বিতর্কিত কৃষি বিলের বিরুদ্ধে গর্জন বামেদের, মেদিনীপুরে পুড়ল মোদীর কুশপুতুল, ২৫ শে বিক্ষোভ-অবরোধ

.

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৪ সেপ্টেম্বর : বিতর্কিত ‘কৃষি বিল’ নিয়ে দেশ এখন উত্তাল! ১৯৫৫ সালের কৃষি আইন এর আগেও সংস্কার (Amendment) করা হয়েছে। সম্প্রতি রাজ্যসভার ধ্বনি ভোটে ফের এই তিনটি বিল পাশ করিয়ে নেওয়া হয়েছে। ক) ফারমার্স প্রোডিউস ট্রেড অ্যান্ড কমার্স (প্রোমোশন অ্যান্ড ফেসিলিটেশন) বিল- ২০২০, খ) ফারমার্স (এমপাওয়ারমেন্ট অ্যান্ড প্রটেকশন) এগ্রিমেন্ট অব প্রাইস অ্যাসিওরান্স অ্যান্ড ফার্ম সার্ভিসেস বিল- ২০২০, গ) এসেনশিয়াল কমোডিটিজ (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল বা অত্যাবশ্যক পণ্য আইন। এই বিলগুলির মাধ্যমে কৃষি পণ্য উৎপাদন, মজুত এবং বাণিজ্য সংক্রান্ত বিষয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। অধ্যাদেশ’গুলিতে বলা হয়েছে, এর ফলে ‘এক দেশ, এক কৃষি’ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। নিয়ন্ত্রিত বাজারের বাইরে কৃষকদের ফসল বিক্রির স্বাধীনতা অর্জিত হবে। আন্তঃরাজ্য ফসল প্রেরণের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়া হবে। সর্বোপরি, নতুন ব্যবস্থায় ‘দাদন’ দিয়ে ফরমায়েশি চাষ আইনসিদ্ধ হবে। খাদ্য প্রক্রিয়াকরণকারী, পাইকারি ও খুচরো শস্য ব্যবসায়ী ও রফতানিকারীদের সঙ্গে পূর্ব নির্ধারিত মূল্যে কৃষকের চুক্তি করার স্বাধীনতা থাকবে। নতুন বিলে বদলে দেওয়া হয়েছে, অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইনও। চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, ভোজ্য তেলের মতো খাদ্যদ্রব্য ‘মজুত’ এর উপর নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়া হয়েছে (বিশেষ, পরিস্থিতি ছাড়া)। সরকারের বক্তব্য, বহুজাতিক লগ্নিকারীরা এর ফলে আকৃষ্ট হবে। কৃষকের স্বাধীনতা বৃদ্ধি পাবে। রাষ্ট্রপতি সইয়ের আগে, এই বিলগুলি এখনো আইনে পরিণত হয়নি। বিরোধীদের বক্তব্য, রাষ্ট্রপতি সই করলেই, এই ‘কালা আইন’ এর ফলে, একই সাথে সমস্ত রাজ্য এবং দেশের সমস্ত কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সমস্ত ক্ষমতা চলে যাবে, বিনিয়োগকারী বা বড় বড় লগ্নিকারীদের কাছে! ইতিমধ্যে, সারা দেশ জুড়ে এই বিলের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছে কংগ্রেস, বাম, তৃণমূল সহ বিভিন্ন দল। এদিকে, দেশজুড়ে প্রায় ২০০ টি কৃষক ক্ষেতমজুর সংগঠন ও সংস্থা নিয়ে গঠিত ‘সারা ভারত কৃষক সংঘর্ষ সমন্বয় কমিটি’ আগামী ২৫ শে সেপ্টেম্বর দেশ জুড়ে এই আইনের বিরুদ্ধে রেল, জাতীয় সড়ক অবরোধ এবং বিক্ষোভ ও ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে এই আন্দোলনকে সমর্থন জানানো হয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ডেবরাতে ৬ নম্বর জাতীয় সড়ক, নারায়ণগড়ে ১৬ নম্বর জাতীয় সড়ক এবং চন্দ্রকোনা রোডে ৬০ জাতীয় সড়ক অবরোধ করা হবে। তার আগে, গতকাল (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে, মেদিনীপুর শহরের বটতলাচকে, জেলা বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ-অবরোধ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।

thebengalpost.in
বিতর্কিত কৃষি বিল নিয়ে উত্তাল সারা দেশ :

.
.

বামফ্রন্টের বক্তব্য, কেন্দ্র সরকার কৃষক আন্দোলনের দাবি সহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির মতামত উপেক্ষা করে, তিনটি কৃষি বিল গায়ের জোরে লোকসভায় পাস করিয়ে নিয়েছে। এরপর, রাজ্যসভাতেও ধ্বনি ভোটে সেই বিল পাস করিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের আরো বক্তব্য, এই বিলের মধ্য দিয়ে কৃষকদের সর্বনাশ করে, কর্পোরেটদের স্বার্থ পূরণ করা হয়েছে। কর্পোরেট ও শিল্পপতিদের হাতে ক্ষমতা তুলে দিতেই মোদী সরকার এই বিল পাস করিয়েছে। শুধু তাই নয়, এই বিলে খাদ্য নিরাপত্তা ধ্বংস করা হয়েছে। বামফ্রন্টের তাই দাবি, কৃষকের স্বার্থ বিরোধী এই বিল আইনে পরিণত করা যাবে না, করের বোঝা হাস করে পেট্রোল-ডিজেলের দাম কমাতে হবে, কৃষি ঋণ মুকুব করতে হবে, কৃষকদের ফসলের লাভজনক দাম দিতে হবে, বিদ্যুৎ বিল বাতিল করে বিদ্যুতের দাম কমাতে হবে প্রভৃতি। গতকাল জেলা বামফ্রন্টের পক্ষ এই বিলের বিরুদ্ধে তীব্র ধিক্কার জানিয়ে, বিলের প্রতিলিপি (নকল) জ্বালিয়ে দেওয়ার সাথে সাথে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। যদিও, কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই বিলে ‘ফড়েরাজ’ বন্ধ হবে। মজুতদারদের পরিবর্তে কৃষকের স্বাধীনতা অর্জিত হবে। কৃষিক্ষেত্রে বেসরকারি লগ্নি বাড়লে আখেরে কৃষকদেরই লাভ হবে। তবে, সচেতন মহলের প্রশ্ন? আদৌ কি কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে, না কি বঞ্চিত কৃষকের দল চির-বঞ্চিত থেকে যাবে!

thebengalpost.in
প্রধানমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা দাহ মেদিনীপুরে :

.
.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে