক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষিত বেকাররা আজ প্রশ্ন তুলছেন, ২৯৪ টা আসনেই যিনি প্রার্থী, এসবের দায়তো স্বাভাবিকভাবেই কি তাঁর নয়!

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে