নতুন সমীকরণ! ঝাড়গ্রামে বিরবাহা-চুনিবালার কালীপুজো উদ্বোধনে শুভেন্দু অধিকারী, মুর্শিদাবাদে পৌঁছে ‘সন্তান হারানো’ পরিবারের পাশে পরিবহনমন্ত্রী

.

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, ঝাড়গ্রাম ও মুর্শিদাবাদ, ৭ নভেম্বর : জনসংযোগের সাথে সাথে এবার রাজনৈতিক সমীকরণেরও ইঙ্গিত দিচ্ছেন অবিভক্ত মেদিনীপুরের ‘ভূমিপুত্র’ শুভেন্দু অধিকারী। জঙ্গলমহল ঝাড়গ্রামের এমন একটি কালীপুজো উদ্বোধনে তিনি আসতে চলেছেন, যে পুজোর সঙ্গে একেবারে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত আছেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীরা। সর্বোপরি, সেই কালী পুজো কমিটির সভানেত্রী হলেন, বিরবাহা হাঁসদা। এছাড়াও, ওই পুজো কমিটিতে আছেন কংগ্রেস, তৃণমূল ও বিজেপি’র সঙ্গে যুক্ত অনেক নেতাও। সকলের মিলিতত আহ্বান ও ইচ্ছেতেই, অরণ্য সুন্দরী ঝাড়গ্রামের এই কালীপুজো উদ্বোধনে আসতে চলেছেন পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, এমনটাই জানিয়েছেন পুজোর উদ্যোক্তারা।

thebengalpost.in
চুনিবালা হাঁসদা ও বিরবাহা হাঁসদা :

.
.

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনে ঝারখণ্ড পার্টি (নরেন)’র প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত নরেন হাঁসদা ও নেত্রী চুনিবালা হাঁসদার অভিনেত্রী কন্যা বিরবাহা হাঁসদাকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী করতে চেয়েছিল দলের একাংশ। চুনিবালা হাঁসদা এবং তাঁর মেয়ে সাঁওতালি সিনেমার জনপ্রিয় হিরোইন বিরবাহা নিজেও চেয়েছিলেন প্রার্থী হতে। যদিও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শেষ পর্যন্ত বেছে নিয়েছিলেন, আরেক বীরবাহা’কে। তিনি, একটি আদিবাসী সংগঠনের নেতা রবিন টুডুর স্ত্রী স্কুল শিক্ষিকা বীরবাহা সরেন। অপরদিকে, নিজের দলের হয়েই প্রার্থী হয়েছিলেন অভিনেত্রী বিরবাহা হাঁসদা। সেই থেকে, তৃণমূলের সঙ্গে চুনিবালা হাঁসদা ও তাঁর দলের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। এদিকে, সেই বিরবাহা-চুনিবালাদের পুজো উদ্বোধনে শুভেন্দু অধিকারীর আসা নিয়ে জেলায় রীতিমতো গুঞ্জন শুরু হয়েছে। যদিও এ নিয়ে বিরবাহা এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “বাবা এই পুজো শুরু করেছিলেন। বাবা দলমতের ঊর্ধ্বে সবাইকে নিয়ে পুজোর আয়োজন করতেন। এবার এলাকাবাসীর দাবি তাই আমি কমিটির সভানেত্রী। আর, শুভেন্দুদা ‘জঙ্গলমহলের কুটুম’। এলাকার মানুষ তাঁকে চাইছেন। আমাদের সকলের আবেদনে সাড়া দিয়ে শুভেন্দুদা আসবেন বলে জানিয়েছেন। তাঁকে বরণ করে নেওয়ার সব রকম প্রস্তুতি আমরা নিচ্ছি।” প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এই পুজো কমিটিরসহকারি সভাপতি লালগড় ব্লক যুব তৃণমূলের নেতা জলধর পন্ডা। সম্পাদক স্থানীয় বিজেপি নেতা চন্দ্রশেখর প্রতিহার। উপদেষ্টা কমিটিতে রয়েছেন জেলা তৃণমূলের সহ-সভাপতি দুর্গেশ মল্লদেব, জেলা কংগ্রেস নেতা কালিপদ মাইতি, ঝাড়খন্ড পার্টি (নরেন)র সভানেত্রী চুনিবালা হাঁসদা এবং তাঁর দলের নেতা শ্রীনিবাস সরেন সহ এলাকার বিভিন্ন দলের পরিচিত রাজনৈতিক মুখ। সবমিলিয়ে, ‘জঙ্গলমহলের মুক্তিসূর্য’ রূপে এলাকায় জনপ্রিয় এবং প্রচারিত শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে কি জঙ্গলমহলে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ গড়ে ওঠা এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা? সেটা সয়তো সময়ই বলবে, তবে জেলার রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা সেরকম ইঙ্গিতই দিচ্ছেন।

thebengalpost.in
সম্প্রতি, খড়্গপুর তালবাগিচা চিত্তরঞ্জন স্পোর্টিং ক্লাবের কমিউনিটি হল উদ্বোধন অনুষ্ঠানে পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী :

.

এদিকে, গতকাল (৭ নভেম্বর) হঠাৎ করেই জনসংযোগ রক্ষার্থে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় পৌঁছে গিয়েছিলেন পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বেলডাঙায় পৌঁছে, বিজয়া দশমীতে নৌকাডুবি হয়ে মৃত ৫ যুবকের পরিবারের হাতে, তিনি ২ লক্ষ করে টাকা অনুদান হিসেবে তুলে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। বিশেষ সূত্রে জানা যায়, এই সফরের বিষয়ে আগাম খবর ছিলনা শাসকদল তৃণমূল কিংবা প্রশাসনের কাছে। তাঁর হঠাৎ করে এভাবে পৌঁছে যাওয়াতে, জেলা ও রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ইতিমধ্যে, দুই মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে দলীয় পরিচিতির ঊর্ধ্বে উঠে, ‘দাদার অনুগামী’ কিংবা বিভিন্ন ক্লাব ও সংগঠনের অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন উল্লেখযোগ্য ভাবে। আর এবার, একসময় এই জেলার পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে থাকা শুভেন্দু মুর্শিদাবাদেও যেভাবে হঠাৎ করে পৌঁছে গেলেন এবং সরাসরি “সন্তান হারানো” বেলডাঙার পাঁচটি পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। প্রসঙ্গত, বিজয়া দশমীতে ঠাকুর ভাসান দিতে দিয়ে বেলডাঙায় মৃত্যু হয় ৫ জনের। তাঁদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে, এদিন ২ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেন শুভেন্দু অধিকারী। ভারত সেবাশ্রমের মহারাজের সঙ্গেও দেখা করেন তিনি।

.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে