দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৫ মে: করোনা মহামারীর প্রথম দিন থেকেই লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন তাঁরা। নিজেদের উদ্যোগেই গড়ে তুলেছিলেন টাস্ক ফোর্স। একবছর ধরে বুক চিতিয়ে লড়াই করার পর, এখন আর আলাদা করে পরিচয় করিয়ে দিতে হয়না! ক্ষীরপাই বাসীর মুখে মুখে একটাই কথা- অতিমারী যুদ্ধে মুশকিল আসান “ক্ষীরপাই মিউনিসিপ্যাল টাস্ক ফোর্স” (KMTF)। সেই যোদ্ধাদের এবার ডাক পড়ল বন্যাপ্রবণ ঘাটালের ক্ষীরপাই সংলগ্ন এলাকা গুলোতে প্রশাসনের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে বিপর্যয় মোকাবিলায় অংশগ্রহণ করার জন্য। ক্ষীরপাই পুলিশ প্রশাসনের সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে এবার যশ-যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে প্রস্তুত KMTF এর যোদ্ধারা।


Whatsapp Group এ


প্রসঙ্গত, অতিমারীর প্রথম ঢেউয়ের সময়ই এলাকার সাহসী ও সহৃদয় যুবকেরা করোনা যুদ্ধে সামিল হওয়ার জন্য তৈরি করেছিলেন এই সংগঠন। ১৫ জন যুবকের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন অভিজ্ঞ বাপি পাহাড়ী, তনুপ ঘোষ, প্রতাপ বিশ্বাসরা। ক্ষীরপাই পৌরসভার পক্ষ থেকে তাদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় থেকেই করোনা আক্রান্তের বাড়িতে ওষুধ, খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া দিয়ে যে কাজ শুরু হয়েছিল, দ্বিতীয় ঢেউয়ের মারাত্মক দংশনে কাতর ক্ষীরপাইবাসীর বাড়িতে বাড়িতে অক্সিজেন-ওষুধ পৌঁছে দেওয়া কিংবা হাসপাতালে ভর্তি করার মধ্য দিয়ে সেই লড়াই এখনও চলছে! শুধু তাই নয়, করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তির সৎকারেও এগিয়ে আসছেন তাঁরা। আর, এবার সুপার সাইক্লোন “যশ” মোকাবিলায় ঘাটাল বাসীর পাশে থাকতেও বদ্ধপরিকর এই যোদ্ধারা। ইতিমধ্যে, বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর সহ ৯ টি জেলাতে। স্বাভাবিকভাবেই বন্যাপ্রবণ ঘাটালের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হতে পারে! তাই, দফায় দফায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছেন পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিকরা। মঙ্গলবার দুপুরে চন্দ্রকোনা থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক (আইসি) রবি স্বর্ণকারের উপস্থিতিতে এবং ক্ষীরপাই পুলিশ পোস্টের ইনচার্জ প্রশান্ত কীর্তনীয়ার আহ্বানে সাড়া দিয়ে “যশ” সংক্রান্ত এরকমই একটি বৈঠকে অংশগ্রহণ করে, ক্ষীরপাই মিউনিসিপ্যাল টাস্ক ফোর্সের সৈনিকরা জানিয়ে দিলেন, “এই লড়াইতেও ঝাঁপিয়ে পড়তে তাঁরা প্রস্তুত!”










