দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৯ মে: ডেবরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ১৩৫ শয্যার করোনা হাসপাতাল তৈরি হচ্ছে। মঙ্গলবার এই বিষয়ে চূড়ান্ত প্রস্তুতি সেরে ফেলা হয়েছে জেলা ও ব্লক স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে। মঙ্গলবার জেলার উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গী গিয়েছিলেন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে। ১০ টি HDU বেড সহ ১৩৫ শয্যার করোনা হাসপাতাল হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। অপরদিকে, ১০০ শয্যার সাধারণ হাসপাতালও থাকছে সুপার স্পেশালিটির চতুর্থ ও পঞ্চম তলে। ঠিক একইরকমভাবে, ঘাটাল মহাকুমা হাসপাতাল ও সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালকে কেন্দ্র করেও তৈরি হচ্ছে নতুন একটি ১০০ শয্যার করোনা হাসপাতাল। সঙ্গে সাধারণ চিকিৎসা পরিষেবা যেমন চলছিল, তা চলবে। জেলার জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ শ্যামপদ পাত্র জানিয়েছেন, “ঘাটালে ৮০ টি করোনা শয্যা ছিল। এবার সম্পূর্ণ পৃথকভাবে একটি ১০০ শয্যা বিশিষ্ট করোনা হাসপাতাল তৈরি করা হচ্ছে। যেখানে ১০ টি HDU বেড থাকবে। সবমিলিয়ে, ঘাটাল মহাকুমা হাসপাতালে ১৮০ টি করোনা শয্যা হচ্ছে।” জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ নিমাই চন্দ্র মন্ডল জানিয়েছেন, “ঘাটালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন পাইপ লাইন বিশিষ্ট ১০০ শয্যার করোনা হাসপাতালের জন্য মহাকুমা হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডটিকে সুপার স্পেশালিটিতে স্থানান্তরিত করা হবে। মহকুমা হাসপাতালেই সম্পূর্ণ পৃথকভাবে করোনা হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সুপার স্পেশালিটিতে সাধারণ চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হবে। খুব দ্রুত এই কাজ শেষ হবে।”


Whatsapp Group এ

এদিকে, শালবনীর পর ডেবরা ও ঘাটালেও করোনা হাসপাতাল তৈরি হয়ে গেলে, ওই এলাকার আশঙ্কাজনক রোগীদের চিকিৎসা পরিষেবা আরও দ্রুত প্রদান করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে। শালবনীর ২০০ টি বেড ছাড়াও ডেবরা ও ঘাটালেও সেন্ট্রাল অক্সিজেন পাইপ লাইন সিস্টেম থাকছে বলে জানিয়েছেন জেলার স্বাস্থ্য কর্তারা। এদিকে, আয়ুশ হাসপাতালেও ৬০ টি বেডে অক্সিজেন পরিষেবা দেওয়ার কাজ প্রায় শেষের মুখে। জেলার উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গী জানিয়েছেন, “স্বল্প উপসর্গযুক্ত রোগীদের নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। তাঁরা বাড়িতে থেকেও সুস্থ হয়ে যাচ্ছেন বা সুস্থ হয়ে যাবেন। যাঁদের অক্সিজেন লাগছে, তাঁদের জন্যই এবার জেলাজুড়ে করোনা শয্যা বাড়ানো হচ্ছে। এবার এই ধরনের রোগীর সংখ্যা খুব বেশি।” এদিকে, গত কয়েকদিনে আক্রান্তের সংখ্যা কমলেও, বুধবার দুপুরের রিপোর্টে ফের জেলায় করোনা সংক্রমিতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত চব্বিশ ঘণ্টায় সংক্রমিত ৫১৬ জন। ফলে, সংক্রমণ কমার ইঙ্গিত যে এখনই নেই, তা মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এই পরিস্থিতিতে যাতে রোগীরা দ্রুত অক্সিজেন ও চিকিৎসা পরিষেবা পান, সেই উদ্যোগই নেওয়া হচ্ছে জেলা প্রশাসনের তরফে। এদিকে, মেদিনীপুর মেডিক্যালে আসা রোগীরা যাতে ২৪ ঘন্টাই করোনা পরীক্ষার সুযোগ পান, সেজন্য ২৪ ঘন্টার জন্যই র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের সুবিধা দেওয়া হবে আজ বুধবার থেকে। কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, “মাতৃমা ভবনের কাছে এই পরিষেবা দেওয়া হবে। বুধবার থেকেই তা শুরু হয়ে যাবে।”










