দ্রুতহারে সংক্রমণ কমছে পশ্চিম মেদিনীপুরে! আজ থেকে বন্ধ ‘আয়ুশ সেফহোম’, রোগী শূণ্য ‘ডেবরা সেফহোম’ও বন্ধ হওয়ার মুখে

thebengalpost.in
আজ থেকেই বন্ধ হচ্ছে আয়ুশ স্যাটেলাইট বা আয়ুশ সেফ হোম :
.

মণিরাজ ঘোষ, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২১ নভেম্বর : দ্রুত হারে সংক্রমণ কমছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায়। বাড়ছে সুস্থতার হার। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ৭ দিনে পশ্চিম মেদিনীপুরে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন মাত্র ৩৬৩ জন। ১৪ নভেম্বর থেকে গতকাল অর্থাৎ ২০ নভেম্বর পর্যন্ত জেলায় সংক্রমিতের সংখ্যা যথাক্রমে- ৪৩, ২৫, ৪৫, ৭৮, ৫০, ৫৫, ৬৭। প্রতিদিন গড়ে করোনা সংক্রমিত মাত্র ৫২ জন। প্রতিদিন গড়ে টেস্ট হচ্ছে ৮০০-৯০০ টি। সুতরাং, প্রতি ১০০ টি নমুনাতে সংক্রমিত হচ্ছেন ৬ থেকে ৭ জন। যেটা আগে ছিল ৯ থেকে ১১ জন। সর্বোপরি, কমেছে মৃত্যুর হারও। উন্নত হয়েছে স্বাস্থ্য পরিকাঠামোও। আরো উল্লেখযোগ্য হল, মানুষ এই মুহূর্তে হোম আইশোলেশন বা গৃহ নিভৃতবাসে থাকতেই অধিক স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন এবং গৃহে থেকেও স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা লাভ করছেন। এই পরিস্থিতিতে, গত তিনদিনে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মোট ৬ টি করোনা হাসপাতাল ও সেফ হোম মিলিয়ে মোট চিকিৎসাধীন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা হল, যথাক্রমে- ৪৩ (১৮ নভেম্বর), ৪৩ (১৯ নভেম্বর) এবং ৪৬ (২০ নভেম্বর)। মোট শয্যা সংখ্যা পাঁচ শতাধিক! সেজন্যই, গত ১৮ ই নভেম্বর পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা কোভিড টাস্ক ফোর্স সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আয়ুশ করোনা হাসপাতালের অধীনে, তাঁতিগেড়িয়ায় নির্মিত আয়ুশ স্যাটেলাইট বা ১০০ শয্যার সেফ হোম বা নিরাপদ নিলয়টি আজ (২১ নভেম্বর) থেকে বন্ধ করে দেওয়া হবে।

thebengalpost.in
মেদিনীপুর শহরের আয়ুশ স্যাটেলাইট (১৫ ই আগস্ট, ২০২০) পরিদর্শনে জেলাশাসক, বিধায়ক, মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ও উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক :

.
.

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ভয়াবহ সংক্রমণ বৃদ্ধির মুখে, গত ১২ ই আগস্ট থেকে পথচলা শুরু করেছিল, আয়ুশ সেফ হোম বা আয়ুশ স্যাটেলাইট হাসপাতালটি। শহরের তাঁতিগেড়িয়াতে অবস্থিত ভ্যাগ্রেন্ট হোম বা নারী ও শিশু কল্যাণ দপ্তরের হোমটিতে এই সেফ হোম গড়ে তোলা হয়েছিল। উপসর্গহীন থেকে শুরু করে স্বল্প উপসর্গযুক্তরা এখানে গত দু-আড়াই মাস ধরে চিকিৎসা পরিষেবা পেয়ে এসেছেন। কিন্তু, গত একমাস ধরেই জেলার করোনা হাসপাতাল গুলিতে রোগীর চাপ কমতে শুরু করেছে। বেশিরভাগ উপসর্গহীন এবং স্বল্প উপসর্গযুক্তরা গৃহ নিভৃতবাসে থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন বলে জানিয়েছেন জেলাশাসক ডঃ রশ্মি কমল থেকে শুরু করে জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিকরা। এই পরিস্থিতিতে, গত প্রায় ১৫ দিন ধরে রোগী শূণ্য ছিল, আয়ুশ হাসপাতালের (আবাস) অধীনে থাকা এই সেফ হোম টি। তাই, গত ১৮ ই নভেম্বর জেলার কোভিড টাস্ক ফোর্স আপাতত এটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। টাস্ক ফোর্সের প্রধান তথা জেলাশাসক ডঃ রশ্মি কমল ইতিমধ্যেই এই মর্মে নির্দেশিকা জারি করেছেন।

thebengalpost.in
মেদিনীপুর শহরের আয়ুশ স্যাটেলাইট (১৫ ই আগস্ট, ২০২০) পরিদর্শনে জেলাশাসক, বিধায়ক, মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ও উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক :

.

অপরদিকে, গত তিন ধরে (১৮-২০ নভেম্বর) ডেবরা গ্রামীণ হাসপাতালে গড়ে ওঠা ৪০ শয্যার সেফ হোমটিও রোগী শূণ্য অবস্থায় আছে। এর আগে গত এক-দু’ সপ্তাহ ধরে ডেবরা, খড়্গপুর ও ঘাটালের সেফ হোম গুলিতে চিকিৎসাধীন রোগী ভর্তি ছিলেন যথাক্রমে ৫-৭ জন করে। কিন্তু, ডেবরা’তে গত তিন দিন একজনও রোগী নেই। তাই, এই হাসপাতাল থেকেও করোনা পরিষেবার পাঠ উঠে যেতে পারে শীঘ্রই, এমনটাই জানা যাচ্ছে জেলা স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে। জেলার উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক তথা কোভিড টাস্ক ফোর্সের অন্যতম সদস্য ডাঃ সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গী এই বিষয়ে জানিয়েছেন, “সংক্রমণ কমছে দ্রুত হারে। সুস্থতার হার প্রায় ৯৫ শতাংশ। এদিকে, ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ হোম আইশোলেশনে থেকেই এখন সুস্থ হয়ে উঠছেন। তাই, সেফ হোম গুলি ধীরে ধীরে রোগী শূণ্য হচ্ছে। কোভিড টাস্ক ফোর্স তথা জেলাশাসকের নির্দেশিকা মেনে শনিবার থেকে বন্ধ করা হচ্ছে, আয়ুশ স্যাটেলাইট। যদিনা ফের বিপুল হারে সংক্রমণ বৃদ্ধি হয়, তবে এই সিদ্ধান্তই কার্যকরী থাকবে। অপরদিকে, ডেবরাও যদি আরো কিছুদিন রোগী শূণ্য থাকে, নিঃসন্দেহে কোভিড টাস্ক ফোর্স চিন্তাভাবনা করবে।” প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, গতকালের রিপোর্ট অনুযায়ী, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় এই মুহূর্তে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১৫৫০১। চিকিৎসাধীন মাত্র ৫৬৩ জন। এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ২২৬ জনের। ৯৫ শতাংশ হারে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১৪৭১২ জন। এদিকে, ৫৬৩ জনের মধ্যে করোনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাত্র ৪৬ জন। লেভেল ফোর শালবনী’তে ২১, আয়ুশ কোভিড হাসপাতালে ১৯, খড়্গপুরে ৩ ও ঘাটালে ৩ জন চিকিৎসাধীন আছেন, বাকি ৫১৭ জনই আছেন গৃহ নিভৃতবাসে।

thebengalpost.in
আজ থেকেই বন্ধ হচ্ছে আয়ুশ স্যাটেলাইট বা আয়ুশ সেফ হোম :

.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে