দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, কলকাতা, ৮ মার্চ: নারী দিবস (International Women’s Day) এই জোর ধাক্কা খেলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! একদিকে তিনি যখন ধর্মতলায় নিজের দলের নারীবাহিনীকে নিয়ে মিছিল ও সভা করছেন, ঠিক সেই সময়ই ‘তাঁর’ দীর্ঘদিনের ‘ছায়াসঙ্গী’ তথা বিপদ-আপদের সঙ্গী সাতগাছিয়ার বিধায়ক সোনালী গুহ (বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার) হেস্টিংসে বিজেপির সদর দপ্তরে ‘আশ্রয়’ খুঁজে নিলেন। ইঙ্গিত দিয়েছিলেন প্রার্থী তালিকা ঘোষণার দিনই। কাঁদতে কাঁদতে সেদিন (৫ মার্চ) সোনালী বলেছিলেন, “দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে থাকার যোগ্য সম্মান দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেস! সামনেই (৮ মার্চ) নারী দিবস। তার আগে দিদি যোগ্য সম্মান দিলেন! আমি এখনও ভাবতে পারছিনা দিদি এটা কি করে করলেন। আমি চাই দিদির শুভবুদ্ধি হোক!” এরপরই, মুকুল রায়ের মধ্যস্থতায় শুধুমাত্র ‘সম্মানজনক পদ’ এর শর্তে বিজেপি’তে যোগ দিতে চেয়েছিলেন সোনালী। আজ হেস্টিংসের বিজেপি দপ্তরে গিয়ে জোড়াফুল ছেড়ে হাতে তুলে নিলেন পদ্মফুল। শুধু সোনালী গুহ নয় তৃণমূলের ‘প্রার্থী পদ’ উপেক্ষা করে, দলকে সবথেকে বড় আঘাত টা বোধহয় দিলেন মালদা হবিবপুরের তৃণমূল প্রার্থী সরলা মুর্মু। এই প্রথম দলীয় প্রার্থী হয়েও, বিরোধী দলে যোগ দেওয়ার নজিরও গড়লেন সরলা! অন্যদিকে, টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তথা দীর্ঘদিনের তৃণমূল পন্থী শিল্পী তনুশ্রী’ও দিদিকে ধাক্কা দিলেন নারী দিবসেই!

অন্যদিকে, তৃণমূলের আরও চার বিধায়ক এদিন বিজেপি’তে যোগদান করলেন। সিঙ্গুরের বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য, বসিরহাটের বিধায়ক দীপেন্দু বিশ্বাস, শিবপুরের বিধায়ক জটু লাহিড়ী এবং সাঁকরাইলের বিধায়ক শীতল সর্দার। এছাড়াও, আজ তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌরচন্দ্র মণ্ডল সহ জেলা পরিষদের ১৪ জন সদস্য। এর ফলে ৩৮ আসনের জেলা পরিষদের ২৩টি আসন বিজেপির দখলে এল। সঙ্গে পুরাতন মালদা পঞ্চায়েত সমিতিও এসেছে বিজেপির দখলে। হেস্টিংসের অফিসে এদিন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী, মুকুল রায়, লকেট চট্টোপাধ্যায়, সব্যসাচী ভট্টাচার্য প্রমুখ। দিলীপ বাবু বললেন, “তৃণমূল যাদের প্রার্থী করছে, তাঁরাও বিজেপিতে আসতে চাইছেন। আজ নারী দিবসে সরলা মুর্মু এর অন্যতম প্রমাণ। এছাড়াও, সোনালী গুহ, তনুশ্রী চক্রবর্তী সহ বীরাঙ্গনাদের আজ আমরা বিশ্বের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক পরিবারে স্বাগত জানালাম। শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন মালদা জেলা পরিষদে আমরাই এখন সংখ্যা গরিষ্ঠ। ধাপে ধাপে অন্য জেলা পরিষদ গুলিও বিজেপি’র দখলে চলে আসবে।”








