জল্পনা উড়িয়ে জেলা পরিষদে শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ কর্মাধ্যক্ষ অমূল্য মাইতি, স্মৃতির পাতা উজাড় করে ‘দিদি’ আর ‘দাদা’ দু’জনকেই জানালেন শ্রদ্ধা

বিজ্ঞাপন
    দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১০ ডিসেম্বর: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মেদিনীপুর থেকে বিদায় নেওয়ার পরই জল্পনা তৈরি হয়েছিল, শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ জেলার খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ অমূল্য মাইতি’কে কেন্দ্র করে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সহ শাসকদলের অন্দরমহলে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছিল, মুখ্যমন্ত্রী নাকি ফিরে যাওয়ার আগে, জেলার নেতাদের নির্দেশ দিয়ে গিয়েছেন খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ অমূল্য মাইতি’কে পদ থেকে অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু করার বিষয়ে! যদিও, তা নিয়ে জেলা সভাপতি থেকে শুরু করে কেউই ক্যামেরার সামনে মুখ খোলেননি! মঙ্গলবার (৮ ডিসেম্বর) মুখ্যমন্ত্রী বিদায় নেওয়ার পর, বুধবার (৯ ডিসেম্বর) সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে, যথাসময়ে জেলা পরিষদে এলেন অমূল্য বাবু। শুধু তাই নয়, পূর্ব নির্ধারিত অর্থ স্থায়ী সমিতির বৈঠকে যোগও দিলেন। কিন্তু, তাঁর আসা বা বৈঠকে যোগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে, স্বভাবতই সংবাদমাধ্যমের উৎসাহ ছিল! বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরও দিলেন একেবারে স্পষ্টভাবে। তিনি বললেন, “দিদির এরকম কোনও নির্দেশ সম্পর্কে আমাকে কেউই কিছু বলেননি! সংবাদমাধ্যমে যেটুকু পড়েছি। তবে, আমি বিশ্বাস করিনি, কারণ, দিদি কখনোই এরকম কোনও নির্দেশ দিতে পারেন না; যেহেতু আমি কোনও দলবিরোধী কাজ করিনি। তবে, খারাপ লেগেছিল, এই কারণে, প্রথম দিন থেকে দলের সঙ্গে, দিদির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করে গেলেও, সবংয়ের এক কাগুজে বাঘের প্ররোচনায় আমাকে দিদির সভার কোনও পাস দেওয়া হলনা! অগ্যতা, বাড়িতে বসেই টিভিতে দিদির বক্তৃতা শুনলাম।”
    thebengalpost.in
    বুধবার জেলা পরিষদে খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ অমূল্য মাইতি :

    বিজ্ঞাপন
    বিজ্ঞাপন

    এদিন, উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে, বরাবরের মতোই তিনি নাম না করে আক্রমণ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ তথা সবংয়ের প্রাক্তন বিধায়ক (বর্তমান বিধায়ক তাঁর স্ত্রী গীতা ভূঁইয়া) মানস ভূঁইয়া’কে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সবংয়ের দুই ভূমিপুত্রের মধ্যে ‘রাজনৈতিক শত্রুতা’ সর্বজনবিদিত। একই দলে থাকলেও, দু’জনের সম্পর্ক সাপে-নেউলে! অমূল্য বাবু অবশ্য স্মরণ করিয়ে দিতে চান, “যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়’কে কেউ চিনতইনা, সেইসময় থেকে ছাত্র নেত্রী মমতা’র সঙ্গে আমার সম্পর্ক। সেই ৮০ (১৯৮০) সালের ঘটনা! আমার বাড়িতে এসেছেন। খাওয়া দাওয়া করে গেছেন। যখনই তাঁকে ডেকেছি, এসেছেন। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরও তাঁর সান্নিধ্য বা সাহায্য থেকে বঞ্চিত হইনি। সবংয়ের জন্য যা চেয়েছি, তাই পেয়েছি।” এসব কথা বলতে বলতে স্মৃতিবেদনাতুর (নস্টালজিক) হয়ে পড়েন, তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ষীয়ান এই নেতা। তিনি বলেন, “দিদির কাছে হয়তো অনেক বকুনি খেয়েছি, তারপরই কাছে ডেকে নিয়েছেন। জল, বিদ্যুৎ, ঘর-বাড়ি, রাস্তা-ঘাট সবংবাসীর জন্য সবকিছুই আদায় করে এনেছি। শুধুমাত্র, একজন কুচক্রী, আপাদমস্তক দুর্নীতিগ্রস্ত লোকের জন্য তাঁর সাথে আমার সম্পর্ক খারাপ হয়েছে। ইদানিং তিনি পশ্চিম মেদিনীপুর সম্পর্কে দলকে বা দিদিকে যা বোঝাচ্ছেন দল তাই বুঝছে! কষ্ট শুধু এখানেই।” তবে তিনি বলেন, “এখনও দল তাড়িয়ে দেয়নি, আমিও দল ছাড়িনি। দলেই আছি, মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আমার উদ্যোগে সিধু কানু, বীরসা মুন্ডা, বিবেকানন্দ ও ভগিনী নিবেদিতা এই চারটি পূর্ণাবয়ব মূর্তি সবংয়ে প্রতিষ্ঠিত হবে, বিভিন্ন সংস্থাকে সহায়তা করেছি, করোনা অতিমারীতে সাধারণ মানুষের পাশে থেকেছি।” অপরদিকে, পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে উন্নয়ন খাতে যে ৪০ কোটি টাকা দেওয়া হল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাকে, সেখান থেকেও নানা উন্নয়নমূলক কাজকর্ম করার ইচ্ছে প্রকাশ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই অর্থ বরাদ্দ করেছেন জেলার জন্য। জেলা পরিষদের মাধ্যমে সারা জেলা জুড়ে উন্নয়নমূলক কাজ হবে। বুধবার বিকেলে এই বিষয়েই জেলা পরিষদে অর্থ স্থায়ী সমিতির একটি বৈঠক হয়। এই বৈঠকে, জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ রমাপ্রসাদ গিরি ছাড়া সকলেই উপস্থিত ছিলেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শুভেন্দু অধিকারী’র সঙ্গে প্রতিটি মঞ্চে উপস্থিত থাকায় এবং অত্যধিক ঘনিষ্ঠতার কারণে দল তাঁর প্রতি অসন্তুষ্ট! অন্যদিকে, অমূল্য মাইতি বৈঠকে উপস্থিত থাকলেও, ‘দিদি’র প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেও, তিনি যে শুভেন্দু অধিকারী’র একজন ‘শুভানুধ্যায়ী’ তা জানাতেও ভোলেননি! স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, সবংয়ের জন্য তাঁর (শুভেন্দু’র) এবং অধিকারী পরিবারের অবদানের কথাও। এমনকি, মন্ত্রিত্ব ছাড়ার আগেও, সবংয়ের বিভিন্ন পুকুর ও সেতু সংস্কারের কাজগুলি তিনি অনুমোদন দিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছেন অমূল্য বাবু। সেক্ষেত্রে, তাঁর ভবিষ্যত সিদ্ধান্তও যে অনেকাংশেই শুভেন্দু-নির্ভর হতে চলেছে তা বলাই বাহুল্য!

    বিজ্ঞাপন
    বিজ্ঞাপন

    জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে