সিনেমাকেও হার মানায় পশ্চিম মেদিনীপুরের নৃশংসতা! প্রেমে বাধা হওয়ায় শাশুড়িকে গলার নলি কেটে খুন করল বৌমা ও তার প্রেমিক

thebengalpost.in
সাংবাদিক বৈঠকে পুলিশ আধিকারিকরা , পেছনে সুস্মিতা ও গোরাচাঁদ :
.

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, দাসপুর (পশ্চিম মেদিনীপুর), ১১ অক্টোবর: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাসপুর থানার শ্যামসুন্দরপুরের ঘটনা যেন সিনেমাকেও হার মানায়! বৌমার অবৈধ প্রণয় বা পরকীয়া জেনে ফেলায় খুন হতে হল শাশুড়িকে। তারপর, যথারীতি সিনেমার মতোই নাটক করা শুরু করলো খুনি বৌমা ও তার প্রেমিক-পুরোহিত। তবে, সিনেমার সাথে পার্থক্য এটাই, খুনের কিনারা করতে দাসপুর থানার পুলিশকে বেশি বেগ পেতে হলনা! মাত্র কয়েক ঘণ্টার জেরাতেই, দোষ কবুল করলো বৌমা। শুক্রবারের এই ঘটনায় শনিবার (১০ অক্টোবর), অভিযুক্ত বৌমা সুস্মিতা গোস্বামী ও তার প্রেমিক গোরাচাঁদ মুখোপাধ্যায় কে ঘাটাল আদালতে তোলা হলে বিচারক দু’দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

thebengalpost.in
মৌসুমী গোস্বামী (৬৫) খুন‌ হওয়ার পর :

.

বেশ কয়েক বছর আগে, শ্যামসুন্দরপুরের শুভজিৎ গোস্বামীর সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল সুস্মিতা’র। তাদের বছর পাঁচেকের একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তানও আছে। কিন্তু, সুস্মিতার জীবনে নতুন ‘প্রেম’ আর সুখের সংসারে ‘বিষবৃক্ষ’ রূপে আবির্ভূত হলেন, বাড়ির পুরোহিত মশাই গোরাচাঁদ মুখোপাধ্যায়। বছর চারেক হল তারা পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। বছরখানেক আগে থেকেই সন্দেহ হয় শাশুড়ির। আপত্তিকর অবস্থায় একদিন দেখেও ফেলেন! এরপরই, খুনের ছক কষে সুস্মিতা ও তার প্রেমিক গোরাচাঁদ। শুক্রবার, স্বামী শুভজিৎ গোস্বামী বাড়িতে ছিলেন না। সেই সুযোগটাই নেয় সুস্মিতা। ওই দিন বাড়িতে পুজো করতে আসার কথা ছিল, গোরাচাঁদের। কিন্তু, শ্বশুরকে সুস্মিতা জানায়, গোরাচাঁদ বাবু আসবেন না, তিনি নিজেই যেন পুজো করে নেন। শ্বশুর পুজোতে ব্যস্ত হয়ে যায়, এদিকে, স্নান সেরে বাড়িতে ঢোকেন বৃদ্ধা শাশুড়ি মৌসুমী গোস্বামী (৬৫)। এরপরই, গোরাচাঁদ বাড়িতে ঢুকে বালিশ চাপা দিয়ে মৌসুমী দেবী’কে হত্যার চেষ্টা করেন। কিছুক্ষণ ধস্তাধস্তির পর, সুস্মিতার নিয়ে আসা ছুরি দিয়ে তাঁর গলার নলি কেটে দেন দু’জনে মিলে। এরপর গোরাচাঁদ পালিয়ে যায়। সুস্মিতা ঘরের আসবাবপত্র লন্ডভন্ড করে দেয়, তারপর চিৎকার শুরু করে। শ্বশুর ও পাড়া-প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। কেউই খুঁজে পায়না, কে কিভাবে খুন করে পালিয়ে গেল! পুলিশ এসেও প্রথমে ধন্দে পড়ে। শাশুড়ির মৃতদেহ জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকে সুস্মিতা। বলে, টাকা-পয়সা ও গয়নাগাটিও নিয়ে পালিয়ে গেছে দুষ্কৃতীরা! এদিকে, ততক্ষণে পরিষ্কার জামা কাপড় পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে গেছে গোরাচাঁদ পুরহিতও। বিভিন্ন নাটক করে, পুলিশকে সাহায্য করার ঢং করে।
শ্যামসুন্দরপুরের গোস্বামী বাড়ি :

.

ধীরে ধীরে রহস্য ভেদ করে পুলিশ। গয়নাগাটি পাওয়া যায় ঘর থেকে। ছুরির খাপটিও পাওয়া যায় রান্নাঘর থেকে। সুস্মিতাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় পুলিশ। কয়েক ঘণ্টার জেরার মুখে ভেঙ্গে পড়ে সুস্মিতা। সব খুলে বলে পুলিশকে। এরপর গোরাচাঁদকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শনিবার দু’জনকেই আদালতে পেশ করে পুলিশ। দাসপুর থানার ওসি সুদীপ ঘোষাল ও সিআই দেবাশিস ঘোষকে সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন এসডিপিও অগ্নীশ্বর চৌধুরী। তিনি বলেন, “ঠান্ডা মাথায় বাড়ির বউমা সুস্মিতা ও বাড়ির পুরোহিত গোরাচাঁদ মিলে শাশুড়ি মৌসুমী গোস্বামী’কে খুন করেছে। প্রমাণ লোপাটের চেষ্টাও করেছিল। অবশেষে জেরায় দোষ কবুল করেছে সুস্মিতা গোস্বামী।” এদিন, সাংবাদিক বৈঠকে সুস্মিতা ও গোরাচাঁদ’কে উপস্থিতও করা হয়েছিল পুলিশের তরফে।

thebengalpost.in
সাংবাদিক বৈঠকে পুলিশ আধিকারিকরা , পেছনে সুস্মিতা ও গোরাচাঁদ :

.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে