দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, কলকাতা, ২৯ জানুয়ারি: ফের তিনি বোঝালেন কেন তিনি ব্যতিক্রমী, দলমত নির্বিশেষে অসংখ্য মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার পাত্র! তিনি রাজ্যের প্রাক্তন বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। গত ২২ শে জানুয়ারি মন্ত্রিত্ব ছাড়ার পর, আজ ২৯ শে জানুয়ারি বিধানসভায় গিয়ে সমস্ত নিয়ম মেনে ইস্তফা দিলেন বিধায়ক পদ থেকে। বিধানসভার অধ্যক্ষের সামনে বসে তিনি সমস্ত নিয়ম পালন ও প্রশ্নের উত্তর দেন। বেরিয়ে এলেন, দলনেত্রীর ছবি সঙ্গে নিয়। মুখোমুখি হলেন সাংবাদিক দের। জানালেন, বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা। ধন্যবাদ জানালেন বাংলা তথা নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের আট থেকে আশি সকলকে। ধন্যবাদ জানালেন, বিধানসভায় তাঁর সতীর্থ সহ অধ্যক্ষ, প্রত্যেককে। ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানালেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যেও। অশ্রুশিক্ত নয়নে সাংবাদিকদের বললেন, “আমার দলনেত্রীর প্রতি আমি চিরঋণী হয়ে থাকব। আমাকে সুযোগ দেওয়ার জন্য। তিনি আমার মাতৃতুল্য। আগেও তাঁর ছবি আমার মাথার উপরে থাকত, এরপরও থাকবে!” এরপরই, পরোক্ষে সম্মতি জানালেন, আজই দল ছাড়ার বিষয়ে এবং রবিবারের শাহী সভায় বিজেপি তে যোগদানের বিষয়ে।


প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত ২২ শে জানুয়ারিও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে থেকে কাজ করার পর, সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার বেদনায় ভারাক্রান্ত হয়েছিলেন রাজীব। আজ সেই চরম সন্ধিক্ষণে ফের শোকসন্তপ্ত হৃদয়ে, অশ্রু বিসর্জন করলেন সংসদীয় রাজনীতির এই অনন্য ব্যক্তিত্ব। দলনেত্রীর প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে একজন কৃতজ্ঞ ও বিনয়ী জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিজেকে ব্যতিক্রমী হিসেবেই তুলে ধরলেন ডোমজুড়ের বিদায়ী বিধায়ক। কথা দিলেন, সংসদীয় রাজনীতির স্রোতে থেকেই জনসেবার কাজ চালিয়ে যাবেন। ইঙ্গিত দিলেন রবিবারের শাহী সভায় বিজেপি’তে যোগদানের বিষয়ে। প্রসঙ্গত, গত ২২ শে জানুয়ারি দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, বৈশালী ডালমিয়া, রথীন চক্রবর্তী, প্রবীর ঘোষাল সহ ১৭ জনের বিজেপি’তে যোগদানের বিষয়ে। আপাতত সেই তালিকার প্রথম সারির সকলেই শাহী সভায় বিজেপি’তে যাচ্ছেন বলে খবর। বাকিদেরও ধাপে ধাপে বিজেপি’তে যাওয়া (ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই) শুধু সময়ের অপেক্ষা মাত্র!









