জেল সুপারের মৃত্যুতে ঝাড়গ্রামের করোনা চিকিৎসা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠল, সংক্রমিত ফের ৩২

thebengalpost.in
মৃত জেল সুপার গৌরীশঙ্কর বণিক (৫৫) :
.

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, ঝাড়গ্রাম, ৫ অক্টোবর: ঝাড়গ্রাম জেলার করোনা চিকিৎসা পরিষেবা এবং করোনা হাসপাতালের পরিকাঠামো নিয়ে ক্ষোভ ও অভিযোগ বিস্তর! শুধু সাধারণ মানুষ নয়, ক্ষুব্ধ চিকিৎসক, আধিকারিক, রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব থেকে শুরু করে জেলা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত একটা অংশও। বেহাল পরিকাঠামো এবং জেলা প্রশাসন ও জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের উদাসীনতায় করোনা রোগীদের বিপদের মুখে তথা মৃত্যু মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলে মনে করছেন, জেলার চিকিৎসক, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ থেকে সমাজকর্মী সকলেই। আগস্ট মাসে, খোদ উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (২) সুবোধ মন্ডলের করোনা চিকিৎসা এবং তারপর কলকাতায় স্থানান্তর ও মৃত্যুকে ঘিরেও জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের বিরুদ্ধে সরাসরি তোপ দেগেছিলেন, চিকিৎসক ও আধিকারিকদের একাংশ। এরপর, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে (১৯ সেপ্টেম্বর) রোগী মৃত্যু, রোগীর পরিজনদের চিকিৎসক নিগ্রহ এবং আরো নানা কারণে, জেলা হাসপাতালের চিকিৎসকেরা ধর্নায় বসেছিলেন। এরপর, সেপ্টেম্বরের ২১-২২ নাগাদ রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর প্রেরিত প্রতিনিধি দল এলেও, পরিস্থিতির যে বিশেষ পরিবর্তন হয়নি তা বলাই বাহুল্য! রোগী মৃত্যু বেড়েই চলেছে (করোনা বুলেটিনে বাড়ুক বা না বাড়ুক), চিকিৎসা পরিকাঠামো নিয়ে ক্ষোভ ও অভিযোগও বাড়ছে। গত শনিবার (৩ অক্টোবর), জেলার করোনা হাসপাতালে একইদিনে, ৩ জন রোগীর মৃত্যুর পর, রবিবার মৃত্যু হল একজন উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মীর! ঝাড়গ্রাম বিশেষ সংশোধনাগারের সুপারিনটেনডেন্ট (সুপার) গৌরীশঙ্কর বণিকের (৫৫) মৃত্যু হল করোনা আক্রান্ত হয়ে। পরিজনেরা সরাসরি, বেহাল চিকিৎসা পরিষেবা’র বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন। এমনকি, প্রায় বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু’র অভিযোগও করলেন।

thebengalpost.in
ঝাড়গ্রামের করোনা চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠল :

.

২০১৮ সালে, ঝাড়গ্রাম বিশেষ সংশোধনাগারের সুপারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, হুগলির কোন্নগরের বাসিন্দা গৌরীশঙ্কর বণিক। স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে সংশোধনাগার চত্বরের আবাসনেই থাকতেন। সপ্তাহ খানেক আগে তাঁর সামান্য জ্বর ও শ্বাসকষ্টের উপসর্গ দেখা দেওয়ায়, সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ তাঁকে ঝাড়গ্রাম জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। এরপর তাঁর করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসায়, তাঁকে জেলা হাসপাতাল সংলগ্ন করোনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু, ডায়াবেটিস এবং প্রেসারের সমস্যা থাকায়, প্রথম থেকেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দায় এড়িয়ে যেতে চায়। মৃত জেল কর্তার মেয়ে জয়িতা বণিক বলেন, “হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বারবার বাবাকে এম আর বাঙ্গুর ডিসান হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেছিলেন। কিন্তু, বাবা যেতে রাজি হননি। আমরাও ভেবেছিলাম, ঝাড়গ্রাম এত বড় হাসপাতাল, সুচিকিৎসা হবে!” জানা যায়, শনিবার পর্যন্ত গৌরীশঙ্কর বাবু সুস্থ ছিলেন এবং পরিজনদের সাথে ফোনে ভালোভাবেই কথা বলেছেন। রবিবার সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ তিনি বাড়িতে ফোন করে বলেন, শরীরটা ভালো লাগছেনা, একটু ফ্রুট জুস খেতে চান। এরপরই, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ফোন করে তাঁর বাড়িতে জানান, পরিস্থিতি ভালো নয়! জেলকর্তার স্ত্রী ও মেয়ে হাসপাতালে পৌঁছন। এক চিকিৎসক জানান, ওনার নিউমোনিয়া হয়েছে এবং ফুসফুস কাজ করছে না (দুটোই করোনা সংক্রমণের অন্যতম মারাত্মক, তবে সর্বজনবিদিত উপসর্গ)! এর কিছু পরেই তিনি মারা যান। অবশ্য, তার আগেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গৌরীশঙ্কর বাবুর পরিজনদের বলেন, “আপনারা লিখে দিয়ে যান, কর্তৃপক্ষ দায়ী নন।” মৃতের মেয়ে জয়িতা বলেন, “বাবার কি চিকিৎসা হয়েছে, সেই রিপোর্ট দেয়া হচ্ছে না। আর কোন পরিবারের সঙ্গে যেন এমন না হয়! সবার তো আর কলকাতায় নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানোর ক্ষমতা নেই।” এই ঘটনায় ফের, ঝাড়গ্রাম করোনা হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা বেআব্রু হয়ে পড়ল। প্রশ্ন উঠছে, একজন সরকারি আধিকারিকের ক্ষেত্রে যদি এরকম হয়, উপসর্গযুক্ত সাধারণ করোনা আক্রান্তদের ক্ষেত্রে কি হবে বা কি ঘটেছে!

thebengalpost.in
মৃত জেল সুপার গৌরীশঙ্কর বণিক (৫৫) :

.

এদিকে, গত চব্বিশ ঘণ্টায় (রবিবারের রাজ্য করোনা বুলেটিন অনুযায়ী), ঝাড়গ্রাম জেলায় ফের ৩২ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। ফলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে, ৯১৯। গতকাল ১ জন সহ মোট সুস্থ হয়েছেন ৬৮৪ জন। চিকিৎসাধীন আছেন ২২৬ জন। তবে, আশ্চর্যজনকভাবে মৃত্যু সংখ্যা এদিনও বাড়েনি! এখনো সংখ্যাটি “৯” (নয়)। শনিবার ও রবিবারের মৃত্যু’র পর দেখা যাক, সোমবার সন্ধ্যার রিপোর্টে এই সংখ্যা পরিবর্তন হয় কিনা।

thebengalpost.in
রাজ্যের ৪ অক্টোবরের বুলেটিন:

.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে