“লকডাউনের হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে হবে”, ‘রমজান’ আর ‘রামনবমী’ তে ধৈর্য্য-অনুশাসনের বার্তা প্রধানমন্ত্রীর, পরিযায়ীদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, নিউ দিল্লি, ২১ এপ্রিল: মঙ্গলবার রাত্রি ৮টা ৪৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ শুরু করার আগে, দেশজুড়ে একটাই জল্পনা শুরু হয়েছিল, আবার কি তবে “লকডাউন” এর পথে হাঁটতে চলেছে দেশ! না, ২২ শে মার্চ, ২০২০ (লকডাউন ঘোষণা) এর পুনরাবৃত্তি হলনা। দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী বললেন, “দেশকে লকডাউনের হাত থেকে বাঁচাতে হবে। এই সঙ্কটের সময়ে দেশকে লকডাউনের দিকে নিয়ে যাবেন না!” ধৈর্য্য, কঠোর অনুশাসন আর আত্ম-সংযমের মাধ্যমে ‘করোনা’ কে জয় করার বার্তা দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেন, “ভ্যাকসিন নিলেও, এইগুলি পালন করতে হবে। একান্ত প্রয়োজন না পড়লে বাড়ির বাইরে বেরোবেন না।” তার আগে প্রধানমন্ত্রী অবশ্য স্বীকার করে নেন, “করোনার দ্বিতীয় ঢেউ তুফানের মতো আছড়ে পড়েছে।” তবে, তিনি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে আশ্বাস দিয়ে বলেন, “প্রথম যখন করোনা এহেছিল, তার থেকে এখনের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। সেই সময় করোনার সঠিক চিকিৎসা জানা ছিলনা, হাসপাতাল প্রস্তুত ছিলনা, ওষুধ পত্রও ছিলনা। এখন চিকিৎসা ও ওষুধ পত্র আয়ত্তের মধ্যে আছে, হাসপাতালে উন্নত পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে, ভ্যাকসিনও এসে গেছে। তাই ভয় পাওয়ার দরকার নেই, একটু সচেতনতা দেখালেই লকডাউন, কার্ফু কোনকিছুর প্রয়োজন পড়বে না!” এই প্রসঙ্গেই তিনি রমজান আর রামনবমীর আবেগ উসকে দিয়ে বলেন, “পবিত্র রমজান মাসের ৭ ম দিন আর নবরাত্রির শেষ দিন রামনবমীতে ধৈর্য্য, আত্ম সংযম আর অনুশাসনের অঙ্গীকার করতে হবে।” ভ্যাকসিন এবং অক্সিজেনের পর্যাপ্ত যোগানের জন্য তাঁর সরকার দিনরাত লড়াই করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

thebengalpost.in
জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ প্রধানমন্ত্রী’র :

মোবাইলে খবর পেতে জয়েন করুন
Whatsapp Group এ

এদিন জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লকডাউনের বিরোধিতা করে বলেন, “প্রতিটি রাজ্যকে অনুরোধ করব লকডাউনকে যেন শেষ অস্ত্র হিসেবে প্রয়োগ করা হয়। বরং মিনি কনটেনমেন্ট জোন তৈরি করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হোক।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনোভাবেই তিনি দেশের অর্থনীতিকে আর “মুখ থুবড়ে পড়ে যেতে” দিতে চান না! প্রসঙ্গত, ২০২০ এর ২৪ শে মার্চ থেকে করোনা-সংক্রমণ রুখতে চার দফায় মোট ৬৮ দিনের লকডাউন জারি করেছিল কেন্দ্র। তার জেরে দেশের অর্থনীতির কোমর কার্যত ভেঙে যায়। কর্মহীন হয়ে পড়েন সংগঠিত ও অসংগঠিত দুই ক্ষেত্রের বহু মানুষ। স্টেশনে স্টেশনে পরিযায়ী শ্রমিকদের ঢল নামে। পায়ে হেঁটে, সাইকেল চালিয়ে হাজার হাজার কিমি পথ অতিক্রম করে পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরার ছবি মোদী সরকারের কাছে বড়সড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একাধিক আর্থিক প্যাকেজ ও অন্যান্য নানা পদক্ষেপের জেরে সবে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল দেশের অর্থনীতি। তার মধ্যেই আছড়ে পড়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। সংক্রমণের হার গতবাড়ের তুলনায় আরও বেশি হওয়ায় চিন্তায় কেন্দ্র। সেই সঙ্গে গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো বিঁধছে রাজ্যে রাজ্যে অক্সিজেন আর করোনা টিকা (ভ্যাকসিনের)’র অভাব। শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী সহ কার্যত গোটা কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা বাংলার বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে মেতে থাকায় প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে বিজেপি নেতৃত্বকে। এই অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর এদিনের ভাষণ দেশবাসীকে কিছুটা হলেও আশ্বস্ত করবে বলে ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের।

thebengalpost.in
পরিযায়ীদের বাড়ি ফেরার ঢল দিল্লির আনন্দ মার্গ রেল স্টেশন ও বাস টার্মিনালে:

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর এদিনের ভাষণে, পরিযায়ী শ্রমিকদেরও আশ্বস্ত করেন এবং নিজেদের রাজ্যে ফেরার জন্য তাড়াহুড়ো করতে নিষেধ করেন। তিনি বলেন, “পরিযায়ীদের নিজেদের রাজ্যে ফেরার কোনও প্রয়োজন নেই। পরিযায়ী শ্রমিকদের দ্রুত ভ্যাকসিনও দেওয়া হবে।” প্রধানমন্ত্রী’র আশ্বাস সত্ত্বেও এদিন দিল্লির আনন্দ মার্গ রেল স্টেশন ও বাস টার্মিনালে পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরার ঢল নামে! ট্রেনে ছাড়াও বাসে এবং বাসের ছাদে গাদাগাদি করে চেপে যাওয়ার দৃশ্য কিন্তু ২০২০’র ভয়ঙ্কর স্মৃতিকেই উসকে দিল আবার। প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসবাণী সত্ত্বেও দিল্লি, রাজস্থান, ঝাড়খণ্ড, উত্তর প্রদেশ (প্রতি শনি ও রবিবার) প্রভৃতি রাজ্যের লকডাউন আর মহারাষ্ট্রে লকডাউনের সম্ভাবনা, পরিযায়ী শ্রমিকদের যে ফের রূঢ় বাস্তবের কন্টকাকীর্ণ পথে নামিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য!

thebengalpost.in
ঘরে ফেরার তাড়া :

আরও পড়ুন -   ভোট স্থগিত জঙ্গিপুরে! করোনার ছোবলে এবার প্রাণ হারালেন বাম প্রার্থী, সন্ধ্যা ৭ টার পর প্রচার বাতিল করল কমিশন