মঙ্গলে মঙ্গল মেদিনীপুরে, সংক্রমিত মাত্র ৭! ডেবরা’র পর করোনা’র দাপট ফের খড়্গপুর ও ঘাটালে, গত দু’দিনে জেলায় সংক্রমিত প্রায় ৩০০

thebengalpost.in
শালবনী করোনা হাসপাতাল :
.

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৪ অক্টোবর: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতের রিপোর্ট অনুযায়ী, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় নতুন করে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ১৪৯ জন। সোমবার সংক্রমিত হয়েছিলেন ১৪৭ জন। এদিকে, গত তিনদিন মৃত্যুহীন থাকার পর, গত চব্বিশ ঘণ্টায় পশ্চিম মেদিনীপুরে মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। জেলায় মোট মৃত্যু সংখ্যা ১৮০। মোট সংক্রমিত ১১৯৪৩। গত চব্বিশ ঘণ্টায় প্রায় ১৮০ জন সুস্থ হওয়ার পর, সুস্থতার হার আরো বেড়ে ৮৮ শতাংশ হয়েছে জেলায়। এই মুহূর্তে চিকিৎসাধীন আছেন ১২৫৪ জন, যা নিঃসন্দেহে স্বস্তিদায়ক! এর মধ্যে, করোনা হাসপাতাল ও সেফ হোম মিলিয়ে চিকিৎসাধীন মাত্র ২৫৯ জন । বাকি, ৯৯৫ জন আছেন হোম আইশোলেশনে।

thebengalpost.in
শালবনী করোনা হাসপাতাল :

.

ভরা পুজোর বাজারের মুখে, মেদিনীপুর বাসীর জন্য মঙ্গলবার নিয়ে এসেছে সুখবর। সোমবার প্রায় ৩৫ জন করোনা সংক্রমিত হওয়ার পর মঙ্গলবার মেদিনীপুরে সংক্রমিত হয়েছেন মাত্র ৭ জন। তবে, এদিনের করোনা রিপোর্ট অনুযায়ী, পরিবার সংক্রমণ দেখা দিয়েছে গ্রামীণ এলাকায়, অর্থাৎ মেদিনীপুর সদর ব্লকের গুড়গুড়িপাল থানা এলাকায়। দেউলডাঙ্গায় একই পরিবারের ২ জন, জ্যাঠান্তরে একই পরিবারের ২ জন এবং নেপুরাতে ১ জন সহ মোট ৫ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে মঙ্গলবার। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ সূত্রে কোতোয়ালী থানার অধীনে মাত্র ২ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে বলে জানা গেছে গতকালের আরটি-পিসিআর অনুযায়ী। তবে, গতকাল (১৩ অক্টোবর) করোনা কাঁপিয়ে দিয়েছে খড়্গপুরে! সোমবার রেলশহরে সংক্রমিত হয়েছিলেন মাত্র ১০ জন। এরমধ্যে আইআইটি ক্যাম্পাসে ছিলেন ২ জন এবং ইন্দা, সাঁজওয়াল, বুলবুলচটি ডিভিসি হিজলি এলাকায় ১ জন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন। রেল সূত্রে মাত্র ১ জন এবং গ্রামীণ এলাকায় ২ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছিল সোমবার। কিন্তু, মঙ্গলবার খড়্গপুরে ফের করোনা’র ঝড় উঠেছে। সংক্রমিত ৩৮ জন। রেল সূত্রে ১০ জন ছাড়াও, গোটা খড়্গপুর জুড়ে সংক্রমণ ছড়িয়েছে। তালবাগিচা, সালুয়া, হিজলি, পুরীগেট থেকে শুরু করে ওল্ড সেটেলমেন্ট, মালঞ্চ, খরিদা, সোনামুখী ঝুলি, ভগবানপুর (২), শ্রীকৃষ্ণপুর (৩ জন), গোপালনগর, পুরাতন বাজার, কৌশল্যা, ইন্দা (৪) প্রভৃতি সমস্ত এলাকাতেই সংক্রমিতের সন্ধান মিলেছে। গ্রামীণ এলাকাতেও প্রায় ৫ জনের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। সবংয়ে গত ২ দিনে ৩ জন সংক্রমিত হয়েছেন। শালবনীতে গত ২ দিনে মাত্র ২ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। এর মধ্যে গতকাল পিড়াকাটা লাগোয়া কাঁকশোলে এক কিশোরী (২০)’র করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। গোয়ালতোড়েও গত ২ দিনে ২ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। গড়বেতা এলাকায় সোমবার ৪ জন, মঙ্গলবার ৫ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার লাপুড়িয়া গ্রামের একটি পরিবারের ২ জন ছাড়াও ধাদিকা, রাধানগর প্রভৃতি গ্রামে একজন করে সংক্রমিত হয়েছে। গড়বেতা ৩ নং অর্থাৎ চন্দ্রকোনা রোডে সোমবার ৩ জন এবং মঙ্গলবার আরো ৩ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। চন্দ্রকোনা ২ নং অর্থাৎ টাউন চন্দ্রকোণা এলাকায় সোমবার ২ জন এবং মঙ্গলবার ৯ (অযোধ্যায় একই পরিবারের ২ জন সহ) জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। দাঁতন ও বাগদা এলাকা মিলিয়ে গত দু’দিনে সংক্রমিত হয়েছেন প্রায় ২০ জন। মঙ্গলবার বেলদার বিদ্যাসাগর পল্লী (গোষ্ঠী সংক্রমণের আশঙ্কা!) তে ৩ জন, শুশিন্দা, বাখরাবাদ সহ ৫ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। কেশিয়াড়িতে ৬ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। কেশপুরের আনন্দপুর এলাকা সহ গত ২ দিনে সংক্রমিত হয়েছেন ৩ জন। অপরদিকে, ঘাটাল মহকুমায় ফের করোনার দাপট দেআ দিয়েছে গত ২ দিনে। সোমবার ২৭ জনের পর, মঙ্গলবার ৩৪ জনের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। সোমবার ঘাটাল, দাসপুর ১, দাসপুর ২ ও ক্ষীরপাইতে সংক্রমিত হয়েছিলেন যথাক্রমে ৫, ৭, ১২ ও ৩ জন। মঙ্গলবার, সংক্রমিত হয়েছেন যথাক্রমে, ঘাটাল পৌরসভা ও গ্রামীণ এলাকা মিলিয়ে ১৭ জন, দাসপুর ১ নং এ ১ জন, দাসপুর ২ নং এ ৫ জন এবং ক্ষীরপাইতে ১১ জন।

thebengalpost.in
শালবনী করোনা হাসপাতাল :

.

অন্যদিকে, মঙ্গলবারের আরটি-পিসিআর অনুযায়ী ডেবরা ব্লকে নতুন করে করোনা আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া না গেলেও সোমবার ডেবরায় সংক্রমিত হয়েছিলেন, ২২ জন। এর মধ্যে বালিচক ও রাধামোহনপুর এলাকায় রীতিমতো গোষ্ঠী সংক্রমণের আভাস পাওয়া গেছে! একই পরিবারের একাধিক জন ছাড়াও, এলাকার একাধিক ব্যক্তি করোনা সংক্রমিত হয়ে চলেছেন ডেবরা ব্লকের বিভিন্ন এলাকায়। চক বাহাদুর এলাকায় এক দম্পতি (২৫, ২৩), বালিচকে একই পরিবারের দুজন (৫৩ ও ৩৮ বছরের মহিলা), রাধামোহনপুরে এক দম্পতি (৫৯ ও ৪৫), হায়াপাট এলাকায় এক বৃদ্ধ দম্পতি (৬৯ ও ৫৮) এবং সত্যপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তেঘরি এলাকায় একই পরিবারের ২ জন (৫৬ বছরের ব্যক্তি ও ১৩ বছরের কিশোর), কানুরাম গ্রামে একই পরিবারের ২ জন (৪৪ বছরের মহিলা ও ১৬ বছরের কিশোরী) ছাড়াও আবদালিপুর, শ্রীকৃষ্ণপুর, গোটগেড়িয়া, ডেবরা ও বালিচক সহ মোট ২২ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে ১২ অক্টোবর, সোমবার রাতে। পিংলা ব্লকের কলাপুঁজা গ্রামের এক দম্পতির (৩২ ও ২৫) রিপোর্টও সোমবার পজেটিভ এসেছে।

.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে