দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৭ এপ্রিল: গত চব্বিশ ঘণ্টায় সারা দেশে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন প্রায় আড়াই লক্ষ মানুষ! কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দেওয়া আজ (১৭ এপ্রিল) সকাল ১১ টার তথ্য অনুযায়ী, গত চব্বিশ ঘণ্টায় দেশে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ২ লক্ষ ৩৪ হাজার ৬৯২ জন। মৃত্যু হয়েছে ১৩৪১ জনের। দুটি পরিসংখ্যানই এ যাবৎকালের মধ্যে সবথেকে ভয়াবহ! যদিও যেভাবে প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ ও মৃত্যু, নিশ্চিত বলা যায় এপ্রিলের শেষেই দৈনিক সংক্রমণ ৪-৫ লক্ষ ছাড়িয়ে যাবে, আর প্রতিদিন অন্তত ৩,০০০ মানুষের মৃত্যু হবে! গত চব্বিশ ঘণ্টায় এ রাজ্যেও সর্বাধিক মানুষ করোনা সংক্রমিত হয়েছেন, মৃত্যুও হয়েছে সর্বাধিক (করোনা’র দ্বিতীয় ঢেউ চলাকালীন)! ৬৯১০ জনের সংক্রমণ ও ২৬ জনের মৃত্যু’র তথ্য দেওয়া হয়েছে শুক্রবার সন্ধ্যার বুলেটিনে।


Whatsapp Group এ
অপরদিকে, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের শনিবার সকালের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত চব্বিশ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ৮৯ জন। যা করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে সর্বাধিক! রেলশহর খড়্গপুর নিত্যনতুন রেকর্ড গড়ে, গত চব্বিশ ঘণ্টায় ২২ জন (গ্রামীণ ১ জন সহ) করোনা আক্রান্ত হওয়ার সতর্কবাণী দিচ্ছে! কম যাচ্ছেনা মেদিনীপুর শহরও। গত চব্বিশ ঘণ্টায় ১৪ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন জেলা শহরে। শালবনী (টাঁকশাল) তে ২ জন, সবংয়ে (নাড়মা) ১ জন, গড়বেতা (ধাদিকা, ডাঙাপাড়া, পিংবনী) ও গোয়ালতোড় ৭ জন, বেলদা ও নারায়ণগড়ে ৪ জন, দাঁতনে (বাগদা) ৫ জন ঘাটাল, দাসপুর, চন্দ্রকোনা মিলিয়ে ঘাটাল মহকুমায় ২১ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। অপরদিকে, ঘাটালে ফের ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ৭ এপ্রিল এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু’র পর, গতকাল সকালে করোনা আক্রান্ত এক প্রৌঢ়ার (৬০) মৃত্যু হয়েছে ঘাটাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। তিনি চন্দ্রকোনার পাইকপাজিটার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, ১৬ এপ্রিল এক করোনা সংক্রমিত প্রৌঢ়ার মৃত্যু হয়েছে। দ্বিতীয় ঢেউয়ে এই নিয়ে জেলায় করোনা’র বলি হলেন ৩ জন।


অন্যদিকে, জেলার ৪ টি করোনা হাসপাতালে এই মুহূর্তে ৪৮ জন চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানা গেছে। গত এক সপ্তাহ আগেও যেখানে ৪-৫ জন ভর্তি থাকতেন, গত এক সপ্তাহে চিত্রটা সম্পূর্ণ বদলে গেছে। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের HDU-SARI ইউনিটে ১৯ জন, শালবনীতে ১১ জন, খড়্গপুরে ২ জন এবং ঘাটালে ১৬ জন চিকিৎসাধীন আছেন শুক্রবারের তথ্য অনুযায়ী। অন্যদিকে, ভ্যাকসিনের যোগান এখনও স্বাভাবিক হয়নি রাজ্যের প্রতিটি জেলায়। জেলার উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গী জানিয়েছেন, “ভ্যাকসিনের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় অনেক কম। একটা সময় প্রতিদিন ১৫০০০-২০০০০ জনকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। সেখানে এখন বাধ্য হয়ে ৬-৮ হাজার মানুষের বেশি ভ্যাকসিন দেওয়া যাচ্ছেনা। সেটাও আবার দ্বিতীয় ডোজ দিতেই প্রায় ফুরিয়ে যাচ্ছে। দেখা যাক, সরবরাহ স্বাভাবিক করা হলেই ভ্যাকসিনেশনের গতি বাড়ানো সম্ভব হবে। তার আগে মাস্ক পরা সহ সচেতনতা অবলম্বন জরুরি।”









