করোনা মোকাবিলায় এগিয়ে এলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের শিল্পপতি ও বণিকরা, হাসপাতাল ও সেফ হোমের পরিকাঠামো উন্নয়নে দিলেন প্রতিশ্রুতি

Industrialist are came to improvement of Covid Infrastructure of Paschim Medinipur

.

মণিরাজ ঘোষ, মেদিনীপুর, ১৭ সেপ্টেম্বর : পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না গেলেও, এই মুহূর্তে সংক্রমণের হার নিঃসন্দেহে উর্ধ্বমুখী। সবথেকে, দুঃশ্চিন্তার বিষয় হল, এখন রাজ্য তথা জেলা সেই পর্যায়ে রয়েছে, যখন একের পর এক স্বাস্থ্য যোদ্ধা তথা করোনা যোদ্ধা সংক্রমিত হচ্ছেন, অপরদিকে সাধারণ মানুষও বিপুল হারেই সংক্রমিত হচ্ছেন! ফলে, সার্বিকভাবে আমাদের রাজ্য তথা জেলার স্বাস্থ্য পরিকাঠামো তথা পরিষেবার উপর একটা মারাত্মক প্রভাব বা চাপ পড়ছে নিঃসন্দেহে। প্রশাসন যতটা সম্ভব সেই পরিস্থিতির মোকাবিলা করে, সংক্রমিতদের পরিষেবা দিতে বদ্ধপরিকর। আর এই কঠিন পরিস্থিতিতে, এবার সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে এগিয়ে এলেন, জেলার শিল্পপতি (Industrialist) ও বণিকরা (Merchant) তথা উদ্যোগপতিরা। নিজেদের সমাজসেবামূলক তহবিল থেকে করোনা লড়াইয়ের কিছু রসদ বা পরিকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে তাঁরা জেলা প্রশাসন এবং জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের কাছে অঙ্গীকার করেছে বলে জানা যায়।

thebengalpost.in
মেদিনীপুর সার্কিট হাউস :

.
.

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর), মেদিনীপুর শহরে অবস্থিত সার্কিট হাউসে আয়োজিত এক বৈঠক বা আলোচনা সভায় জেলার বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান বা কারখানার মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা বণিক সভার সদস্যরা জেলা প্রশাসন ও জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকদের এই বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেন। এদিনের বৈঠকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলাশাসক (এল অ্যান্ড আর) তুষার সিংলা, জেলার শিল্প ও শ্রম দপ্তরের দু’জন কমিশনার। এছাড়াও, স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গী। অপরদিকে, জেলার বিভিন্ন শিল্প সংস্থা থেকে উপস্থিত ছিলেন যথাক্রমে টাটা মেটালিকস, টাটা বিয়ারিংস, টাটা হিতাচি, রেশমি মেটালিকস, সুপ্রিম ফার্নিচার, ডালমিয়া সিমেন্ট, জেএসডব্লিউ সিমেন্টের প্রতিনিধিরা। পশ্চিম মেদিনীপুর ডিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন মৃণাল কান্তি বারিক। তিনি জানিয়েছেন, “জেলার করোনা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার বিষয়ে এর আগের আলোচনাতেই সকল শিল্প সংস্থা ও বণিক সভার পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। বুধবার সেই বিষয়েই কিছু ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জেলার বিভিন্ন করোনা হাসপাতাল ও সেফ হোমের পরিকাঠামো উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান প্রদান করার বিষয়ে অতিরিক্ত জেলাশাসক ও আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।” একই কথা জানিয়েছেন, উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সারেঙ্গী। তিনি বললেন, “জেলা প্রশাসনের সঙ্গে এই বিষয়ে ওনাদের কথা হয়েছিল, বুধবার সেই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কোভিড পরিস্থিতিতে এবং সার্বিকভাবে স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নয়নে কিভাবে ওনারা সহযোগিতা করতে পারেন, তা এদিনের বৈঠক থেকে পরিষ্কার করা হয়েছে।”

.
.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে