‘করোনার দ্বিতীয় ঢেউ’ এর আশঙ্কা করে প্রস্তুতি পশ্চিম মেদিনীপুরেও, ‘হোম আইসোলেশন’ এও পাবেন পছন্দমতো চিকিৎসা পরিষেবা

thebengalpost.in
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা স্বাস্থ্য ভবন :
.

মণিরাজ ঘোষ, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৩ নভেম্বর: আমেরিকা, ইংল্যান্ড, ইতালি সহ বিভিন্ন দেশে ‘করোনার দ্বিতীয় ঢেউ’ পৌঁছে গেছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। ভারতে এখনো সেরকম পরিস্থিতি না হলেও, দৈনিক সংক্রমণ ৩৮,০০০-৪০,০০০ এর আশেপাশেই আছে। শীতের মরশুমে যেকোনো মুহূর্তে সেই সংক্রমণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে! ডিসেম্বরের মধ্যে ভ্যাকসিন যদি আসেও, সাধারণ মানুষের কাছে তা পৌঁছতে পৌঁছতে আরও ৬-৮ মাস। অপরদিকে,‌ দেশের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে ‘করোনা সংক্রমণ’ এর দ্বিতীয় ঢেউ আশঙ্কা করা হয়েছিল, পুজোর পরেই। আশার কথা হল, সেই ঢেউ এখনও না এলেও, সংক্রমণ কমেনি! গড়ে ৪০০০ জন সংক্রমিত হচ্ছেন প্রতিদিন। তবে, পুজোর প্রভাব বা শীতের প্রভাব পড়তে পড়তে আরো এক-দু’সপ্তাহ লাগতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তার থেকেও বড় কথা, এই সেকেন্ড ওয়েভ (Second Wave) বা দ্বিতীয় ঢেউ আসতে পারে যেকোনো মুহূর্তেই, তার আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে অসুবিধে কোথায়, এমনটাই মত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বা স্বাস্থ্য কর্তাদের। ডিসেম্বর থেকে স্কুল, কলেজ ও রেল পরিষেবা স্বাভাবিক হলে, সংক্রমণ বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে, উপসর্গহীন বা স্বল্প উপসর্গযুক্ত অনেকেই থাকতে পারেন, যাঁদের হাসপাতালে না পাঠিয়েও বাড়িতে উপযুক্ত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হলেই সুস্থ হয়ে যাবেন! মূলত সেই পরিস্থিতির কথা ভেবেই রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তর প্রস্তুতি নিয়েছে। তৈরি রাখতে চাইছেন, রাজ্যের চিকিৎসক মহলকে। এমবিবিএস চিকিৎসক ছাড়াও, পরবর্তী সময়ে (পরিস্থিতি অনুযায়ী) গ্রামীণ চিকিৎসকদেরও কাজে লাগানো হতে পারে বলে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে। এই বিষয়ে একটি বৈঠকও হয়েছে বলে জানা যায়। তবে, পুরোটাই আগামী দিনের পরিস্থিতি বা সংক্রমণ বৃদ্ধির উপর নির্ভর করছে বলে স্বাস্থ্যকর্তারা জানিয়েছেন। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ নিমাই চন্দ্র মন্ডলও এই বিষয়ে জানিয়েছেন, “রাজ্য থেকে যেভাবে নির্দেশ আসবে সেভাবেই এগোনো হবে। আমরা সব রকম ভাবেই প্রস্তুত।” সূত্রের খবর অনুযায়ী, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য, চিকিৎসকদের সর্বভারতীয় সংগঠন আইএমএ বা ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (Indian Medical Association) এর ৮ জন চিকিৎসক বা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ইতিমধ্যেই উপযুক্ত প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তাঁরাই আগামীদিনে, প্রাথমিকভাবে আইএমএ (IMA)’র অন্যান্য সদস্যদের অর্থাৎ অন্যান্য চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেবেন এবং পরবর্তী সময়ে রাজ্যের নির্দেশ এলে, গ্রামীণ চিকিৎসকদেরও প্রশিক্ষণ দিতে পারেন।

thebengalpost.in
পশ্চিম মেদিনীপুরে হোম আইশোলেশনেও মিলবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরিষেবা :

.
.

এই মুহূর্তে রাজ্যের মধ্যে করোনা সংক্রমণের নিরীখে প্রথম পাঁচটি স্থানে আছে যথাক্রমে, কলকাতা, উত্তর চব্বিশ পরগণা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা, হাওড়া ও হুগলি। এর পরের তিনটি স্থানে আছে যথাক্রমে, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর ও নদীয়া। আপাতত, এই ৮ টি জেলাতেই প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হবে বলে জানা গেছে। তবে, প্রথম পাঁচটি জেলার প্রশিক্ষণ শুরু হবে, আগামী দু-একদিনের মধ্যেই। পরের ধাপে পশ্চিম মেদিনীপুর সহ বাকি জেলাগুলির ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হবে বলে জানা গেছে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার যে ৮ জন চিকিৎসক বা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এই ট্রেনিং প্রদান করবেন তাঁরা হলেন, উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (১) ডাঃ সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গী, আইএমএ’র প্রেসিডেন্ট বা সভাপতি ডাঃ তারাপদ ঘোষ, সেক্রেটারি বা সম্পাদক তথা বর্তমানে ডিস্ট্রিক্ট ক্লিনিক্যাল কো-অর্ডিনেটর ডাঃ কৃপাসিন্ধু গাঁতাইত, ডাঃ গোলক মাঝি, ডাঃ হরিপদ গিরি, ডাঃ রবি হেমব্রম, ডাঃ সূর্য শেখর দাস এবং ডাঃ আর.এন প্রধান। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ক্ষেত্রে আইএমএ’র মোট সদস্য ১৬০। খুব তাড়াতাড়ি (চলতি সপ্তাহেও হতে পারে), এই সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের সর্বশেষ করোনা রিপোর্ট অনুযায়ী, জেলায় এই মুহূর্তে চিকিৎসাধীন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৯১৮ জন। এর মধ্যে, উপসর্গযুক্ত ১৫০ জন মাত্র করোনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। বাকি ৭৬৮ জন অর্থাৎ ৮৪ শতাংশ আছেন হোম আইসোলেশনে। অনেক ক্ষেত্রেই পরবর্তী সময়ে, তাঁদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে আবার অনেকেই সঠিকভাবে পরিষেবা না পাওয়ার অভিযোগ করছেন, সেই সমস্ত স্বল্প উপসর্গযুক্ত বা উপসর্গহীন একশো শতাংশ মানুষের কাছে চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্যই এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্তারা। এই বিষয়ে জেলার উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গী জানিয়েছেন, “পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার আইএমএ’র সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়টি শুরু হবে। তাঁরা পরবর্তী সময়ে, বিভিন্ন এলাকা অনুযায়ী হোম আইসোলেশনে থাকা করোনা সংক্রমিত’দের চিকিৎসা পরিষেবা দিতে পারবেন। এক্ষেত্রে লিস্ট ধরে ধরে, জেলা প্রশাসনের অ্যাডমিশন সেল বা কন্ট্রোল রুম থেকে ওই চিকিৎসকদের ফোন নাম্বার জানিয়ে দেওয়া হবে করোনা আক্রান্তদের। তাঁরা ওই চিকিৎসকদের সাথে ফোনেও যোগাযোগ করে নিতে পারবেন, আবার অনেক চিকিৎসক প্রাইভেট প্র্যাকটিস করেন, সেখানে গিয়েও যোগাযোগ করতে পারবেন। অনেক ক্ষেত্রে, হোম আইসোলেশন বা গৃহ নিভৃতবাসে যাঁরা থাকেন, তাঁরা উন্নত পরিষেবা আশা করেন। তাঁদের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা ফলপ্রসূ হবে। তাঁরা এবার থেকে, নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী প্রাইভেট পরিষেবাও নিতে পারবেন। অপরদিকে, সরকারিভাবে পরিষেবা দেওয়ার বিষয়টি তো থাকছেই।” আইএমএ’র সম্পাদক তথা ডিস্ট্রিক্ট ক্লিনিক্যাল কো-অর্ডিনেটর ডাঃ কৃপাসিন্ধু গাঁতাইত জানিয়েছেন, “প্রথম পাঁচটি জেলা এই প্রশিক্ষণ পর্ব আগে শুরু করবে। তারপর পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাতেও শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে আইএমএ’র ১৬০ জন চিকিৎসক প্রশিক্ষণ নেবেন।” তবে, গ্রামীণ চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়টি পরবর্তী সময়ে রাজ্যের নির্দেশ অনুযায়ী শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ডাঃ সারেঙ্গী ও ডাঃ গাঁতাইত দু’জনই। যদিও গ্রামীণ চিকিৎসকদের একটি সংগঠনের জেলা সম্পাদক দিলীপ পান জানিয়েছেন, “সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দিতে আমরা সবসময়ই প্রস্তুত। গ্রামীণ এলাকায় যাঁরা হোম আইসোলেশনে আছেন, আমরা প্রশিক্ষণ নিলে তাদের নিঃসন্দেহে সুবিধা হবে। তবে, প্রশাসন যেন আমাদেরকেও করোনা যোদ্ধা বা স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে গণ্য করে, করোনা প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেন।”

.
.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে