লালগড়ের নেতাইয়ের এক পুলিশকর্মীর মৃত্যু করোনায়, মেদিনীপুরে নিহত পুলিশ কর্মীর স্মৃতিতে আপদকালীন “অতনু স্মৃতি ভবনে”র দ্বারোদঘাটন

.

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, ঝাড়গ্রাম ও মেদিনীপুর, ১৮ সেপ্টেম্বর: সম্মুখ সমরে লড়াই করতে গিয়ে, একের পর এক প্রথম সারির করোনা যোদ্ধা সংক্রমিত হচ্ছেন, কেউবা জীবনের ‘চরম লড়াই’তে হেরেও যাচ্ছেন। সম্প্রতি (১৫ সেপ্টেম্বর), পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সবং থানার সেকেন্ড অফিসার অতনু প্রামাণিক (এস আই) করোনা-যুদ্ধে জেলার প্রথম পুলিশ কর্মী হিসেবে মাত্র ৩৮ বছর বয়সেই শহীদ হয়েছেন! এবার, ঝাড়গ্রাম জেলার প্রথম পুলিশ কর্মী হিসেবে মাত্র ৪৮ বছর বয়সে করোনা-যুদ্ধে শহীদ হলেন মনোজ কুমার মন্ডল (এ এস আই)! দুই জেলা পুলিশ সূত্রে খবর, এখনো পর্যন্ত পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় করোনা সংক্রমিত হয়েছেন তিন শতাধিক পুলিশ কর্মী ও আধিকারিক। অপরদিকে, ঝাড়গ্রাম জেলায় সংক্রমিত হয়েছেন, ৫০ জনেরও অধিক পুলিশ কর্মী।

thebengalpost.in
আপদকালীন “অতনু স্মৃতি ভবন” পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশের উদ্যোগে (ছবি : জেলা পুলিশ) :

.

সূত্রের খবর অনুযায়ী, ঝাড়গ্রাম জেলা পুলিশ লাইনের অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর মনোজ কুমার মন্ডলের বাড়ি লালগড়ের নেতাই গ্রামে। তবে, স্ত্রী, দুই মেয়ে ও বৃদ্ধা মাকে নিয়ে তিনি ঝাড়গ্রাম শহরেই ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। পরিবার সূত্রে জানা গেল, দিন কয়েক আগে মানিকপাড়ায় টানা সাতদিন ডিউটি করে ফেরার পর, তাঁর জ্বর ও সর্দি হয়। মৃত পুলিশকর্মীর দাদা বলেন, “গত সোমবার ভাই নমুনা দিয়ে এসেছিল ঝারগ্রাম সুপার স্পেশ্যালিটি তে গিয়ে। রিপোর্ট আসার আগে, হোম আইসোলেশনে থাকতে বলা হয়েছিল।” এদিকে, বুধবার সন্ধ্যায় প্রবল শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়ায় তাঁকে টোটো’তে করে সুপার স্পেশালিটির জরুরি বিভাগ এবং তারপর আইসোলেশন ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু, চরম অব্যবস্থার মধ্যে, তৎক্ষণাৎ অক্সিজেন দেওয়া সম্ভব হয়নি! অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে এসে, অক্সিজেন দেওয়ার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়! এমনটাই জানালেন পুলিসকর্মীর এক নিকটাত্মীয়। মৃত্যু’র পর তাঁর করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে এবং ঝাড়গ্রামের পুর-প্রশাসক সুবর্ণ রায়ের উপস্থিতিতে বুধবার গভীর রাতে তাঁর সৎকার করা হয়, নহড়খাল শ্মশানে। মৃত পুলিশকর্মীর পরিবার ও পরিজনেরা হোম আইসোলেশনে আছেন। আজ, তাঁদের করোনা পরীক্ষা হবে বলে জানা গেছে। এদিকে, ঝাড়গ্রামের করোনা পরিস্থিতি তথা মৃত ও সংক্রমিতের সঠিক সংখ্যা এবং রিপোর্ট নিয়ে প্রথম থেকেই জেলা প্রশাসন এবং জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর মুখে কুলুপ এঁটেছে। বিভিন্ন হাসপাতাল গুলির, পরিকাঠামো এবং অব্যবস্থা নিয়ে বারে বারে মুখ খুলছেন সাধারণ মানুষ থেকে করোনা যোদ্ধারা। এমনকি, ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্যকর্মীরাও! করোনা সংক্রমিতের সংখ্যা চাপতে গিয়ে, বিপদে পড়ছেন, করোনা যোদ্ধা ও তাঁর পরিবার-পরিজনেরা, এমনটাই জানালেন ঝাড়গ্রামের এক সুপরিচিত সমাজকর্মী। সম্প্রতি, জেলার উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (২) এর মৃত্যুর পর, জেলার একজন স্বাস্থ্য আধিকারিকের একটি সোশ্যাল-বার্তা ভাইরাল হওয়ার পরও টনক নড়েনি জেলা প্রশাসন ও জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের অভিযোগ একাধিক রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের! গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজ্যের করোনা বুলেটিন অনুযায়ী, ঝাড়গ্রামে সরকারি হিসেবে প্রতিদিন সংক্রমিত হচ্ছেন ১০ থেকে ২৫ জন করে। যদিও, করোনা মৃত্যুর সংখ্যা বাড়েনি আশ্চর্যজনকভাবে!

thebengalpost.in
আপদকালীন “অতনু স্মৃতি ভবন” পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশের উদ্যোগে (ছবি : জেলা পুলিশ) :

.

এদিকে, করোনা পরিস্থিতির মোকাবিলায়, প্রথম শ্রেণীর করোনা-যোদ্ধা তথা জেলার পুলিশ কর্মীদের আপদকালীন বা দ্রুত পরিষেবা দিতে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশের উদ্যোগে তৈরি হল, আপদকালীন কন্ট্রোল রুম বা ERSS (Emergency Response Support System)। গতকাল (১৭ সেপ্টেম্বর), এক সোশ্যাল বার্তায় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “অত্যাধুনিক পুলিশী পরিষেবার অঙ্গ হিসাবে অন্যান্য জেলার সঙ্গে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাতেও চালু হতে চলেছে, Emergency Response Support System (ERSS)। ইতিমধ্যেই, জেলায় এসেছে প্রযুক্তি বিষয়ক যন্ত্রাংশ এবং শুরু হয়েছে ট্রেনিং।” এও জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার, বিশ্বকর্মা পুজোর দিন, নবনির্মিত ERSS কক্ষটির দ্বারোদঘাটন করেছেন পুলিশ সুপার শ্রী দীনেশ কুমার এবং এই কক্ষটি সম্প্ৰতি পরলোকগত করোনা-যোদ্ধা সাব ইন্সপেক্টর অতনু প্রামানিক এর নামে উৎসর্গ করা হয়েছে “অতনু স্মৃতি ভবন” হিসাবে। এই, উন্নত পরিষেবার মধ্য দিয়ে, পরবর্তী সময়ে সংক্রমিত করোনা যোদ্ধা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষকেও পরিষেবা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে।

.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে