“আমরা বলছি চোর ধরো জেলে ভরো, ওরা বলছে চোর ধরো দলে ভরো”, পশ্চিম মেদিনীপুরে তৃণমূল-বিজেপিকে তুলোধোনা সেলিমের

বিজ্ঞাপন

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৪ ডিসেম্বর : ২৬ দফা দাবিতে খড়্গপুর পৌরসভা অভিযান করল বাম কংগ্রেস। ভিড়ে অবরুদ্ধ হল খড়্গপুর। শহরের তিন প্রান্ত থেকে ত্রিধারা মিছিলে ঘেরা হল পৌরসভা। বুধবার, জনারন্যের মাঝে, তৃণমূল ও বিজেপিকে তুলোধনা করে সমালোচনার ঝড় বইয়ে বক্তব্য রাখলেন সিপিআইএম পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম সহ বাম কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ। মহম্মদ সেলিম বলেন, “নির্বাচনের আগে, খোল পাল্টানোয় ব্যস্ত তৃণমূল ও বিজেপির নেতারা। কিন্তু, খোলের মধ্য সেই একই মাল (তুলো)। সারদা নারদা চিটফান্ড লুঠের চোর জুয়োচ্চোর চিটিংবাজদের নাম ধরে ধরে যে বিজেপি ভাগ ভাগ হাঁক ছিলো, আজ সেই বিজেপি তাদের আয় আয় বলে ডাক দিচ্ছে। আমরা বলছি চোর ধরো জেলে ভরো। আর চোররা চোরকে ধরে দলে ভরছে। এখানে চোর তাড়াতে হলে জনগনের ঐক্য গড়ে তুলে আন্দোলনের ময়দান বাড়াতে হবে। আর সেই কাজ শুরু হয়েছে বামফ্রন্ট, কংগ্রেস সহ ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিগুলোর নেতৃত্বে।”

thebengalpost.in
খড়্গপুর পৌরসভার সামনে :

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

খড়ৃগপুর পৌরসভার সামনে মঞ্চে থেকে সেলিম বলেন, “এখন নাকি দুয়ারে সরকার। আরে দুয়ারে সরকার মানেতো বাম জমানার পঞ্চায়েত পৌরসভা। তারপর চালু হয়েছিলো গ্রাম সংসদ, ওয়ার্ড কমিটি। উন্নয়নের কর্মসূচি সহ ধারক বাহক এলাকার জনগনই সামিল হয়েছিলো বাম জমানায়। আর সরকারে এসে মমতা ব্যানার্জি পঞ্চায়েত পৌরসভা পরিকাঠামোকে লাঠে তুলে কাটমানি, দুর্নীতির আখড়ায় পরিনত করলো। আর ক্ষমতার পাঁচ ছয় বছরের মধ্যে পঞ্চায়েতরাজ মানে লোকাল সরকারকে খোঁয়াড়ে পাঁঠিয়ে লুঠ চালালো। এখন পৌরসভায় প্রশাসক বসিয়ে ব-কলমে লুঠ চালাছে তৃণমূল। এখন খোঁয়াড় থেকে হাঁপ ছেড়ে বাঁচতে দুয়ারে সরকার একেবারে যমের দুয়ারে হাজির। হাতে স্বাস্থ্যসাথীর ভাঁওতা। ঠিক মোদীর জেরক্স কপি, জিরো ব্যালেন্সের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ড! ১৪-১৫ লাখ করে এ্যাকাউন্ডে জমা পড়বে সবার, কালো টাকা উদ্ধার করে। উল্টে ব্যাঙ্ক ফাঁকা করে লুঠের টাকা নিয়ে দেশ ছেড়ে পালালো চৌকিদারের আপনজনেরা। স্বাস্থ্যসাথীও সেই রকম একটা ভাঁওতা।” শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি সহ রাজ্য সরকারের কাটমানি, ভাওতাবাজির বিরুদ্ধে ধর্মনিরপেক্ষ ঐক্য গড়ে তুলতে নির্দেশ দেন মহম্মদ সেলিম।

thebengalpost.in
খড়্গপুর পৌরসভার সামনে বাম কংগ্রেসের বিক্ষোভ সমাবেশ:

বিজ্ঞাপন

খড়্গপুর পৌরসভা সম্পর্কে বলেন, “গত পৌরসভা নির্বাচনে ৩৫ টি মধ্যে মাত্র ১১ টি আসন জিতে তখনকার পুলিশ সুপার ভারতী ঘোষ সহ দুষ্কৃতি মাফিয়া একযোগে বন্দুক ঠেকিয়ে মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে খড়্গপুর পৌরসভা দখল করেছিল। এখন প্রসাশক বসিয়ে লুঠ চলছে। মমতা বলেছিলেন, জলকর না দিয়ে পরিস্রুত পানীয় জল দেবে তার সরকার। উল্টে, বাম জমানার বরাদ্দ ৭৬ কোটি টাকার জলপ্রকল্পর কাজে এরা নিম্ন মানের পাইপ মাটির মধ্যে পেতে দিয়ে কাটমানি খাওয়া-খায়িতে মারপিট করছে। আর জনগনের কাছ থেকে ব-কলমে জল কর নিয়ে এখন নোংরা, কালো জল সরবরাহ করছে জনগনের জন্য।” সেই নোংরা জল বোতলে নিয়ে এসে মানুষ বিক্ষোভে সামিল হন। সেলিম সেই জলের বোতল সভা মঞ্চ থেকে তুলে ধরে বলেন, “এই জল লোকে খাওয়াতো দূরের কথা নিত্য কাজেও ব্যাবহার করতে মানুষ ভয় পায়।” উল্লেখ্য যে, খড়্গপুর শহরের তিন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ মিছিল করে এসে এই অভিযানে সামিল হন। পৌরসভার গেটের সামনে হয় বিক্ষোভ সমাবেশ। এই সমাবেশে বামদল ও কংগ্রেসের পক্ষথেকে অমল দাস, অনিত মন্ডল, বিপ্লব ভট্ট, বিষ্ণুবাহাদূর কামী এবং সন্তোষ রানা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সভা পরিচালনা করেন সবুজ ঘোড়ই, প্রবীর গুপ্ত ও অমল দাস কে নিয়ে গঠিত সভাপতি মন্ডলী।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে