করোনা মুক্ত হয়ে মন্দিরে ‘দাদা’, অনুগামীরা টানা কর্মসূচিতে, মুখ্যমন্ত্রীর সফরের পর ‘অবস্থান’ আরো স্পষ্ট হল

.

দ্য বেঙ্গল পোস্ট বিশেষ প্রতিবেদন, সমীরণ ঘোষ, ১২ অক্টোবর: গত ২৪ সেপ্টেম্বর করোনা সংক্রমিত হয়েছিলেন, রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং তাঁর মা গায়ত্রী অধিকারী। সারা রাজ্য জুড়ে, বিশেষত দুই মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে তাঁর হাজার হাজার অনুগামী (‘দাদার অনুগামী’) প্রার্থনা করেছিলেন মন্দির-মসজিদ-গির্জা-গুরুদ্বারায়। অবশেষে, মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) করোনা মুক্ত হয়েছেন গত ৫ অক্টোবর। তাঁর মা গায়ত্রী দেবীও সুস্থ হয়ে উঠেছেন। ৫ অক্টোবর করোনা রিপোর্ট ‘নেগেটিভ’ আসার পর, ৫ দিন নিজের বাড়িতেই বিশ্রামে ছিলেন শুভেন্দু। গত ১০ অক্টোবর সন্ধ্যায়, তমলুকের বিখ্যাত বর্গভীমা মাতার মন্দিরে গিয়ে পুজো দিয়ে আসেন অবিভক্ত মেদিনীপুরের জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অনুগামীদের প্রিয় ‘দাদা’। অনেকের চোখে, “জঙ্গলমহলের মুক্তিসূর্য” কিংবা “বাংলা মায়ের দামাল ছেলে”। ৩৪ বছরের বাম জমানার অবসান ঘটাতে, বর্তমান শাসকদল তৃণমূলের অন্যতম প্রধান সৈনিক ছিলেন তিনি। যদিও, দুই মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে তিনিই ‘সৈনিক’, তিনিই ‘মন্ত্রী’, তিনিই ‘রাজা’; এমনটাই বলেন তাঁর অনুগামীরা। লোকসভা ভোটে বিজেপি মেদিনীপুরের আসন সহ ১৮ টি কেন্দ্র ছিনিয়ে নেওয়ার পরও, খড়্গপুর বিধানসভায় তৃণমূলের প্রদীপ সরকারকে জিতিয়ে আনার মধ্য দিয়ে নিজের কারিশমার জলজ্যান্ত প্রমাণ দিয়েছেন সদ্য! আর, তার কয়েক মাস পর থেকেই শুরু হয়েছে, মান-অভিমান, বিচ্ছেদ-ব্যবধান! না এই বিষয়ে তিনি বা তাঁর ঘনিষ্ঠ অনুগামীরা এখনো মুখ ফুটে কিছু বলেননি, বা বলতে চাননি। তবে, জল্পনা চলছিলই শুভেন্দু অধিকারীর বিজেপিতে যোগদান বা নতুন দল করা নিয়ে। এদিকে, পৃথকভাবে কর্মসূচি থেকে সমাজসেবা, সবকিছুই দাদার অনুগামীরা চালিয়ে যাচ্ছেন। স্বয়ং, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৬ ও ৭ অক্টোবর যথাক্রমে পশ্চিম মেদিনীপুর ঝাড়গ্রামে ‘কল্পতরু’ হয়ে বিভিন্ন প্রকল্প, কর্মসংস্থান ও অনুদান ঘোষণা করেও, দাদার অনুগামীদের টলাতে পারেননি! এ নিয়ে নিজেদের অবস্থান তাঁরা এখনো স্পষ্ট না করলেও, পিকে থেকে সাধারণ তৃণমূল কর্মী, সকলেই বুঝে গেছেন, দাদা আর তাঁর অনুগামীরা অনেকটাই দূরে সরে গেছেন। যে দূরত্ব হয়তোবা ঘুচবার নয়! সম্প্রতি, অক্টোবরের ১০ তারিখের পর, কিছু একটা ঘোষিত হবে দাদার তরফে, এমনটা অনুমান করা হলেও, অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেল, যা হবে পুজোর পরেই! সেক্ষেত্রে, বাংলার বুকে নতুন রাজনৈতিক দলের আবির্ভাব হওয়ার সম্ভাবনাই প্রবল বলে মনে করা হচ্ছে!

thebengalpost.in
খড়্গপুরে “দাদার অনুগামী”রা :

.

এদিকে, পূর্ব মেদিনীপুর ছাড়াও, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরে টানা জনসংযোগ এবং ত্রাণ বিলি কিংবা সমাজসেবামূলক কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারীর অনুগামীরা। গত ১০ অক্টোবর, ঝাড়গ্রামের জামবনি ব্লকে ১২০০ প্রান্তিক মানুষকে পুজোর নতুন পোশাক বিতরণ করা হয়েছে। ছিলেন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক স্বদেশ রঞ্জন ভূঁইয়া এবং স্থানীয় তৃণমূল নেতা লাল মান্ডি, গোপাল সিংহ প্রমুখরা। এদিকে, “আমরা অনুগামী” সমাজসেবী সংস্থার পক্ষ থেকে গতকাল (১১ অক্টোবর) ‘বাইক মিছিল’ করে খড়্গপুরের বিভিন্ন এলাকায় দুঃস্থ এবং সাধারণ মানুষদের হাতে মাস্ক ও স্যানিটাইজার বিতরণ করলেন, শুভেন্দু ঘনিষ্ঠরা। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, গতকালই তৃণমূলের যুব শক্তির বাইক মিছিলও ছিল মেদিনীপুর শহরে!

thebengalpost.in
বর্গভীমা মন্দিরে শুভেন্দু অধিকারী :

.
.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে