দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৯ এপ্রিল: ভোট আসে ভোট যায়! প্রান্তিক মানুষের জীবন-ধারনের প্রাথমিক সমস্যাগুলি গভীর থেকে গভীরতর হয়। ভোটের আগে ‘আশ্বাস’, ভোটের পর নেতাদের অপেক্ষায় হাহুতাশ! জঙ্গলমহল পশ্চিম মেদিনীপুরের (শালবনী ব্লকের) অন্তর্গত মৌপালের বাসিন্দাদের মুখ থেকে আজ সাত সকালে এমনই হতাশাভরা বক্তব্য বেরিয়ে এল। এক বাসিন্দা বললেন, “৫-৬ মাস ধরে আমাদের এলাকার শতাধিক গ্রামবাসী তীব্র জলকষ্টে আছি। আগে একটা সজলধারা প্রকল্পের জল আমরা পেতাম। আজ ৫-৬ মাস ধরে তা খারাপ হয়ে পড়ে আছে। দূর-দূরান্ত থেকে জল নিয়ে আসতে হচ্ছে। শুধু পানীয় জলই নয়, দৈনন্দিন ব্যবহারের জল টুকুও পাওয়া যাচ্ছে না। এতজন এলাকাবাসী একসাথে সমস্যায় পড়েছি, তাও প্রশাসনের ভ্রুক্ষেপ নেই। এদিকে গরম পড়তেই নিজেদের কুঁয়ো গুলিও শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছে! ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু, ভোট যেতেই আর নেতা-আধিকারিকদের দেখা নেই!” তাই বাধ্য হয়ে, আজ সকাল ৮ থেকে এলাকাবাসী, বিশেষত বাড়ির মহিলারা ভাদুতলা – পিড়াকাটা রাজ্য সড়ক অবরোধ করেন বলে জানিয়েছেন তাঁরা। প্রায় ঘন্টাদুয়েক অবরোধ চলার পর পিড়াকাটা ফাঁড়ি থেকে পুলিশ আধিকারিকরা গিয়ে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের সাথে কথা বলেন এবং সমস্যা সমাধানের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্রুত আলোচনার আশ্বাস দিলে অবরোধ উঠে যায়।


Whatsapp Group এ
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শালবনী ব্লকের মৌপাল, পিড়াকাটা শুধু নয়; জঙ্গলমহলের বিস্তীর্ণ এলাকাতে গরম পড়লেই তীব্র জলকষ্ট দেখা দেয়। সারা বছর ধরে পানীয় জলের সমস্যা তো বিভিন্ন এলাকাতে আছেই, গরমের সময়ে জঙ্গলমহলের এই সমস্ত রুক্ষ-শুষ্ক এলাকাতে দৈনন্দিন ব্যবহারের জল টুকুও পাওয়া যায়না বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন এলাকায় সজলধারা প্রকল্প কিংবা সাব-মার্সেবল বসিয়ে জলাধার থেকে পাইপলাইনে করে জল পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ঠিকই; কিন্তু সেই প্রক্রিয়া সমস্ত জায়গাতে সমান ভাবে সম্পন্ন হয়নি বলে অভিযোগ। এখনও বাড়ি বাড়ি জল পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পালন করতে পারেনি সরকার। এর মধ্যেই আবার কোনো এলাকার সাব-মার্সেবল বা জলের পাইপ লাইনে কোথাও সমস্যা হলে তা সারাতে সারাতে ৫-৬ মাস থেকে ১-২ বছর লেগে যায়! এই পরিস্থিতিতে, ব্যক্তিগতভাবে যাদের সাব-মার্সেবল বসানোর সাধ্য নেই, সংখ্যাগরিষ্ঠ সেই অংশ তীব্র জলকষ্টে ভোগেন। এদিক ওদিক থেকে জল সংগ্রহ করে দিনের পর দিন জীবনধারণ করা সম্ভব হয় না! আর সেই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটে রাস্তা অবরোধের মতো বিক্ষোভ-প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে। আরও অনেক মানুষ এর ফলে অসুবিধায় পড়েন বা পড়ছেন, জানার পরও শুধুমাত্র প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্যই তাঁরা পথ অবরোধ করতে বাধ্য হন বলে জানাচ্ছেন একাধিক আন্দোলনকারী। আজ মৌপালের এই সমস্যার বিষয়ে শালবনীর বিডিও প্রণব দাসের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি জানিয়েছেন, “ওই এলাকার একটি সাব-মার্সেবল খারাপ হয়ে গেছে বলে খবর পেয়েছি। ফলে এলাকাবাসীকে একটু দূর থেকে জল আনতে হচ্ছে। এ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করে দেওয়া হবে।”










