একদিকে বিরামহীন করোনা ঝড়, অপরদিকে ক্রমবর্ধমান মৃত্যু, মুখ্যমন্ত্রীর সফরের আগে মহাফাঁপরে ঝাড়গ্রাম

thebengalpost.in
ঝাড়গ্রামের করোনা চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠল :
.

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, ঝাড়গ্রাম, ৪ অক্টোবর : দেশ ও রাজ্যের সাথে পাল্লা দিয়ে অরণ্য সুন্দরী ঝাড়গ্রামেও করোনা ঝড় অব্যাহত আছে। গত কয়েকদিনে রাজ্যে যেমন লাগাতার ৩৩০০ ‘র বেশি (প্রতিদিন) সংক্রমিত হচ্ছেন, ঝাড়গ্রামে তেমনই ৩০ জনের বেশি করে সংক্রমিত হচ্ছেন। গত চব্বিশ ঘণ্টায় (৩ অক্টোবরের রাজ্য বুলেটিন অনুযায়ী), ঝাড়গ্রামে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৩৩ জন। ঝাড়গ্রাম জেলায় মোট সংক্রমিতের সংখ্যা (সরকারিভাবে) বেড়ে হয়েছে ৮৮৭। ৬৮৩ জন সুস্থ হয়েছেন এবং ২ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারিভাবে মৃত্যু সংখ্যা ৯। এই মুহূর্তে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, ১৯৫ জন। সুস্থতার হার ৭৭ শতাংশ। তবে, আশঙ্কার কথা হল, গত চব্বিশ ঘণ্টায় ঝাড়গ্রাম করোনা হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। এর মধ্যে, একজন ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা হলেও, বাকি ২ জন ঝাড়গ্রাম জেলারই বাসিন্দা। গতকালের (৩ অক্টোবর) করোনা বুলেটিনে এই মৃত্যু’র সংখ্যা যুক্ত না হলেও, স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা যায়, শনিবার ঝাগ্রাম করোনা হাসপাতলে মৃত্যু হয়েছে, রাইমণি বেলদার (৪৭), সহদেব বেরা (৬৫) এবং আকুল সীট (৬৫) এর।

thebengalpost.in
করোনা বুলেটিন (২ অক্টোবর) :

thebengalpost.in
করোনা বুলেটিন (৩ অক্টোবর):

.

শনিবার সকালে রাইমণি বেলদার নামে এক মহিলার মৃত্যু হয় করোনা হাসপাতালে। ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম জেলার ধলভূমগড়ের সোনাকুঁদ গ্রামের বাসিন্দা রাইমণি ঝাড়গ্রাম করোনা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন, গত ২৭ সেপ্টেম্বর। অপরদিকে, বেলিয়াবেড়া থানার কানপুর গ্রামের বাসিন্দা সহদেব বেরা করোনা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন গত ২৬ সেপ্টেম্বর এবং জামবনির চিচিড়া গ্রামের আকুল সীট গত ২৮ সেপ্টেম্বর করোনা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তিনজনেরই প্রবলভাবে উপসর্গ থাকায়, চিকিৎসকেরা তাদের বাঁচাতে পারেননি বলে জানা গেছে। এদিকে, ঝাড়গ্রাম জেলার বিভিন্ন চিকিৎসক ও চিকিৎসক সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, হাসপাতালে উপযুক্ত পরিকাঠামো নেই। নেই সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেম। সর্বোপরি উপযুক্ত সংখ্যায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও টেকনিশিয়ানও নেই। ঝাড়গ্রাম জেলা হাসপাতালে চিকিৎসকদের ধর্না ও বিক্ষোভের পর সম্প্রতি হাসপাতাল পরিদর্শন করে গেছেন স্বাস্থ্য ভবনের প্রতিনিধিদল। তাঁদের কাছেও এই বিষয়গুলি তুলে ধরা হয়েছে বলে জানা যায়।

thebengalpost.in
ঝাড়গ্রাম জেলা হাসপাতালের কার্নিশে রোগী :

.

এদিকে, গতকাল ঝাড়গ্রাম জেলা হাসপাতাল তথা সুপার স্পেশালিটি’র তিনতলায় শৌচাগারের জানালার কার্নিশে এক রোগী উঠে যায়। ঝাড়গ্রাম ব্লকের চুবকা অঞ্চলের খালশিউলি গ্রামের হাটপাড়ার যুবক টিংকর মন্ডল (৪০), ‘অ্যালকোহল উইথড্রয়াল সিনড্রোম’ নিয়ে সম্প্রতি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু, এই ধরনের রোগীদের যেহেতু মানসিক ভারসাম্য ঠিক থাকেনা (অতিরিক্ত মদ্যপানের ফলে লিভার ও সারা শরীর অকেজো হয়ে পড়ে বলে জানা যায়); তাই হাসপাতালের মেইল সার্জিক্যাল ওয়ার্ডে ভর্তি এই রোগীর প্রতি কোন স্বাস্থ্যকর্মী বা নিরাপত্তাকর্মীর ভ্রুক্ষেপ না থাকাতেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। গত জুন মাসেও একই ঘটনা ঘটেছিল এই হাসপাতালে। এ নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোন সদুত্তর দিতে পারেনি। তবে, হাসপাতাল সুপার ইন্দ্রানীল সরকার জানিয়েছেন, “ওই রোগীকে পরিজনেরা নিজেদের দায়িত্বে ডিসচার্জ করিয়ে নিয়ে গেছেন।” তবে কিছুক্ষণের জন্য কার্নিশ থেকে টিংকরের চিৎকার “ঝাঁপ দিয়ে দেবো” গোটা হাসপাতাল চত্বরে যে হুলুস্থূল ফেলে দিয়েছিল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না! আগামী ৭ অক্টোবর মুখ্যমন্ত্রীর ঝাড়গ্রাম সফরের আগে, সব মিলিয়ে ঝাড়গ্রাম জেলা প্রশাসন তথা জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর যে প্রবল চাপে, তা বলাই বাহুল্য!

.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে