“তৃণমূলের দালালে ভরে গেছে কংগ্রেস”, দায়িত্ব নিয়েই বিস্ফোরক মন্তব্য জেলা কংগ্রেসের নতুন সভাপতি সমীর রায়ের, প্রদেশ এক্সিকিউটিভ কমিটিতে সৌমেন খান

.

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, কলকাতা ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৩ অক্টোবর: সমন্বয় রেখেই দ্বিতীয়বারের পথচলা শুরু প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর। ‘ছোড়দা’ সোমেন মিত্রের মৃত্যুর পর, দলের এই কঠিন সময়ে ফের দায়িত্ব গ্রহণ করে, ঐক্যের বার্তা দিলেন প্রদেশ সভাপতি। প্রসঙ্গত, প্রথমবার যখন তিনি প্রদেশ কংগ্রেসের (West Bengal Pradesh Congress) সভাপতি হয়ে আসেন, তখন তাঁর বিরুদ্ধে বিস্তর লবিবাজির অভিযোগ উঠেছিল! স্বজনপোষণ এবং একই সঙ্গে অন্য গোষ্ঠীর নেতাদের কোণঠাসা করার চেষ্টা, এই দুই অভিযোগেই বিদ্ধ ছিলেন অধীর চৌধুরী (Adhir Chowdhury )। কিন্তু, দ্বিতীয়বার প্রদেশ সভাপতির পদে দায়িত্ব নিয়ে আর সেই ‘ভুল’ করলেন না তিনি! সোমেন মিত্রের পুত্র রোহন মিত্র সহ ঘনিষ্ঠ প্রত্যেককেই যথাযথ পদে নির্বাচিত করলেন তিনি। কমিটিতে সহ-সভাপতি হয়েছেন মোট ১১ জন। এদের মধ্যে সবচেয়ে চমকপ্রদ নাম সর্দার আমজাদ আলির। প্রাক্তন এই সাংসদ সোমেন ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত। ১৪ জন সাধারণ সম্পদকের তালিকায় জায়গা পেয়েছেন সোমেন পুত্র রোহন মিত্র (Rohan Mitra), সোমেন ঘনিষ্ঠ বিধায়ক কাজি আবদুর রহিম দিলু, কৃষ্ণা চক্রবর্তী, আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়রা। এদের সঙ্গেই অবশ্য থাকছেন অধীরের বিশ্বস্ত মনোজ চক্রবর্তী, ঋজু ঘোষালরা। সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্যকে করা হয়েছে কোঅর্ডিনেট কমিটির চেয়ারম্যান। সোমেন ঘনিষ্ঠ বাদল ভট্টাচার্য এই কমিটির কনভেনর হয়েছেন। প্রচার কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে প্রয়াত প্রয়াত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের ছেলে অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়কে। ইস্তেহার কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে, বিধায়ক আবদুল মান্নান’কে। সোমেন ঘনিষ্ঠ অমিতাভ চক্রবর্তী আছেন এই কমিটির কনভেনর পদে। এক্সিকিউটিভ মেম্বরদের তালিকায় জেলার গুরুত্বপূর্ণ সকল সদস্যকেই ঠাঁই দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে, অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে নির্বাচন কমিটিতে অধীর চৌধুরী ছাড়াও আছেন প্রদীপ ভট্টাচার্য, আবদুল মান্নান, আবু হাসেম খান চৌধুরি, দীপা দাশমুন্সী, অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়, সর্দার আমজাদ আলি, শুভঙ্কর সরকার, দেবপ্রসাদ রায়দের মতো জনপ্রিয় প্রদেশ নেতারা।

thebengalpost.in
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা কংগ্রেসের নতুন সভাপতি সমীর রায় :

.

এদিকে, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাতেও পরিবর্তন করা হল জেলা কংগ্রেস সভাপতি। সঙ্গে এলেন দু’জন নতুন কার্যকরী সভাপতি। নতুন জেলা সভাপতি হলেন, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ সমীর রায় (৭৫)। সৌমেন খান (৬৫) এর জায়গায় এলেন তিনি। সৌমেন খান’কে ৪৮ সদস্যের প্রদেশ এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্য করা হয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, জেলার রাজনীতিতে সমীর রায় বরাবরই অধীর গোষ্ঠীর নেতা হিসেবে পরিচিত। ২০১৬ থেকে ২০১৮ অবধি জেলা সভাপতিও ছিলেন। একসময়, প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন অভিজ্ঞ এই রাজনীতিবিদ। অপরদিকে, সৌমেন খান প্রয়াত প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা ‘ছোড়দা’ সোমেন মিত্রের গোষ্ঠীতে ছিলেন। স্বয়ং, সোমেন মিত্র তৃণমূলে যোগদান করে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁর স্ত্রী শিখা মিত্র হয়েছেন বিধায়ক। তবে, সেই সম্পর্ক খুব বেশিদিন মধুর হয়নি! এদিকে, সোমেন ঘনিষ্ঠ সৌমেন খানের বিরুদ্ধেও তৃণমূল ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ আনা হয়েছে মাঝেমধ্যেই। যদিও, সমীর বাবু ও সৌমেন বাবু দু’জনই দীর্ঘদিনের কংগ্রেস কর্মী ও পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ। একসময়, সৌমেন খান তৃণমূলে যোগদান করবেন বলে গুজবও রটেছিল। মেদিনীপুর শহরে তাঁকে তৃণমূলে স্বাগত জানিয়ে পড়ে গিয়েছিল পোস্টারও। তবে তিনি তৃণমূলে যাননি। এমনকি, কংগ্রেসের জেলা সভাপতি হিসেবে পরবর্তী সময়ে নিজের দায়িত্বও পালন করে গেছেন। যদিও, জেলা সভাপতি পদে আসার সাথে সাথেই সমীর রায় এক অডিও বার্তায় বেঙ্গল পোস্ট’কে জানিয়েছেন, “তৃণমূলের অবস্থা শেষ হয়ে এসেছে। তৃণমূল ভাঙছে, আরো ভাঙবে। অধীর চৌধুরীর নেতৃত্বে কংগ্রেস আগামী কয়েক মাসের মধ্যে অনেক শক্তিশালী হবে। তবে, দলের মধ্যে তৃণমূলের অনেক দালাল আছে। সারা রাজ্যে এবং এই জেলাতেও। তাদের বাদ দিতে পারলে কংগ্রেস আরো শক্তিশালী হবে।” সৌমেন খান সংবাদমাধ্যমকে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, দল যা ভালো মনে করেছে, তাই করেছে। নতুন জেলা কার্যকরী সভাপতি হয়েছেন, যথাক্রমে চিরঞ্জীব ভৌমিক (৪৭) এবং মহঃ ঈশাক (৬৫)। তাঁরাও অধীর গোষ্ঠীর বলেই জানা যায়। এবার, নতুন করে জেলা কমিটিও গঠিত হতে পারে সমীর রায়ের নেতৃত্বে।

thebengalpost.in
সৌমেন খাঁন (ফাইল ছবি, ইনসেটে মেদিনীপুর শহরে বছর চারেক আগে তাঁকে স্বাগত জানিয়ে পড়া ব্যানারের ছবি) :

.
.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে