মণিরাজ ঘোষ, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৩ সেপ্টেম্বর : পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার একমাত্র লেভেল ফোর করোনা হাসপাতাল শালবনী সুপার স্পেশালিটি’র পরিষেবা ও পরিকাঠামো নিয়ে সম্প্রতি বেশ কিছু প্রশ্ন উঠেছিল। যদিও, প্রথম থেকেই জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তরের বক্তব্য ছিল, শালবনীতে পরিকাঠামোগত সমস্যা নেই। তবে, পরিষেবা’র বিষয়ে যদি কিছু সমস্যা থাকে, দ্রুত তা নির্ধারণ করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিভিন্ন মহলে এবং সমাজ মাধ্যমে শালবনী হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে সমালোচনা এমন একটা জায়গায় পৌঁছেছিল, রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছিল। প্রথমে, হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট (সুপার) পরিবর্তন করা হয়েছিল, তারপরই জেলাশাসক ও জেলার স্বাস্থ্য কর্তাদের তত্ত্বাবধানে পরিকাঠামো ও পরিষেবা ত্রুটিমুক্ত করতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যেই, গত ১৯ সেপ্টেম্বর (শনিবার), রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশে কলকাতার এম আর বাঙুর হাসপাতালের সুপার ডাঃ শিশির নস্করের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দল, শালবনী করোনা হাসপাতাল পরিদর্শন করে গেছেন। ডাঃ নস্করের নেতৃত্বে একটি বৈঠকও হয়েছিল শালবনীতে। জেলার উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গী, হাসপাতালের সুপার ডাঃ নবকুমার দাস এবং আয়ুশ হাসপাতালের সুপার তথা শালবনীর নবনিযুক্ত সহকারী সুপার ডাঃ নন্দন ব্যানার্জি’ সহ স্বাস্থ্য আধিকারিক ও চিকিৎসকেরা সেই বৈঠকে বিভিন্ন প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। সেই সমস্ত প্রস্তাব, রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরে পৌঁছে দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন ডাঃ নস্কর। এরপরই, মাত্র তিনদিনের মাথায় (২২ শে সেপ্টেম্বর), গতকাল শালবনী করোনা হাসপাতালে পৌঁছে গিয়েছিলেন, রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর প্রেরিত, আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের দুই অভিজ্ঞ চিকিৎসক তথা অধ্যাপক। ইতিমধ্যে, গত ২০ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে সফলভাবে প্রথম ডায়ালিসিস (Dialysis) সম্পন্ন হয়েছিল এবং ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০ শয্যার একটি উন্নত এইচডিইউ (HDU) ইউনিটও চালু হয়েছে। সবমিলিয়ে, শালবনী করোনা হাসপাতালের পরিষেবা ও পরিকাঠামো সম্পূর্ণরূপে ত্রুটিমুক্ত ও আধুনিক করার বিষয়ে জেলা প্রশাসন, জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর তথা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যে বদ্ধপরিকর তা বলাই বাহুল্য!

গতকাল (মঙ্গলবার), কলকাতার আর.জি কর মেডিক্যাল কলেজের দুই অভিজ্ঞ চিকিৎসক তথা অধ্যাপক শালবনী করোনা হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মীদের সাথে পেশেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা রোগীদের পরিষেবা প্রদানের বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন এবং প্রশিক্ষণ দেন বলে জানা গেছে। পরবর্তী, সময়েও রাজ্য থেকে আরো একটি বিশেষজ্ঞ দল চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মীদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ বা সহায়তা প্রদানের জন্য আসবেন বলে জানা যায় জেলা প্রশাসন ও হাসপাতাল সূত্রে। এই বিষয়ে হাসপাতালের সুপার ডাঃ নবকুমার দাসের কাছে জানতে চাওয়া হলে, বুধবার তিনি জানিয়েছেন, “গতকাল আর.জি কর মেডিক্যাল কলেজের দুই অভিজ্ঞ চিকিৎসক তথা অধ্যাপক উপস্থিত হয়েছিলেন। তাঁরা কোভিড ১৯ আক্রান্ত রোগীদের কিভাবে আরো ভালো পরিষেবা দেওয়া যেতে পারে, সেই বিষয়ে আমাদের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সাথে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন। ইতিমধ্যে, হাসপাতালের পরিকাঠামো ও পরিষেবা ত্রুটিমুক্ত করার বিষয়ে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের নেতৃত্বে আমরাও আন্তরিকভাবে সচেষ্ট। দুটি ডায়ালিসিস সফলভাবে করতে পেরেছি আমরা। উন্নত পরিষেবা যুক্ত এইচডিইউ ইউনিট চালু করা হয়েছে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা ত্রুটিমুক্ত পরিষেবা প্রদানে বদ্ধপরিকর।” প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত ২০ সেপ্টেম্বর সাপে কামড়ানো এবং কোভিড আক্রান্ত লালগড়ের যে রোগিনীর (৩৫) ডায়ালিসিস সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছিল, গতকাল (২২ সেপ্টেম্বর) পুনরায় তাঁর দ্বিতীয় ডায়ালিসিসও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের সুপার ডাঃ নবকুমার দাস।
***আরো পড়ুন: মেদিনীপুর ও খড়্গপুরে ফের করোনা’র অর্ধশতক, জেলায় ১৭৭….





