করোনা তথ্য লুকানো থেকে করোনা রিপোর্ট পরিবর্তন করার চাপ দেওয়া, ঝাড়গ্রামের ডিএম ও সিএমওএইচের উপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে নজিরবিহীন ধর্নায় চিকিৎসকেরা

thebengalpost.in
ধর্নায় চিকিৎসকেরা (১৯ সেপ্টেম্বর) :
.

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, ঝাড়গ্রাম, ১৯ সেপ্টেম্বর : প্রথম দিন থেকে করোনা তথ্য লুকানোর চেষ্টা চলছে ঝাড়গ্রামে, অভিযোগ উঠেছে বারবার। সংক্রমণের সংখ্যা, মৃত্যুর সংখ্যা সবকিছুই চেপে দেওয়া হচ্ছে বিস্ময়কর ভাবে, অভিযোগ করছেন শুধু বিরোধী দলের নেতৃবৃন্দ কিংবা সচেতন ঝাড়গ্রামবাসীই নয়, শাসকদলের বিভিন্ন নেতাকর্মীরাও। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বারবার এ নিয়ে লেখা হয়েছে, তাতেও কোনো কাজ হয়নি। ঝাড়গ্রামের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক বেশিরভাগ সাংবাদিকের ফোন ধরারই প্রয়োজন মনে করেন না! আর, যদিও বা ধরেন, করোনা সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলেই, জেলাশাসকের কোর্টে বল ঠেলে দেন! আর, জেলাশাসকের কাছ থেকেও কোনো রিপোর্ট পাওয়া যায় না। একমাত্র জেলা, যেখানে করোনা সংক্রমিত হলেও, কেউ কোনো তথ্য জানতে পারেন না! ৩০ জন সংক্রমিত হলে, রাজ্যের বুলেটিনে দেখায় ১০ জন। আর, ৫০ জন হলে ২০ জন! অভিযোগ করলেন, খোদ ঝাড়গ্রাম জেলার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক। পরোক্ষে, একই অভিযোগ বারবার ধরে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন, ঝাড়গ্রামের সকল স্বাস্থ্যকর্মী থেকে স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রত্যেকেই। আশ্চর্যজনক ভাবে, ঝাড়গ্রামে করোনা সংক্রমিত হয়ে মৃত্যু সংখ্যা আজও ‘২’ জনই রয়ে গেছে। অথচ, গত একমাসে অন্ততপক্ষে ১০ জনের সরকারিভাবে মৃত্যু হয়েছে করোনায় বা মৃত্যুর পর রিপোর্ট এসেছে পজিটিভ। এই বক্তব্য, দ্য বেঙ্গল পোস্টের নয়, ঝাড়গ্রাম জেলা হাসপাতালে সঙ্গে যুক্ত এক অভিজ্ঞ চিকিৎসকের। আজ তাই শুধু, রোগীর পরিবারের তরফ থেকে ‘চড়’ খাওয়ার জন্য নয়, তাঁরা বললেন, “অনেক অনেক কারণ আছে, ধর্নায় বসার বা কর্মবিরতি পালন করার।” স্পষ্ট ভাবে তাঁরা শ্লোগান দিলেন, “হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওপর ডিএম ও সিএমওএইচের অনৈতিক চাপ দেওয়া মানছি না মানবো না।” স্লোগান উঠলো, “রিপোর্ট পরিবর্তন করার জন্য চাপ দেওয়া চলবে না।” আজ, চিকিৎসক ডাঃ অর্ণাশীষ হোতা’র চড় খাওয়ার জন্যও, ঝাড়গ্রাম জেলা হাসপাতালের চিকিৎসকেরা একযোগে “ঠাণ্ডা ঘরে বসে থাকা” আধিকারিকদের দিকে আঙুল তুললেন!

thebengalpost.in
ধর্নায় চিকিৎসকেরা :

.

উল্লেখ্য যে, গত ১৬ তারিখ কোভিড পজিটিভ ধরা পড়ে, ঝাড়গ্রাম জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২৮ বছরের যুবক সত্যরঞ্জন দাসের। ঝাড়গ্রাম শহরেই তাঁর বাড়ি। সেই ঘটনা পরিবারকে জানানো বা পরিবারের অন্যদের পরীক্ষা করানো সহ হোম কোয়ারান্টাইন থাকার নির্দেশও দেওয়া হয়নি! গতকাল (শুক্রবার), রাত দশটায় রিপোর্ট দেওয়া হয় সুস্থ আছে। রাত সাড়ে দশটায় ভেন্টিলেশনে দেওয়ার পর ঐ যুবকের মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়। শনিবার দেহ নিতে গেলে ‘কোভিড পজিটিভ’ বলে জানানো হয় পরিবারের সদস্যদের। এই নিয়ে হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ প্রতিবাদ হয়। সেই সময় সিপিআইএম এর জেলা সম্পাদক পুলিন বিহারী বাস্কে এই ধরনের অব্যবস্থার প্রতিবাদ সহ ভবিষ্যতে সঠিক ভাবে সামাজিক দায়িত্ব পালনের কথা বলে এবং সুপারের কাছে দাবি জানিয়ে চলে আসেন। এরপর, পজিটিভ ঘটনা না জানানো ও চিকিৎসার অব্যবস্থার প্রতিবাদ জানিয়ে, ঝাড়গ্রাম শহরের প্রবেশ পথে ৫ নম্বর রাজ্য সড়ক অবরোধ করেন মৃতের পাড়ার মানুষ সহ বামকর্মীরা। এরপর, সেই একই পাড়ার বাসিন্দা তৃণমূলের জেলা নেতা অজিত মাহাত পুনরায় হাসপাতালে যান। তিনিও, উত্তেজিত পরিবারবর্গের সাথে কথা বলেন, এরপরই হাতের সামনে ডাঃ হোতা’কে পেয়ে ‘চড়’ মেরে দেন রোগীর এক আত্মীয়া। তাঁদের স্পষ্ট অভিযোগ, কেন ‘করোনা পজিটিভ” আগে বলা হয়নি! আর এই সমস্ত কিছুর জন্য, চিকিৎসকেরা দায়ী করছেন, জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ও জেলাশাসককেই। তাঁদের বক্তব্য, উপর মহলের চাপ আছে, ঝাড়গ্রামে বেশি সংক্রমণ দেখানো যাবে না, বেশি টেস্ট করা যাবে না ইত্যাদি ইত্যাদি! খোদ, ডেপুটি CMOH 2 সুবোধ মন্ডলের মৃত্যুর ঘটনাতেও, জেলা হাসপাতালের এক আধিকারিক, গর্জে উঠেছিলেন ঝাড়গ্রাম জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের বিরুদ্ধে। যেখানে একজন আধিকারিকের মৃত্যু হয় অবহেলার কারণে, সেখানে ঝাড়গ্রাম জেলার সার্বিক চিকিৎসা ব্যবস্থা কি অবস্থায় আছে, সেই প্রশ্ন কোন বিরোধী দলের নেতার নয়, ঝাড়গ্রামের এক ‘করোনা যোদ্ধা’র। ওই ‘করোনা যোদ্ধা’ দ্য বেঙ্গল পোস্ট’কে এমন অনেক তথ্য দিয়েছেন, যা প্রকাশ করলে, ‘অরণ্য সুন্দরী’র বর্তমান স্বাস্থ্য পরিষেবা ও করোনা সংক্রমণের হালহকিকতের ‘কঙ্কাল দশা’ বেরিয়ে পড়বে। সর্বোপরি, আজকে ধর্নায় বসা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সেই সমস্ত দিকগুলিকেই আরো পরিস্ফুট করে দিলেন সংবাদমাধ্যমের কাছে। এরপরও কি টনক নড়বে ঝাড়গ্রাম জেলা প্রশাসনের? সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন!

thebengalpost.in
তৃণমূল নেতার সঙ্গে মৃত রোগীর আত্মীয়া :

.
.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে