ঘরে ফিরে “বাহন” ভুলেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের পরিযায়ীরা! দ্বিতীয় লকডাউন মনে করাচ্ছে প্রথম লকডাউনের “স্মৃতি”

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৯ মে: ফের লকডাউন! উসকে দিচ্ছে ২০২০’র লকডাউনের নানা স্মৃতি। গত বছর লকডাউনে ভিন রাজ্য বা জেলা ফেরত পরিযায়ী শ্রমিকদের কষ্টের স্মৃতি এখনও জ্বলজ্বল করছে! জীবিকা হারিয়ে নতুন জীবনের তাগিদে কোনোমতে বাড়ি ফিরেছিলেন তাঁরা। কর্মহীন শ্রমিকদের পকেটে ছিলোনা টাকা, ছিলোনা খাবারের সংস্থান! তাই ট্রেনের উপর ভরসা না করে, নিরুপায় শ্রমিকরা সাইকেলে, বাইকে, পায়ে হেঁটেই বাড়ি ফিরেছিলেন। সেই ভয়ঙ্কর স্মৃতি আজও ভাসছে চোখের সামনে। পশ্চিম মেদিনীপুরের হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিক ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, তামিলনাড়ু সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে ৬০ নম্বর জাতীয় সড়ক দিয়ে ওড়িশা পেরিয়ে বাংলায় পৌঁছেছিলেন। পুলিশ, প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্যোগে চেকিং পয়েন্ট করা হয়েছিল বাংলা-ওড়িশা সীমান্তে দাঁতনের সোনাকোনিয়ায়। সেখানে ভিন রাজ্য থেকে ফেরা মানুষজনের করোনা পরীক্ষা করা থেকে শুরু করে ক্যাম্পে থাকার ব্যবস্থা করা, দূরের জেলা মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, বর্ধমান বা অন্যান্য জেলার শ্রমিকদের সরকারি গাড়িতে করে নিজের জেলায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিল প্রশাসন। আর, তাতে কয়েকশো কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে আসা ক্লান্ত পরিযায়ী শ্রমিকদের অনেকেই দ্রুত বাড়ি ফেরার তাগিদে নিজেদের সাইকেল, মোটর সাইকেলর মায়া কাটিয়ে, সরকারি গাড়িতে করেই বাড়ি ফিরে যান। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর কেউ কেউ এসে মোটর বাইক গুলি নিয়ে গেলেও, অধিকাংশ পরিযায়ী শ্রমিক সাইকেল নিতে আসেন নি! পরিযায়ী শ্রমিকদের ছেড়ে যাওয়া সেই সাইকেলগুলি এখনও গোচ্ছিত করে রেখেছে দাঁতন থানার পুলিশ। হাত দেয়নি স্থানীয় মানুষজনও!

thebengalpost.in
পড়ে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকদের সাইকেলগুলি :

মোবাইলে খবর পেতে জয়েন করুন
Whatsapp Group এ

প্রথম ঢেউয়ের লকডাউনের সময় বাড়িফেরা পরিযায়ী শ্রমিকদের সাইকেল আজও পড়ে রয়েছে বাংলা-ওড়িশা সীমান্তের দাঁতনে। দাঁতনের কঙ্কপুরে ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে “গৌরী ফিলিং স্টেশন” পেট্রল পাম্পের পিছনে এভাবেই পড়ে রয়েছে পরিযায়ী শ্রমিকদের রেখে যাওয়া প্রায় হাজার খানেক সাইকেল। সরকারি ব্যবস্থাপনায় করোনা পরীক্ষা করিয়ে; সাইকেল রেখেই বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন সরকারি ব্যবস্থাপনায়। পড়ে ছিল সাইকেল, বাইকগুলি! অনেকে পরে এসে, পুলিশের কাছ থেকে মোট বাইকগুলি ফেরত নিয়ে গেলেও, কেউই আসেননি সাইকেল ফেরত নিতে! বিগত এক বছর ধরে সেই সাইকেলগুলি একই অবস্থায় পড়ে রয়েছে রোদ, জল‌ সহ করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সহ্য করেও। সাইকেল গুলি যে পরিযায়ী শ্রমিকদের ছেড়ে যাওয়া সেকথা স্বীকার করছেন পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরাও। দাঁতনের বাসিন্দা কার্তিক প্রধান বলেন, “এখানে একবছর ধরে হাজার খানেক সাইকেল পড়ে থাকলেও কেউ হাত দেয়নি। সে আতঙ্কে হোক বা মানবিকতার খাতিরে! সবাই জানেন এগুলি পরিযায়ী শ্রমিকদের ছেরে যাওয়া সাইকেল। রেখে গেছে পুলিশ। তাই অবহেলায় হলেও নিরাপদে আছে সাইকেল গুলি।” আর, সংক্রমণের এই দ্বিতীয় ঢেউয়ের লকডাউন ফের একবার স্মরণ করিয়ে দিল পরিযায়ী শ্রমিকদের সেই ভয়ঙ্কর স্মৃতি!

আরও পড়ুন -   কালীপুজোর আগেই সুখবর! সংক্রমণ কমল পশ্চিম মেদিনীপুরে, গত দু'দিনে সংক্রমিত মাত্র ১৮১ জন, মেদিনীপুরে ৩১, খড়্গপুরে ২৬