“যা বলতে হয় তা করতে নেই, যা করতে হয় তা বলতে নেই! আমার মাথায় আছে আমায় কী করতে হবে”, ‘তুই-তোকারি’র জবাবে সংযত ভাবেই শুভেন্দু’র জবাব

thebengalpost.in
শুভেন্দু অধিকারী :
.

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পূর্ব মেদিনীপুর ও বাঁকুড়া, ১৪ নভেম্বর : বঙ্গ রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন শুভেন্দু অধিকারী। নাম না করেই ‘তাঁকে’ কেন্দ্র করে চলছে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়! এই মুহূর্তে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বও নাম না করে শুভেন্দু’কে আক্রমণ করছেন। পাল্টা দিতে ছাড়ছেন না শুভেন্দুও। তবে, সমস্ত শালীনতার সীমা অতিক্রম করে গেছেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার শ্রীরামপুর থেকে রীতিমতো ‘তুই-তোকারি’ করে আক্রমণ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী’কে, “ওরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছিল বলে মন্ত্রী হয়েছিস…না থাকলে কর্পোরেশনের সামনে আলু বিক্রি করতিস!” ‘দাদার অনুগামী’ দের আক্রমণ করে বলেছেন, “বিজেপিতে যাবি চলে যা, মেনে নেব। কংগ্রেসে যাবি চলে যা, মেনে নেব। সিপিএমে যাবি চলে যা, মেনে নেব। তৃণমূলে থেকে বেইমানি করবি, ঘরে ঢুকতে দেব না! দাদার ঘরে গিয়েই থাকবি।” প্রত্যুত্তরে অত্যন্ত সংযতভাবেই আজ শুভেন্দু জবাব দিয়েছেন, প্রথমে বাঁকুড়া ও পরে পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগর থেকে। বাঁকুড়ায় ভারত সেবাশ্রম সংঘের অনুষ্ঠানে শুভেন্দুর ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, “আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক বিভাজন আছে, সংকীর্ণতা আছে। আমি ভালো, তুই খারাপ। কিন্তু, ভারত সেবাশ্রম সংঘের মতো প্রতিষ্ঠানগুলি সবার উপরে, দলমত নির্বিশেষে। আমার পরিচয় যাই থাক, পদ যাই থাকুক, আমার সবচেয়ে বড় পরিচয় আমি আপনাদের আত্মার আত্মীয়। আর আমি সবসময় আপনাদের সঙ্গে থাকার চেষ্টা করব।” সেখানেই এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে, ৮,০০০ পরিযায়ী শ্রমিকের হাতে শীতবস্ত্র তুলে দেন তিনি। তারপরে, শহরেরই গ্লোবাল টোয়েন্টি নাইনের ২৭তম বর্ষের কালীপুজো উদ্বোধন করেন। পরে, রবীন্দ্র সরণি ইউনাইটেড ক্লাবের মন্দিরে কালীমূর্তির আবরণ উন্মোচন করেন। সব শেষে, পুয়াবাগান পঞ্চবটীতে কালীপুজোর উদ্বোধন করে জেলা সফর শেষ করেন তিনি।

thebengalpost.in
শুভেন্দু অধিকারী :

.
.

এরপরই, পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগর। সেখানেও নানা ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে, সমস্ত অপমানের জবাব দেন। শুভেন্দু মন্তব্য করেন, “আপনারে বড় বলে, বড় সে নয়, লোকে যারে বড় বলে, বড় সেই হয়!” পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরে হরিশচন্দ্র মিত্রের লেখা কবিতার এই দুটি পংক্তিই শোনা গেল শুভেন্দু অধিকারীর মুখে। শনিবার রামনগরের তৃণমূল বিধায়ক অখিল গিরির এলাকায় বন্ধুমহল ক্লাবের কালীপুজোর উদ্বোধন করেন শুভেন্দু। অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন বিধায়ক অখিল গিরি। নাম না করে কড়া আক্রমণ করে বলেন, “কেউ কেউ আবার আসতে পারেন না, তাঁদের অনেক সমস্যা। তাঁরাও আমার খুব পরিচিত। তাঁদেরও উপকারে অনেক সময় লেগেছি।” এরপর, রামনগর নিয়ে তাঁকে বার্তা দেওয়ার আবেদন জানালে, তিনি তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন, ‌”আমায় বলছে রামনগর নিয়ে কিছু বলুন। যা বলতে হয় তা করতে নেই! যা করতে হয় তা বলতে নেই। আমার মাথায় আছে আমায় কী করতে হবে! যথা সময়ে সেটা রামনগরের জন্য আমি করব।” এই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করার সাথে সাথেই এদিন শুভেন্দু তাঁর পরবর্তী বড় কর্মসূচির স্থান, কাল, পাত্র ঘোষণা করেন। তিনি জানান, ‘”১৯ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার রামনগর আরএস ময়দানে আমার একটি মেগা শো আছে। জেলার বিভিন্ন সমবায় ব্যাঙ্কের প্রতিনিধি, আমানতকারীরা আসবেন সেখানে। সমবায় সপ্তাহ নিয়ে অনুষ্ঠান। ওখানে অনেক কথা বলব। অনেক সময় থাকবে হাতে। অনেক কথা বলার সুযোগ পাব।”

.
.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে