চতুর্থ জন্মদিনেই ‘ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস’ এর স্বীকৃতি অর্জন মেদিনীপুরের ‘বীরপুরুষ’ অদ্রীশের

.

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৪ নভেম্বর: “মনে করে যেন বিদেশ ঘুরে মাকে নিয়ে যাচ্ছি অনেক দূরে/ তুমি যাচ্ছ পালকিতে মা চড়ে দরজা দুটো একটুকু ফাঁক করে/ আমি যাচ্ছি রাঙা ঘােড়ার পরে টগবগিয়ে তােমার পাশে পাশে।” রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বীরপুরুষ‘ কবিতার লাইন। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মেদিনীপুর শহরের ‘ক্ষুদে প্রতিভা’ (Gifted Child) অদ্রীশ পাল ঠিক যেন রবি ঠাকুরের কবিতার ‘বীরপুরুষ‘! না, কবির কল্পনায় নয়, বাস্তবের মাটিতে তার ছোট্ট ছোট্ট দু’পায়ে টলমল করতে করতে দাঁড়িয়েই একের পর এক অসাধ্য সাধন করে চলেছে সে। চার বছরের অদ্রীশের সাম্প্রতিক সাফল্য হল, ‘ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস’ এর স্বীকৃতি অর্জন।

thebengalpost.in
বাবা-মা’র সাথে অদ্রীশ :

.
.

করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই সদ্য তিন পূর্ণ করে (২ নভেম্বর) চারে পা দেওয়া অদ্রীশ, বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজের প্রতিভার সাক্ষর রেখে, ইন্ডিয়া বুক রেকর্ডসে নিজের নাম নথিভুক্ত করল। এই বয়সেই আরো একবার মেদিনীপুর শহর তথা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাকে গর্বিত করলাে শহরের কুইকোটার বাসিন্দা ‘বিস্ময় প্রতিভা’ অদ্রীশ পাল। ক্ষীরপাই-এর সেন্ট জনস স্কুলের লােয়ার নার্সারির ছাত্র অদ্রীশ। অদ্রীশের বাবা তাপসকুমার পাল ও মা অনিন্দিতা মন্ডল পাল দু’জনই উচ্চ-মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার কাজে যুক্ত। তার সংস্কৃতিমনস্ক মা অনিন্দিতা মন্ডল পালের প্রশিক্ষণেই এই বয়েসে অদ্রীশ পঁচিশটি কবিতা ও ছড়া সুন্দর বাচনভঙ্গীর সাথে মুখস্থ বলতে পারে। এছড়াও ইংরেজীতে সপ্তাহের সাতটি বারের নাম, বারো মাসের নাম গড়গড় করে বলতে পারে অদ্রীশ। এছাড়াও, এগারো ধরনের আকৃতির নাম, চৌদ্দ ধরণের রঙ এর নাম, মানবদেহের ষোলটি অঙ্গের নাম, বারো ধরণের ফল, এগারো ধরণের সব্জীর নাম বলতে ও চিনতে পারে অদ্রীশ। এছাড়াও, কম্পিউটার কী বোর্ডে ইংরেজী বর্ণমালার সব অক্ষর এবং ইংরেজীতে এক থেকে​ চল্লিশ পর্যন্ত সংখ্যা টাইপ করতে পারে অদ্রীশ। তার এই সমস্ত গুণাবলী দেখে তাকে মাত্র তিন বছর এগারো মাস বয়সেই স্বীকৃতি দিয়েছে ইন্ডিয়া বুক রেকর্ডস।

thebengalpost.in
মেদিনীপুরের ক্ষুদে প্রতিভা অদ্রীশ পাল :

.

আর, এই খুশির খবরটা অদ্রীশের কাছে পৌঁছেছে, তার চার বছর পূর্ণ হবার দিনে অর্থাৎ চতুর্থ জন্মদিনে। সেদিনই সে হাতে পেয়েছে, ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসের শংসাপত্র, মেডেল, ব‍্যাজ, আইডেন্টিটি কার্ড, কলম ও স্টীকার। অদ্রীশের এই সাফল্যে খুশি তার বাবা-মা সহ পরিবারের অন্যান্যরা এবং পাড়া প্রতিবেশীরাও। উল্লেখ্য, এই অল্পবয়সেই​ নিজের প্রতিভার সাক্ষর রেখে ইতিমধ্যে নানা পুরস্কার ও শংসাপত্র পেয়েছে অদ্রীশ। মাস কয়েক আগেই, একটি আন্তর্জাতিক স্তরের অনলাইন আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় সফল হয়ে পুরস্কৃত হয়েছে অদ্রীশ। এছাড়াও, লকডাউন ও করোনা আবহে বিভিন্ন অনলাইন ইভেন্টে অংশ নিয়ে অদ্রীশ ৭৬ টি শংসাপত্র অর্জন করেছে সে। ইতিমধ্যে, আনন্দপুর মুক্তধারা ও বওড়া সারস্বত মেলা, কালিকাপুর সুভাষ মেলা আয়ােজিত সাংস্কৃতিক প্রতিযােগিতা সহ অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় যোগ দিয়েও সাফল্য অর্জন করেছে অদ্রীশ। উল্লেখ্য​, অদ্রীশের এই স্বীকৃতি ‘ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসে’র ২০২২ সালের সংস্করণে প্রকাশিত হবে।

.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে