নির্বাচন আসছে বুঝিয়ে দিচ্ছে কেশপুর! ফের তৃণমূল-বিজেপি’র সংঘর্ষ, উভয়পক্ষের একাধিক কর্মী ভর্তি মেদিনীপুর মেডিক্যালে

.

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, কেশপুর (পশ্চিম মেদিনীপুর), ১৬ অক্টোবর: নির্বাচন আসছে বুঝিয়ে দিচ্ছে কেশপুর! ফের তৃণমূল-বিজেপি’র সংঘর্ষে আহত উভয়পক্ষের একাধিক! সামান্য ঘটনা থেকে অশান্তি-মারামারি-রক্তপাত। দুই দলের একাধিক কর্মী আহত হয়ে ভর্তি মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে। ঘটনা, কেশপুর ব্লকের আনন্দপুর থানার ৯ নম্বর অঞ্চলের রাজারডাঙ্গা এলাকার। বিজেপি কর্মী সমর্থকদের দাবি, মদ খেয়ে মাতলামি করার প্রতিবাদ করায়, পুরুষ-মহিলা নির্বিচারে মারধর করা হয় এলাকার মানুষকে। এরপর পুলিশ এসে, পুনরায় মারধর করে বিজেপি কর্মী সমর্থকদের। এদিকে, তৃণমূল শিবিরের দাবি, গতকাল (১৫ অক্টোবর), মেদিনীপুর শহরের মহামিছিলে যোগ দিয়ে বাড়ি ফিরলে, বিজেপি কর্মী সমর্থকরা ঘিরে ধরে মারধর করে। ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে এক তৃণমূল কর্মী। তাকে রক্ষা করতে গিয়ে আহত হয়েছে তার স্ত্রী’ও। দু’জনকেই মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

thebengalpost.in
কেশপুরে ফের তৃণমূল-বিজেপি’র সংঘর্ষ : :

.
thebengalpost.in
কেশপুরে ফের তৃণমূল-বিজেপি’র সংঘর্ষ :

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের কয়েকজন কর্মী গতকাল মেদিনীপুরের নিছিল জনসভা থেকে ফিরে, আনন্দপুরের কাছে রাজারডাঙ্গার একটি ক্লাবে মদ্যপান করছিল। তারপর, বিজেপি কর্মী সমর্থকদের বাড়ির সামনে গিয়ে হম্বিতম্বি শুরু করে এবং ইঁট-পাটকেল ছোড়ে। এরপর, বিজেপি কর্মী সমর্থকেরা প্রতিরোধ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। ঘটনায় উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। বিজেপি কর্মী সমর্থকদের অভিযোগ, কিছুক্ষণ পরে আনন্দপুর থানার পুলিশ এসে, বেছে বেছে বিজেপি কর্মী সমর্থকদের ঘরবাড়িতে ভাঙচুর চালায় এবং তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের নিয়ে লুটপাট চালায়। মহিলাদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। অভিযোগ অস্বীকার করে আহত এক তৃণমূল কর্মীর ছেলে জানায়, মিছিলে যোগদান করার জন্য তার বাবাকে মারধর করা হয়েছে। এই ঘটনায় বিজেপির ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা সহ-সভাপতি তন্ময় ঘোষ বলেন, “তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা মদ্যপান করে, পাড়ায় এসে হামলা করে। এরপর পুলিশকে সঙ্গে নিয়েও ভাঙচুর করে ও লুটপাট চালায়। পুলিশের গাড়িও ভাঙচুর করে তৃণমূল, কিন্তু দোষ দেওয়া হচ্ছে বিজেপি কর্মীদের নামে। তৃণমূলের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে, তাই হামলা, অশান্তি লুটপাট চালিয়ে এলাকার দখল নিতে চাইছে। কিন্তু, তা আর সম্ভব নয়। পুলিশ উপযুক্ত পদক্ষেপ না নিলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।”

thebengalpost.in
কেশপুরে ফের তৃণমূল-বিজেপি’র সংঘর্ষ :

.
thebengalpost.in
বিজেপি ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা সহ-সভাপতি তন্ময় ঘোষ :

অভিযোগ অস্বীকার করে, তৃণমূলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি বলেন, “গতকাল লক্ষ লক্ষ মানুষের ঐতিহাসিক সমাবেশ থেকেই প্রমাণিত, মানুষ বিজেপির কৃষি বিল এবং বিজেপি সরকার কে ছুঁড়ে ফেলতে চাইছে। এটা বিজেপি মেনে নিতে পারছে না। তাই, মিছিল শেষে কেশপুরের সমর্থকরা বাড়ি ফিরলে তাদের উপর হামলা করা হয়। আমাদের গুরুতর আহত কয়েকজনকে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে। অবিলম্বে বিজেপি এই সব বন্ধ করুক, তৃণমূল যদি একবার মাঠে নামে, একজন বিজেপি কর্মীও এলাকায় থাকতে পারবে না!” একই কথা বলেছেন, তৃণমূলের জেলা সম্পাদক তথা কেশপুরের একসময়ের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা মহঃ রফিক। তিনি বলেন, “সিপিএমের হার্মাদরাই এখন বিজেপির দুষ্কৃতী। এইভাবে, হামলা-অশান্তি চালালে, তৃণমূল এমন প্রতিরোধ করবে, সবাইকে দিলীপ ঘোষের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিতে হবে।” তৃণমূলের দাবি হাস্যকর বলে উড়িয়ে দিয়েছেন বিজেপির পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সহ-সভাপতি শিবু পানিগ্রাহী। তিনি বলেন, “বিজেপি এই ধরনের রাজনীতি করে না। মহঃ রফিক নিজে একজন দুষ্কৃতী। নিজের এলাকায় থাকতে পারে না, মেদিনীপুর শহরে লুকিয়ে থাকে। এইসব ভিত্তিহীন কথার কোনো গুরুত্ব নেই! আসলে কেশপুর তৃণমূলের শেষপুর হয়েই গেছে, এলাকা দখল করতে মরিয়া হয়ে আমাদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। পুলিশ উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করুক, নাহলে বিজেপি ছেড়ে কথা বলবেনা।”

thebengalpost.in
তৃণমূল জেলা সভাপতি অজিত মাইতি :

.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে