সন্ত্রাসের ‘আঁতুড়ঘর’ কেশপুর থেকে উদ্ধার তিন ড্রাম তাজা বোমা, সবংয়ে বিজেপি কর্মীর মৃত্যু বোমা বিস্ফোরণে

.

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, কেশপুর ও সবং, ২০ সেপ্টেম্বর: পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরের সেই দামোদর গ্রাম থেকেই উদ্ধার হল, তিন‌ ড্রাম (৯৮ টি) তাজা বোমা! দু’দিন আগেই (বৃহস্পতিবার রাতে) যে গ্রামে, বোমার আঘাতে মৃত্যু হয়েছিল এক নিরীহ কিশোর (১৪) ও এক তৃণমূল সমর্থক (৪২) এর। আজ (রবিবার), পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ, রাজ্য পুলিশের বোম্ব স্কোয়াড ও সিআইডি (CID) যৌথভাবে তদন্ত চালিয়ে ৯৮টি তাজা বোমা উদ্ধার করেছে বলে জানা যায় পুলিশ সূত্রে। সেই বোমা গ্রামের অদূরে ফাঁকা মাঠে নিষ্ক্রিয় করে, বোম্ব স্কোয়াড। একের পর এক বোমা নিষ্ক্রিয় করা (বা, ফাটিয়ে দেওয়া)’র সেই দৃশ্য দেখতে আর ক্যামেরাবন্দি করতে উৎসাহের অন্ত ছিল না, সাংবাদিক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের। পিছিয়ে ছিলেন না, পুলিশ ও সিআইডি কর্মীরাও! শুধু জেলা কেন সারা রাজ্যেই এই ধরনের ঘটনা নেহাতই বিরল, আল-কায়েদা জঙ্গীদের বন্দি করার মতোই! তবে, উৎসাহ আর বিস্ময় থাকলেও, এই ঘটনায় ফের আরেকবার কেশপুরের ভয়ঙ্কর রূপখানি আগ্নেয়গিরি’র মতোই বিস্ফারিত হয়ে উঠল জেলাবাসীর সম্মুখে! জেলা পুলিশ সুপার দীনেশ কুমার জানিয়েছেন, “উদ্ধার করা তাজা বোমাগুলি গ্রামের ফাঁকা স্থানে নিয়ে গিয়ে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।”

thebengalpost.in
উদ্ধার হওয়া বোমা নিষ্ক্রিয় করার কাজে বোম্ব স্কোয়াড :

.
thebengalpost.in
নিষ্ক্রিয় করার পর বোমা :

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, কেশপুরের দামোদরচক গ্রামে দু’দিন আগেই তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষের কারণে, বোমাবাজিতে, মৃত্যু হয়েছিল দু’জনের। মৃতদের মধ্যে ছিল একজন স্কুল পড়ুয়া কিশোর। গ্রামবাসীদের মধ্যে থেকেই অভিযোগ করা হয়, ঐ গ্রামে আরো বোমা মজুত রয়েছে বলে। আজ, পুলিশ অভিযানে গিয়ে ঐ গ্রামের কয়েকটি বাড়ি থেকে এই ৯৮ টি বোমা উদ্ধার করেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আব্দুল মামুদ, আব্দুল সামাদ ও মাহমুদুল্লাহের বাড়ি থেকে এই বোমাগুলি উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ এখনও পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেফতারও করেছে। এই ঘটনায় তৃণমূলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতির সাফাই, “৩৪ বছর ধরে সিপিআইএম ঐসব গ্রামে আগ্নেয়াস্ত্র মজুত করে রেখেছে! তারই ফলশ্রুতিতে এই সমস্ত অবাঞ্ছিত ঘটনা ঘটছে। আমরাই পুলিশকে বারবার অনুরোধ জানিয়েছি, অবিলম্বে তদন্ত করে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি-বোমা উদ্ধার করা হোক। দোষীদের যেন না ছাড়া হয়, সে যে দলেরই হোক!” এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে, সিপিআইএমের জেলা সম্পাদক তরুণ রায় বলেছেন, “সিপিআইএম ৩৪ বছর আগে বোমা তৈরি করেছে, আর সেই বোমা এখন উদ্ধার হচ্ছে! এখনো এতটাই তাজা, তাতে মানুষও মরছে! নিজেদের পিঠ বাঁচাতে, কি হাস্যকর যুক্তি। অপদার্থ পুলিশ কি ১০ বছর ধরে ঘুমাচ্ছিল? কেশপুর থেকে নারায়ণগড়, বর্ধমান থেকে মুর্শিদাবাদ, বীরভূম থেকে চব্বিশ পরগনা আগ্নেয়াস্ত্র আর সন্ত্রাসবাদী দুয়েরই জন্মদাত্রী তৃণমূল, একথা রাজ্যের একটা শিশুও জানে।” বিজেপির জেলা সভাপতি থেকে জেলা সভাপতিরা একযোগে গর্জে উঠে বলেছেন, রাজ্যজুড়ে গুলি-বোমা, সন্ত্রাসী-জঙ্গী নিয়ে ঘর করছে তৃণমূল। কেশপুর দিয়ে এই অশুভ শক্তির শেষের শুরু হয়ে গেছে!

thebengalpost.in
দামোদরচকে পুলিশ ও বোম্ব স্কোয়াড :

.

এদিকে, ফের বোমার আঘাতে জখম হয়ে মৃত্যু হল‌ পশ্চিম মেদিনীপুরে! আজ, পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং থানার মোহাড় এলাকায় এক বিজেপি কর্মীর মৃত্যু হল বোমা বিস্ফোরণে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত বিজেপি কর্মীর নাম দীপক মণ্ডল (৩১)। মৃত দীপকের বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নার বাকচা এলাকায়। বিজেপি’র অভিযোগ, বিজেপি করার অপরাধে বোমা মেরে খুন করা হয়েছে। তৃণমূলের পাল্টা দাবি, মৃত দীপক মন্ডল গুলি বোমা নিয়েই ঘোরে, এলাকায় সবাই জানে। তার কাছেই বোমা ছিল। মদ খেয়ে পড়ে গিয়ে নিজের কাছে থাকা বোমা ফেটে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে! পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। মৃতদেহ উদ্ধার করে, খড়্গপুর মহাকুমা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ।

thebengalpost.in
সবংয়ে মৃত বিজেপি কর্মী দীপক মন্ডল :

.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে