মণিরাজ ঘোষ, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৯ অক্টোবর: রাজ্যে করোনা সংক্রমণ এখনো ঊর্ধ্বমুখী। সুস্থতার হার ক্রমশ বৃদ্ধি পেলেও, দৈনিক সংক্রমণ চিন্তায় রাখছে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর’কে। এখনো পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোন ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক না আসায়, শীতের মুখে করোনা’র প্রকোপ আরো বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা! প্রস্তুত থাকছে রাজ্য সরকার তথা রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরও। প্রতিটি জেলাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আরো উন্নত পরিষেবা প্রদানের বিষয়ে। পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, উপসর্গযুক্ত এবং আশঙ্কাজনক রোগীদের চিকিৎসার বিষয়ে। উপসর্গহীন যাঁরা হোম আইসোলেশন বা গৃহ নিভৃতবাসে থাকছেন, তাঁদের চিকিৎসার বিষয়েও আরো তৎপর হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রতিটি জেলা’কে। এদিকে, পুজোর সময় থেকে এখনো পর্যন্ত, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার করোনা পরিস্থিতি বেশ নিয়ন্ত্রণে! কমেছে সংক্রমণ। তবে, এই ক’দিন টেস্টের পরিমাণও কিছুটা কমেছে এবং পুজোর প্রভাব সংক্রমণের ক্ষেত্রে আরো ৪-৫ দিন পরে পড়তে পারে বলেই বিশেষজ্ঞদের অভিমত! যদিও, এই মুহূর্তে সংক্রমণের হার অন্তত ১-২ শতাংশ কমেছে বলে জানিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। অপরদিকে, শালবনী করোনা হাসপাতাল উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার পর থেকে, মৃত্যু’র হারও আগের থেকে অনেকটাই কমেছে জেলায়। গত একমাস আগেও যেখানে প্রতিদিন ৩-৪ জনের (কোনো কোনো দিন ৫-৭ জনের) মৃত্যু হচ্ছিল, এখন সেখানে গড়ে প্রতিদিন ১ জনের মৃত্যু হচ্ছে বলে জানা যায়, জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের রিপোর্ট থেকে। এক্ষেত্রে, স্বাস্থ্য দপ্তর ও করোনা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, “একজনেরও যাতে মৃত্যু না হয়, সেই চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে, বাধ সাধছে প্রেসার, সুগার সহ নানা কো-মর্বিডিটি, অধিক বয়স এবং বাড়াবাড়ি হওয়ার পর টেস্ট করানো বা করোনা হাসপাতালে দেরি করে আসার বিষয়টি!” এই পরিস্থিতিতে, মেদিনীপুর শহরের উপকণ্ঠে (আবাস-খাসজঙ্গলে) অবস্থিত, আয়ুশ করোনা হাসপাতালেও (লেভেল ওয়ান হিসেবে শুরু হলেও বর্তমানে লেভেল থ্রি) ২০ টি এইচডিইউ (HDU- High Dependency Unit) শয্যা বিশিষ্ট একটি ইউনিট তৈরি করা হচ্ছে। এই বিষয়ে, ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিকেল সার্ভিস কর্পোরেশন লিমিটেড (West Bengal Medical Service Corporation Ltd.) এর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। এই, এউচডিইউ ইউনিট তৈরি এবং প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সাপ্লাই ব্যবস্থা (MGPS- Medical Gas Pipeline System) প্রস্তুত করার জন্য ইতিমধ্যেই একটি বিশ্বস্ত সংস্থাকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, WBMSCL এর তরফে।


Whatsapp Group এ

আয়ুশ হাসপাতালে ২০ টি শয্যার এইচডিইউ ইউনিট তৈরি হওয়ার বিষয়ে, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ নিমাই চন্দ্র মন্ডলের কাছে ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা এসে পৌঁছেছে। জেলার উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (১) ডাঃ সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গীও এই নির্দেশিকার বিষয়ে নিশ্চয়তা প্রদান করে জানিয়েছেন, “রাজ্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণের তরফে WBMSCL প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আয়ুশ হাসপাতালে ২০ শয্যার HDU Unit খুব তাড়াতাড়িই শুরু হবে।” জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক এবং উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক এও জানিয়েছেন, শালবনীর পর আয়ুশেও এই ইউনিট তৈরি হলে, জেলার সংকটজনক করোনা রোগীদের পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে সুবিধা হবে। তবে, আয়ুশে ২০ টি শয্যা তৈরি হওয়ার আগে, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ৩০ টি শয্যার এইচডিইউ ইউনিট (HDU UNIT) তৈরি হয়ে যাবে বলে জানা গেছে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ সূত্রেও জানা গেছে, দ্রুততার সঙ্গে কাজ চলছে, নভেম্বরের প্রথম অথবা দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যেই এই কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। সবমিলিয়ে, সংক্রমণ বৃদ্ধি হোক বা না হোক, করোনা চিকিৎসার ক্ষেত্রে আরো একধাপ এগিয়ে, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা নভেম্বরের মধ্যেই আরো ৫০ টি এইচডিইউ শয্যা (শালবনীতে আছে ৪০ টি) নিয়ে পরিষেবা দিতে চলেছে। জেলার করোনা যুদ্ধে যা নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক খবর!


অপরদিকে, মেদিনীপুর আয়ুশ হাসপাতালের সুপার ডাঃ নন্দন ব্যানার্জি এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার ডাঃ নরেন্দ্র নাথ দে’কে লেভেল ফোর শালবনী করোনা হাসপাতালের দায়িত্বে নিয়ে আসার পর, তাঁরা একসাথে দুটি হাসপাতালই দেখভাল করছিলেন। কিন্তু, বর্তমানে তাঁদের শুধুমাত্র শালবনী হাসপাতালের দায়িত্বেই রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে। সেক্ষেত্রে, আয়ুশ হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত সুপারের পদ থেকে ডাঃ ব্যানার্জি ও অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার ডাঃ দে’কে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে, লেভেল ফোর শালবনী করোনা হাসপাতালের স্থায়ী সুপারের দায়িত্বে আছেন, ডাঃ নন্দন ব্যানার্জি। দুটি দায়িত্ব একসাথে পালন করার ক্ষেত্রে তাঁদের চাপ হয়ে যাচ্ছে বলেই প্রশাসনের তরফে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। কিন্তু, দীর্ঘদিন একসাথে কাজ করার সুবাদে, এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছেন না, আয়ুশ হাসপাতালের বর্তমান চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। তাই, তাঁরা আজ (বৃহস্পতিবার) এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে, জেলাশাসক ও জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রতি এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়েছেন। যদিও সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার বিষয়ে, জেলা প্রশাসন ও জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে, সূত্রের খবর অনুযায়ী আয়ুশ হাসপাতালের নতুন সুপার হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন, জেলার অতিরিক্ত মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (ACMOH, Mid. Sadar) ডাঃ শক্তিপদ মুর্মু।









