এবার পশ্চিম মেদিনীপুরে সত্যি সত্যিই “খেলা” হল! অভিযোগের তীর তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের দিকে

thebengalpost.in
এবার পশ্চিম মেদিনীপুরে সত্যি সত্যিই "খেলা" হল! অভিযোগের তীর তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের দিকে :

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৮ ফেব্রুয়ারি: ফের ররাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ উঠল পশ্চিম মেদিনীপুরে। নেপথ্যে এবার “খেলা হবে” স্লোগান! প্রসঙ্গত, আগামী ৩রা মার্চ শুভেন্দু অধিকারীর সভা খড়গপুর ২ নম্বর ব্লকে। সেই উপলক্ষে, খড়গপুর গ্রামীণ থানার অন্তর্গত রামনগর গ্রামে শনিবার সন্ধ্যায় বিজেপির এক কর্মীর বাড়িতে দলীয় মিটিং চলছিল। বিজেপির অভিযোগ, “এই মিটিং চলাকালীন তৃণমূলের অঞ্চল প্রধান নান্টু দলোইয়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসের গুন্ডা বাহিনীরা ‘খেলা হবে, খেলা হবে’ বলে এসে আমাদের উপর চড়াও হয়। বাঁশ ও রড দিয়ে মারতে যায়। সেই সময় আমরা ঘরের ভেতরে ঢুকে যাই। বাইরে গাড়ি ও সাইকেল ভাঙচুর করে। প্রায় এক ঘন্টা ধরে ঘর ঘিরে রাখে।” উল্লেখ্য যে, মাত্র ২৪ ঘন্টা আগেই, তৃণমূল নেতা মদন মিত্র ডেবরা গ্রামীণ মেলার উদ্বোধনে এসে, “খেলা” হওয়ার ইঙ্গিত এবং উৎসাহ দিয়ে গিয়েছিলেন! বলেছিলেন, “উইকেট, হকিস্টিক প্রভৃতি খেলার মাল আমি সরবরাহ করব।”

thebengalpost.in
তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের গ্রেফতারের দাবিতে বিজেপির অবস্থান বিক্ষোভ :

[ আরও পড়ুন -   মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কবলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী! স্ত্রী ও আপ্ত সহায়কের মৃত্যু, গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন নিজে ]

এহেন, মদন-বচনের ২৪ ঘন্টার মধ্যেই তৃণমূল কর্মীরা কি তবে ‘খেলা’ শুরু করে দিল, অভিযোগ তেমনই। যদিও, পুলিশে খবর দেওয়া হলে পুলিশ পৌঁছয়। কিন্তু, খড়্গপুর লোকাল থানায় অভিযোগ করতে গেলে, পুলিশ অভিযোগ না নেওয়ার কারণে থানায় অবস্থান বিক্ষোভ দেখানো হয় বিজেপির পক্ষ থেকে। শনিবার সন্ধ্যায় খড়্গপুর দু’নম্বর ব্লকের ভারতীয় মজদুর সংঘের ব্লক সভাপতি মুর্তজা হোসেন বলেন, “আগামী তিন তারিখ শুভেন্দু অধিকারীর একটি সভা আছে। সেই কারণে আমাদের আজ মিটিং ছিল। মিটিং চলাকালীন তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা খেলা হবে, খেলা হবে বলে মিছিল করে এসে, লাঠি, রড, অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের ছেলেদেরকে মারতে উদ্যত হয়। ভয়ে তারা ঘরের ভিতরে ঢুকে যায়। ঘরের ভিতরে ঢুকে যাওয়ার পর, ১ ঘন্টা ধরে আটক করে রাখে নান্টু দোলুই, পিন্টু দোলুই সহ প্রায় দেড়শ জন মিলে। আমাদের ২-৩ জনকে মারতেই আমরা সবাই বাড়ির ভিতরে ঢুকে গেছি। আমাদের না মারতে পেরে, আমাদের গাড়ি, সাইকেল ভাঙচুর করে। ঘরের আগের দিকে ফুলদানি ছিল সেগুলো ভাঙচুর করে এবং প্রাণে মারার হুমকি দেয়। বলে, তৃণমূল করলে বেঁচে যাবে, বিজেপি করলে প্রতিদিন মারবো! সেই কারণে আমরা পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাতে এসেছিলাম। কিন্তু, পুলিশ অভিযোগ না নেওয়ার কারণে, আমরা এখানে অবস্থান-বিক্ষোভ করছি। নান্টু দলুয়ের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে এই বিক্ষোভ চলছে।” শেষ পর্যন্ত রাতের দিকে পুলিশি আশ্বাসে অবস্থান বিক্ষোভ উঠে যায়।

[ আরও পড়ুন -   জঙ্গলমহলের শত শত অপু-দুর্গাদের কাছে পুজোর আনন্দ নিয়ে জঙ্গলমহলের আপনজনেরা ]