রাধাকে ছেড়ে শ্যামের বিদায়! স্মৃতি আঁকড়ে কাঁদছে মেদিনীপুর

.

দ্য বেঙ্গল পোস্ট বিশেষ প্রতিবেদন, মণিরাজ ঘোষ, ১৫ নভেম্বর: ‘মৃত্যু’কে ‘আপন’ করে বিদায় নিয়েছেন ‘অপরাজিত অপু’ সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। অঝোরে কেঁদে চলেছে ধরিত্রীর শিউলি, কাশের বাগান, রেললাইন, পথ-ঘাট-প্রান্তর! কাঁদছে মেদিনীপুরও। কিন্তু, তাতে কি, তিনি তো “অমরত্ব” অর্জন‌ করেছেন! এবার স্বর্গের নন্দনকাননে বসে নিশ্চিন্তে ‘গীতবিতান’ উচ্চারণ করবেন। ১৯৭২ সালের শ্যাম-রাধার স্মৃতি বুকে আঁকড়ে ধরে মেদিনীপুর শহরবাসী নস্টালজিক (স্মৃতি রোমন্থন করবেন) হবেন, আরো বহু বছর!

thebengalpost.in
জগন্নাথ মন্দিরে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় :

.
.

১৯৭২ সালে “বসন্ত বিলাপ” সিনেমার স্যুটিংয়ে অবিভক্ত মেদিনীপুরের (বর্তমান, পশ্চিম মেদিনীপুর) মেদিনীপুর শহরে। স্যুটিং এর জন্যই ঘুরে বেড়িয়েছেন, শহরের জগন্নাথ মন্দির থেকে হবিবপুর কিংবা মেদিনীপুর স্টেশনে। “বসন্ত বিলাপ” এর শ্যামসুন্দর বোস (ছেলেদের দলের নেতা), সংক্ষেপে ‘শ্যাম’ সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এবং অনুরাধা সিংহ (মেয়েদের দলের নেতা), সংক্ষেপে ‘রাধা’ অপর্ণা সেন’কে নিয়ে তাই মেদিনীপুরের আবেগ অতলান্ত। সেই রাধা’কে (অপর্ণা সেন কে) ছেড়ে বিদায় নিয়েছেন শ্যাম (সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়)! শোকোস্তব্ধ অপর্ণা সেন। মন ভারাক্রান্ত মেদিনীপুরেরও।

thebengalpost.in
মেদিনীপুর স্টেশনে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় :

.

মেদিনীপুর ফিল্ম সোসাইটির অন্যতম আধিকারিক সিদ্ধার্থ সাঁতরা জানান, “উনি শুধু একজন অভিনেতা নন, কবি, সাহিত্যিক, উনি শুধু বাংলা বা বাঙালির গর্ব নন, গোটা বিশ্বজুড়ে তাঁর কর্মকান্ডের প্রশংসা বর্তমান। আর মেদিনীপুরের সঙ্গে ওনার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। ১৯৭২ সালের বসন্ত বিলাপ সিনেমার স্যুটিং এর জন্য অপর্ণা সেন, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় মেদিনীপুরে এসেছিলেন। আমরা তখন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ি, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় মেদিনীপুরে এসেছেন শুনে আপ্লুত হয়ে পড়েছিলাম। ওনাকে দেখার আশায়, স্টেশনের আশেপাশে চষে বেড়িয়েছি দিনের পর দিন।”

thebengalpost.in
মেদিনীপুর স্টেশন :

thebengalpost.in
বিজ্ঞাপন :

তবে, ১৯৭২ এর পরেও একাধিকবার মেদিনীপুরে এসেছেন সৌমিত্র বাবু। বামপন্থী ভাবধারার এই মানুষটি তৎকালীন বাম জমানায়, একাধিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিভিন্ন উদ্বোধন, প্রচার প্রভৃতি‌ উপলক্ষে, আমন্ত্রিত অতিথি রূপে উপস্থিত হয়েছিলেন। সেই স্মৃতি রোমন্থন করে শিক্ষক ও‌ সমাজ গবেষক অতনু মিত্র (মেদিনীপুরের বাম সাংসদ প্রবোধ পাণ্ডার ব্যক্তিগত সচিবও ছিলেন একসময়) জানিয়েছেন, “একাধিকবার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এসেছেন সৌমিত্র বাবু। যতদূর মনে করতে পারছি, ১৯৯৭ সালের ৪ ঠা আগস্ট মেদিনীপুরের প্রথম শ্রেণীর একটি দৈনিকের বার্ষিক অনুষ্ঠানেও এসেছিলেন। সেবারই অবিভক্ত মেদিনীপুরের জেলা পরিষদে, তাঁর সাথে বেশ খানিকক্ষণ সময় কাটানোর সৌভাগ্য হয়েছিল।”

thebengalpost.in
২০১৯ এ মেদিনীপুর প্রদ্যোৎ স্মৃতি সদনে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় :

সর্বশেষ, মেদিনীপুর শহরে এসেছিলেন ২০১৯ এর মার্চ (৩০ মার্চ) মাসে। তাঁর রচিত এবং তাঁর কন্যা পৌলমী বসু (চট্টোপাধ্যায়) এর নির্দেশনায় “ফেরা” নাটকে অভিনয় করেছিলেন, মেদিনীপুর শহরের প্রদ্যোৎ স্মৃতি সদনে। সঙ্গে ছিলেন, আর এক প্রখ্যাত অভিনেতা দেবশঙ্কর হালদার। অশীতিপর কিংবদন্তি’র, বছর খানেক আগের সেই ‘পদার্পণ’ ই এখন মেদিনীপুর বাসীর স্মৃতির ‘কস্তুরী’।

thebengalpost.in
মেদিনীপুরের হবিবপুরে সেই বাড়ি :

আরো কিছু ছবি :

thebengalpost.in
মেদিনীপুর প্রদ্যোৎ স্মৃতি সদনে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় :

thebengalpost.in
মেদিনীপুর শহরের প্রদ্যোৎ স্মৃতি সদনে :

thebengalpost.in
মেদিনীপুর শহরের প্রদ্যোৎ স্মৃতি সদনে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় :

thebengalpost.in
“ফেরা” র টিকিট :

.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে