উৎসবে মজে বাঙালি, দৈনিক সংক্রমণ প্রায় ৬০০০! “সিঁদুরে মেঘ” দেখছেন বিশেষজ্ঞরা

দ্য বেঙ্গল পোস্ট বিশেষ প্রতিবেদন, সমীরণ ঘোষ, ১৪ এপ্রিল: বাঙালির এখন সত্যিই উৎসবের মরসুম! একদিকে ভোট উৎসব আর অন্যদিকে চড়ক-গাজন-নববর্ষ। স্বাভাবিকভাবেই, উৎসব প্রিয় বাঙালি ভিড় জমাচ্ছে দুই বাজারেই— ভোট বাজারে (সভা-সমাবেশে) আর কেনাকাটার বাজারে। তবে, হুঁশ নেই গোপন-শত্রু “গোকুলে বাড়িছে”! এদিকে, যুগ যুগ ধরেই বাঙালি সোজাসাপ্টা— কথায়-বার্তায়, চলনে-বলনে। কাজেই “মুখোশ” এর সে ধার-ধারেনা; নেহাতই প্রয়োজন না পড়লে। সুতরাং, “মাস্ক” নামক বস্তুটা তার বড় অপছন্দ! বাধ্য হয়েই নভেম্বর-ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যবহার করতে হয়েছিল। ইংরেজি নতুন বছরের আগেই তা ঝেড়ে ফেলেছিল ‘স্মৃতি টুকু’ আগলে রেখে। এদিকে, ফেব্রুয়ারি-মার্চ থেকে ফের বাড়তে শুরু করেছে করোনা দৈত্য! গোটা বিশ্ব নভেম্বর-ডিসেম্বর থেকেই বলে আসছে সেকেন্ড ওয়েভ (Second Wave) বা দ্বিতীয় ঢেউ আসছে। মহারাষ্ট্রের দৌলতে ভারতবাসী তা টের পেল ফেব্রুয়ারি’তে। আর, বাঙালিরা এপ্রিলে। এদিকে, ততদিনে এসে গেছে গণতন্ত্রের সবথেকে বড় উৎসব- নির্বাচন বা ভোট। আর অন্যদিকে, চৈত্র সংক্রান্তি আর নববর্ষ উৎসব। সত্যিই তো বাঙালির কিছু করার নেই। হুজুগে বাঙালির কাছে এমনিতেই ক্রিকেট-সিনেমা আর রাজনীতিই ধ্যান-জ্ঞান! সুতরাং, মেতে গেল সে। খেয়ালই নেই, দৈনিক সংক্রমণ ১০০০, ২০০০, ৩০০০, ৪০০০ থেকে একলাফে আজ (নববর্ষের আগের দিন) ৬০০০ (সঠিকভাবে বললে- ৫৮৯২) এ পৌঁছে গেছে! এখনও বাঁচোয়া, মৃত্যুর হার বাড়েনি। তবে, চিকিৎসক তথা বিশেষজ্ঞরা “সিঁদুরে মেঘ” দেখছেন। তাঁরা বলছেন, সেকেন্ড ওয়েভের এই তো সবে শুরু ‘মৃত্যুর হার” অবশ্যই বাড়বে! তাঁদের কথা মানতেই হবে, কারণ এই বিশেষজ্ঞরাই ফেব্রুয়ারি মাসে সাবধান করে বলেছিলেন, “এপ্রিল-মে’তে সংক্রমণ শিখরে পৌঁছবে। পশ্চিমবঙ্গে দৈনিক সংক্রমণ হবে ৭০০০-৮০০০!” আজ বাংলা নববর্ষের ঠিক আগের দিন, বাঙালি উপলব্ধি করতে শুরু করেছে, “বিশেষজ্ঞরা ঠিক বলেছিলেন।”

thebengalpost.in
কেনাকাটার বাজার, মাস্ক নেই অধিকাংশের মুখে (ছবি : সংগৃহীত) :

মোবাইলে খবর পেতে জয়েন করুন
Whatsapp Group এ

বুধবার সন্ধ্যা’র করোনা বুলেটিন অনুযায়ী, গত চব্বিশ ঘণ্টায় রাজ্যে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ৫৮৯২ জন! মঙ্গলবারের রিপোর্ট অনুযায়ী, সংক্রমিত হয়েছিলেন ৪৮১৭ জন। ২৪ ঘন্টায় চিত্রটা এক্কেবারে বদলে গেল। গত চব্বিশ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ২৪ জনের। তার আগের দিন হয়েছিল ২০ জনের। কলকাতা ও উত্তর চব্বিশ পরগণার পরিস্থিতি ক্রমেই দিল্লি, মুম্বাই, রায়পুর, লক্ষ্ণৌ এর মতো হতে চলেছে! আজ সংক্রমিত ও মৃত্যু যথাক্রমে- ১৬০১ ও ৭ এবং ১২৭৭ ও ৭। বাকি প্রত্যেকটি জেলার অবস্থাই ধীরে ধীরে ‘ভয়াবহ’ হয়ে উঠছে! আজ সন্ধ্যায় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক’কে এ নিয়ে ফোনে জিজ্ঞেস করা হলে, তিনি জানালেন, “আগামী ১৫ দিন আমাদের সকলের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। সচেতন না হলে মৃত্যুর হার বাড়বে! একমাত্র সমাধান, ভ্যাকসিন। ষাটোর্ধ্ব ও ৪৫ উর্ধ্ব রা ভ্যাকসিন নিচ্ছেন, ধীরে ধীরে সেই হার বাড়ছে, তা সত্ত্বেও বলব, এখনও সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভ্যাকসিনেশন বা টিকাকরণ বাকি আছে। তাই, সতর্ক থাকতে হবে। আর, জমায়েত বন্ধ করতে হবে। কিন্তু, ভোট বড় বালাই! এটা নিয়ে প্রশাসন নিশ্চয়ই ভাবছে।” অন্যদিকে, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের অভিজ্ঞ চিকিৎসক তথা ফুসফুস বিশেষজ্ঞ ডাঃ প্রবোধ পঞ্চ‌্যধ্যয়ী বললেন, “যেকোনো অতিমারীর ক্ষেত্রে একটা সেকেন্ড ওয়েভ আসে এবং সেটা প্রথমের থেকে ভয়ঙ্করই হয়। সংক্রমণ এবং মৃত্যুর হার দুইই বাড়বে। তখন কিন্তু হাসপাতালের বেড পাওয়া মুশকিল হবে। তাই, এখন থেকেই সতর্ক হওয়া বাঞ্ছনীয়। মৃত্যু’র হার একমাত্র কমাতে পারে দ্রুতগতিতে ভ্যাকসিনেশন। ভ্যাকসিন নেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। যতটা সম্ভব সতর্ক থেকে, মাস্ক ব্যবহার করে বাইরে বেরোনো এবং নিজেদের কাজ করা প্রয়োজন।” জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ নিমাই চন্দ্র মন্ডল আজ সকলেই জানিয়েছিলেন, “পূর্বের মতোই সতর্ক ও সচেতন হয়ে, মাস্ক, সাবান, স্যানিটাইজারের ব্যবহার করতে হবে। গরম জলের ভাপ নিলে ভালো, যেহেতু এই ভাইরাস শ্বাসের মাধ্যমে বা নাক দিয়েই ভেতরে ঢোকে। আর আশা করছি, ভ্যাকসিনের ক্রাইসিস বা আকাল দ্রুত মিটবে।” তবে, এই মুহূর্তে লাখ-টাকার প্রশ্ন হল, নববর্ষ উদযাপন তো বৃহস্পতিবারই শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু বাকি থাকা চার-দফা ভোট প্রচারের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন কি আদৌও কোনও সিদ্ধান্ত নেবে ? উত্তরের অপেক্ষায় “দশ কোটি” বাঙালি!

thebengalpost.in
মাস্ক ছাড়াই রাজনৈতিক সভায় (ছবি : সংগৃহীত) :

আরও পড়ুন -   পজিটিভ রিপোর্ট হাতে নিয়ে মহিলা ঘুরে বেড়ালেন তমলুক জেলা হাসপাতালে, শালবনীতে মৃত্যু খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালের কর্মীর