হাজার লোক খাইয়ে নয়, মায়ের পারলৌকিক ক্রিয়ায় রক্তদান শিবির এবং দুঃস্থ সেবা করে পথপ্রদর্শক জঙ্গলমহলের প্রধান শিক্ষক

.

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, বাঁকুড়া, ১৮ অক্টোবর: অবিভক্ত মেদিনীপুরের ‘সিংহ শিশু’ ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর’কে তাঁর মাতা ভগবতী দেবী বলেছিলেন, “ঈশ্বর তুই তো এতো কিছু করছিস, যদি পারিস, অকাল বৈধব্যের যন্ত্রনা সহ্য করা এই অসহায় কন্যা সন্তানগুলির দুঃখমোচন করিস!” বীর সন্তান বিদ্যাসাগর ‘বিধবা বিবাহ আইন’ (১৮৫৬) প্রচলন করে, মায়ের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেছিলেন! মেদিনীপুরের পাশের জেলা বাঁকুড়া জেলার সারেঙ্গা থানার কুসুমটিকরি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার মহান্তি বাংলার নবজাগরণের পুরোধা পুরুষ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর’কে আদর্শ মেনে, মায়ের পারলৌকিক ক্রিয়ায় সাধ্যমতো সামাজিক কাজকর্মের মধ্য দিয়ে সার্থক অর্থেই মাতৃ ঋণ পরিশোধের চেষ্টা করলেন, চেষ্টা করলেন মায়ের আত্মাকে পরম শান্তি দিতে! কারণ, একজন সু-সন্তানই মায়ের গর্ব ও অহংকার। মা শুধু সন্তানের কাছে এটুকুই চান, “সুসন্তান হোক, মানুষের মত মানুষ হোক।” মায়ের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে তাই হাজার লোক খাইয়ে ‘নাম কিনবার’ গতানুগতিক পথে হাঁটেননি তিনি! একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে, সমাজকেও পথ দেখালেন তিনি। জন্মদাত্রী মায়ের স্মৃতিতে নানা সমাজসেবা মূলক কর্মসূচি গ্রহণ করে, আক্ষরিক অর্থেই সুসন্তান হিসেবে স্বর্গগতা মায়ের আত্মাকে পরিতৃপ্ত করলেন!

thebengalpost.in
তাপস কুমার মহান্তি দুঃস্থ মানুষদের হাতে তুলে দিলেন শীতবস্ত্র ও খাদ্যসামগ্রী :

.
.
thebengalpost.in
বিজ্ঞাপন :

বাঁকুড়া জেলার সারেঙ্গা থানার কুসুমটিকরি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার মহান্তি তাঁর সদ‍্য প্রয়াত মা বীণাপাণি মহান্তির স্মৃতির উদ্দেশ্যে রক্তদান শিবির, দুঃস্থ ব‍্যক্তিদের মধ‍্যে শীতবস্ত্র বিতরন প্রদান সহ নানা সমাজসেবা মূলক কর্মসূচি গ্রহণ করলেন। তাপসবাবুর বাড়ি বাঁকুড়া জেলার সারেঙ্গা থানার জাম্বনি গ্রামে। তাপসবাবুর বাবা চিত্তরঞ্জন মহান্তি ছিলেন বাঁকুড়া জেলার রানিবাঁধ থানার হলুদ কানালি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন ছাত্রদরদী শিক্ষক। তাপসবাবুর বাবা প্রয়াত হয়েছেন অনেকদিন আগেই। তাপসবাবুর মা বীণাপাণি দেবী সম্প্রতি প্রয়াত হন। প্রয়াত মায়ের পারলৌকিক ক্রিয়াকর্মের পাশাপাশি মায়ের স্মৃতিতে, এই করোনা আবহের মাঝেই, কিছু সামাজিক কর্মসূচির পরিকল্পনা গ্রহণ করেন তাপসবাবু। তিনি তাঁর এই পরিকল্পনার কথা পরিবার পরিজনদের জানালে, তাঁর পরিবার-পরিজনসহ এলাকার ছাত্র-যুব থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ এই কর্মসূচিকে সফল করতে এগিয়ে আসেন। তাপসবাবুর ভাইপো অঞ্জন মহান্তি রক্তদান শিবিরের মতো এই মহান সমাজসেবা মূলক কর্মসূচি সফল করতে এগিয়ে আসেন। শিবিরে তাপস বাবু নিজেও রক্ত দান করেন। তাঁর কন্যা ও বর্তমানে কলেজ ছাত্রী সুবর্না মহান্তিও রক্ত দান করেন।তাপসবাবু জানান, জাম্বনী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত এই রক্তদান শিবিরে মোট ৫৩ জন রক্তদাতা রক্তদান করেছেন, যার মধ্যে মধ্যে ১০ জন রক্তদাতা তাঁর পরিবারের সদস্য-সদস‍্যা। এই কর্মকাণ্ডকে সফল করার জন্য তাপস বাবুর সহকর্মী অনিমেষ মিশ্র, অপূর্ব দাশ, শ্যামল গরাই এবং বাঁকুড়া জেলার সারেঙ্গা প্রাথমিক শিক্ষক শিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ সাধন মহান্তিসহ অনেকেই রক্ত দান করেন। রক্তদাতাদের মধ‍্য যেমন ছিলেন তাপস বাবুর প্রাক্তন ছাত্র তথা কলেজ পড়ুয়া তরুণ অরিজিৎ মাঝি, তেমনই ছিলেন গ্রামের বরিষ্ঠ নাগরিক অসিত হালদার। “রক্তদান জীবনদান” এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে করোনা উদ্ভুত পরিস্থিতিতে, মাতৃবিয়োগে শোকোস্তব্ধ শিক্ষকের এহেন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকাবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সকলে। তাপস বাবু আরও জানান, রক্ত দান কর্মসূচির পাশাপাশি চব্বিশ জন দুঃস্থ মানুষকে শীতবস্ত্র প্রদান করা হয়েছে তাঁদের পরিবারের পক্ষ থেকে।

thebengalpost.in
রক্তদান শিবির :

.
.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে