সংক্রমণে ফের শীর্ষে মেদিনীপুর, আক্রান্ত ৭৬ জন, খড়্গপুরে ২৭ জন, জেলায় সংক্রমিত ১৬৭ জন

thebengalpost.in
জেলায় করোনা সংক্রমিত ১৪৩ জন :
.

দ্য বেঙ্গল পোস্ট, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৮ সেপ্টেম্বর: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার আরটি-পিসিআর (১৩০) ও র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট (৩৭) মিলিয়ে জেলায় করোনা সংক্রমিত হয়েছেন , ১৬৭ জন (রাজ্যের বুলেটিন অনুযায়ী ২৩০ জন)। এর মধ্যে, শুধু মেদিনীপুর শহরে ও শহরতলীতেই সংক্রমিত ৭৬ জন! খড়্গপুর শহরে ২৭ জন। এছাড়াও, ঘাটাল, ডেবরা, চন্দ্রকোনা’তে একাধিক জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। গত চব্বিশ ঘণ্টায় জেলায় সুস্থ হয়েছেন প্রায় ১৫০ জন। এখনো পর্যন্ত (শুক্রবার সন্ধ্যার জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী) জেলায় সক্রিয় বা চিকিৎসাধীন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা হল ২৮৪১ জন (মোট আক্রান্ত ৮০৫৬ জন)। জেলায় করোনা সংক্রমিত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১১৯ জনের।

thebengalpost.in
জেলায় ফের সংক্রমিত ১৬৭ :

.

মেদিনীপুর শহরের রাঙামাটি, হবিবপুর, ধর্মা, সিপাই বাজার প্রভৃতি এলাকায় পূর্বেই গোষ্ঠী সংক্রমণের আশংকা করা হয়েছিল। সেজন্যই, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা স্বাস্থ্য ভবনের উদ্যোগে, ওই সমস্ত এলাকাকে র‌্যান্ডম অ্যান্টিবডি টেস্টের জন্য বেছে নেওয়াও হয়েছিল। দেখা গিয়েছিল (গত ২৬ আগস্ট জেলা স্বাস্থ্য ভবন ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী), ওইসব এলাকায় প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৫ জন উপসর্গহীন করোনায় আক্রান্ত। জেলা স্বাস্থ্য ভবনের সেই সেরো-সার্ভিল্যান্স (Sero-Surveillance) বা অ্যান্টিবডি নির্ণায়ক সমীক্ষা যে, নিতান্ত অমূলক বা অবাস্তব নয়, তা প্রতিমুহূর্তে প্রমাণিত হচ্ছে। মেদিনীপুর শহরের সংক্রমণ চিত্র বিশ্লেষণ করলেই দেখা যাবে, প্রথম থেকে রাঙামাটি, সিপাইবাজার, মির্জাবাজার, হবিবপুর, পাটনাবাজার এলাকা একটা বড়সড় জায়গা দখল করে বসে আছে। এছাড়াও, আবাস, তোড়াপাড়া, দ্বারিবাঁধ পুলিশলাইনেও সংক্রমিতের সংখ্যা কম নয়! তবে, পুলিশ লাইনে যেহেতু প্রথম সারির ‘করোনা যোদ্ধা’রা থাকেন, তাই তাঁদের পারস্পরিক সংযোগ বা সংস্পর্শ অনেক বেশি হওয়ায়, সংক্রমণও স্বাভাবিকভাবে বেশি। তবে, এই মুহূর্তে, নতুন সংক্রমণ-ক্ষেত্র হিসেবে যোগ দিয়েছে শরৎপল্লী, কুইকোটা, গোলকুঁয়াচক প্রভৃতি এলাকা। প্রায় প্রতিদিনই দেখা যাচ্ছে, পূর্বোক্ত এলাকাগুলি ছাড়াও এই এলাকাগুলিতে সংক্রমিত হচ্ছেন এক বা একাধিক ব্যক্তি। এক্ষেত্রে, পারিবারিক সংক্রমণের আধিক্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতের ফলাফল অনুযায়ী, শহরের রাঙামাটিতে ৭ জন সংক্রমিত হয়েছেন। এর মধ্যে, দুটি পরিবার থেকেই (যথাক্রমে, ৩ জন ও ২ জন) ৫ জন এবং ওই এলাকার আরো ২ জন সহ মোট ৭ জন সংক্রমিত হয়েছেন। হবিবপুর এবং হবিবপুর লাগোয়া সূর্যনগর থেকে মোট ৪ জন সংক্রমিত হয়েছেন। এর মধ্যে সূর্যনগরের একটি পরিবারের দুই কিশোরী (১৩ ও ৭) সংক্রমিত হয়েছেন।‌ হবিবপুরেও একই পরিবারের দু’জন (৬০ বছরের প্রৌঢ় ও ৪০ বছরের মহিলা) সংক্রমিত হয়েছেন। এদিকে, ধর্মা সংলগ্ন রামকৃষ্ণনগরে একই পরিবারে বাবা ও ছেলে (৪০ ও ৯) সংক্রমিত হয়েছেন বলে জানা গেছে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে। ধর্মাতে অরো একটি পরিবারে বাবা ও ছেলে (৫৬ ও ২৬) সংক্রমিত হয়েছেন। এছাড়াও, শেখপুরাতে একই পরিবারের ২ জন সহ মোট ৩ জন, শরৎপল্লী’তে দুটি পরিবারের ৪ জন সহ ওই এলাকায় মোট ৬ জন‌,‌ দ্বারিবাঁধে একই পরিবারের ২ জন সংক্রমিত হয়েছেন। গোলকুঁয়াচকে ২ জন ও পুলিশ লাইনে ২ জন সংক্রমিত হয়েছেন। অপরদিকে, আবাস, কুইকোটা, মির্জাবাজার, কোতবাজার, উদয়পল্লী, নতুনপল্লী প্রভৃতি এলাকাতেও এক বা একাধিক ব্যক্তির করোনা রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে। অন্যদিকে, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের এক হাউস স্টাফের (২৩) রিপোর্ট গতকাল পজিটিভ এসেছে। এছাড়াও, করোনা সংক্রমিত হয়েছেন জেলা স্কুল শিক্ষা দপ্তরের এক প্রাক্তন আধিকারিক। সবমিলিয়ে, কোতোয়ালী থানা এলাকায় প্রায় ৭৬ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে, আরটি-পিসিআর রিপোর্ট অনুযায়ী।

thebengalpost.in
সংক্রমণ‌ কমলেও এখনই স্বস্তি নেই :

.

অন্যদিকে, গতকালের জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, খড়্গপুরে সংক্রমিত হয়েছেন ২৭ জন। এরমধ্যে, ইন্দা (৩ জন), মালঞ্চ (২ জন), খরিদা (২ জন), শ্রীকৃষ্ণপুর (২ জন) সহ নিউ সেটেলমেন্ট, নিমপুরা, কৌশল্যা, হরিজনবস্তি, সি আর নগর প্রভৃতি এলাকাতে থেকেও সংক্রমিতের সন্ধান পাওয়া গেছে। সালুয়া ইএফআর ক্যাম্পের এক জওয়ানের রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে এদিন। এদিকে, ডেবরার চন্ডীপুরের এক ব্যক্তি (৪০) ও শ্রীবল্লভপুর এলাকার এক যুবক (২৮) ছাড়াও, অ্যান্টিজেন ‌টেস্টে আরো ৪ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। চন্দ্রকোনা ২ নং এলাকার কুয়াপুর ও যদুপুর এ ২ জন তরুণী (যথাক্রমে ২৬ ও ১৬)’র রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। সবং‌‌ এলাকায় অ্যান্টিজেন‌ টেস্টে ৩ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। এছাড়াও, ঘাটাল মহকুমার ঘাটাল, দাসপুর থেকে একাধিক ব্যক্তি সংক্রমিত হয়েছেন। সবমিলিয়ে, জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী বৃহস্পতিবার মোট ১৬৭ জন সংক্রমিত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এরমধ্যে, বেশিরভাগজন উপসর্গহীন হলেও, একাধিক জনই স্বল্প উপসর্গযুক্ত ও ভারি উপসর্গ যুক্ত আছেন, যাদের ইতিমধ্যে করোনা হাসপাতাল ও সেফ হোমে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে