দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৯ মে: সকাল ১০ টার পর কার্যত লকডাউন। হোটেল-খাওয়ারের দোকান সহ বন্ধ সবকিছুই। এই পরিস্থিতিতে, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি রোগীর পরিজন বা আত্মীয়দের ক্ষুধা নিবারণের জন্য এগিয়ে এসেছে মেদিনীপুর শহর তৃণমূল কংগ্রেস। দূর-দূরান্ত থেকে আসা অসহায় এবং ক্ষুধার্ত মানুষজনের দুপুরের খাওয়ারে ব্যবস্থা করা হয়েছে শহর তৃণমূলের পক্ষ থেকে। ১৭ ই মে শুরু হয়েছে এই কমিউনিটি কিচেন, চলবে লকডাউনের শেষ দিন পর্যন্ত অর্থাৎ ৩০ শে মে পর্যন্ত। প্রথম ৩ দিনে প্রায় ১ হাজার ৭০০ জন মানুষ আহার গ্রহণ করেছেন শহর তৃণমূল কংগ্রেসের এই কমিউনিটি কিচেন থেকে। খুশি উদ্যোক্তারাও! আর, তৃতীয় দিনে তাঁদের কাছে উপরি পাওনা স্বয়ং মেদিনীপুরের বিধায়ক জুন মালিয়া সেই কমিউনিটি কিচেনে পৌঁছে গিয়ে, উদ্যোক্তাদের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে খাওয়ার তুলে দিলেন খাওয়ার সংগ্রহ করতে আসা রোগীর পরিজনদের। সেলিব্রেটি বিধায়কের আন্তরিকতার স্পর্শে প্রথম দু’দিনের তুলনায় এদিন আরও বেশি মানুষ খাওয়ার সংগ্রহ করতে পৌঁছে গেলেন! প্রথম ২ দিন যেখানে গড়ে ৫০০ জন করে মানুষ খাওয়ার খেয়েছিলেন, তৃতীয় দিন সেখানেই প্রায় ৭০০ জন মানুষ খাওয়ার খেয়েছেন বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।


Whatsapp Group এ

শহর তৃণমূল কংগ্রেসের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন মেদিনীপুরের নব-নির্বাচিত বিধায়ক জুন মালিয়া। তিনি বললেন, “পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার এটাই সবথেকে বড় হাসপাতাল। প্রচুর রোগী ভর্তি আছেন এবং তাঁদের পরিজনেরাও এসেছেন। এই লকডাউন পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষগুলোর জন্য শহর তৃণমূলের পক্ষ থেকে যে দুপুরের খাওয়ারের ব্যবস্থা করা হয়েছে, তা অতি মহান কর্মসূচি। আমি উদ্যোক্তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।” উদ্যোক্তাদের মধ্যে অন্যতম শহর তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি বিশ্বনাথ পান্ডব এবং জেলা তৃণমূল সাধারণ সম্পাদক সুজয় হাজরা মেদিনীপুর বিধায়ককে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এই কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে উৎসাহিত করার জন্য। সুজয় বাবু জানালেন, “প্রতিদিন পাঁচ শতাধিক অসহায় মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। এই অতিমারী পরিস্থিতিতে এটাই আমাদের সবথেকে বড় পাওনা! আমাদের পথ-প্রদর্শক জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শ মেনে, করোনা প্রথম ঢেউয়ের মতোই তাই দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময়ও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”


মেদিনীপুর শহর তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি বিশ্বনাথ পান্ডব জানিয়েছেন, “৩০ তারিখ পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। যত দিন এই লকডাউন থাকবে, ততদিন আমরা এই কর্মসূচি চালিয়ে যাব।” উল্লেখ্য যে, বুধবারও কোভিড স্বাস্থ্য বিধি মেনে লাইনে দাঁড়ানো রোগীর পরিজনদের হাতে ভাত, ডাল, তরকারি ও ডিম দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, মেদিনীপুর পৌরসভা এলাকায় করোনা আক্রান্তদের সাহায্য করার জন্য বুধবার একটি হেল্প লাইনও চালু করেন মেদিনীপুরের বিধায়ক জুন মালিয়া।








