মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছনোর আগেই ২৫ কোটি টাকার উপহার পৌঁছে গেল পশ্চিম মেদিনীপুরে, তৎপরতা তুঙ্গে সব মহলেই

.

মণিরাজ ঘোষ, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৫ অক্টোবর : দীর্ঘ একবছর পর পশ্চিম মেদিনীপুরে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত বছর, বীরসিংহের সিংহপুরুষ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্ম-দ্বিশতবর্ষের সূচনানুষ্ঠানে শেষ বারের জন্য পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় এসেছিলেন তিনি। তারপর, করোনা ঝড়ে অনেক কিছুই টালমাটাল হয়েছে! এমনকি, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্ম-দ্বিশতবর্ষের সমাপ্তি অনুষ্ঠানেও আসতে পারেননি মুখ্যমন্ত্রী। তবে, আগামীকাল (৬ অক্টোবর) প্রশাসনিক সভা উপলক্ষে মেদিনীপুর ও খড়্গপুরের সংযোগস্থলে চৌরঙ্গীতে বিদ্যাসাগর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাত পেরোলেই প্রশাসনিক সভা। তৎপরতা তুঙ্গে প্রশাসন ও শাসকদলের অন্দরমহলে! এদিকে, মুখ্যমন্ত্রী জেলায় পৌঁছনোর একদিন আগেই, তাঁর সরকারের তরফ থেকে ‘ছোট্ট উপহার’ পৌঁছে গেল জেলার কৃষকবন্ধুদের জন্য! আমফান ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ বাবদ আরো প্রায় ২৫ কোটি টাকা, গতকাল (৪ অক্টোবর) রাতেই পৌঁছে গিয়েছে জেলায়। শুধু তাই নয়, আজ (সোমবার) দুপুরের মধ্যেই ৮০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের অ্যাকাউন্টে সেই টাকা পাঠিয়েও দেওয়া হয়েছে তৎপরতার সাথে। আজ দুপুরে এই খবর দিয়ে জেলার কৃষি কর্মাধ্যক্ষ রমাপ্রসাদ গিরি জানিয়েছেন, “ইতিমধ্যে, ৪৭ কোটি টাকা দেওয়া হয়ে গেছে, প্রায় সাড়ে তিন লক্ষের কিছু বেশি কৃষককে। অবশিষ্ট ১ লক্ষ ১৪ হাজার ৪৯১ জন কৃষককে এই দফায় বরাদ্দ হওয়া ২৪ কোটি ৭৪ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে, তাঁদের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে। ইতিমধ্যে, আজকে দুপুর ৩ টের মধ্যে প্রায় ৯৫ লক্ষ কৃষকের অ্যাকাউন্টে টাকা ক্রেডিট হয়ে গেছে। জেলার সমস্ত কৃষকদের প্রতিনিধি হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়’কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”

thebengalpost.in
বিদ্যাসাগর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে শেষ মুহূর্তের নিরাপত্তা খতিয়ে দেখছেন পুলিশ আধিকারিকরা :

.

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আগামীকাল (৬ অক্টোবর) মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক সভা ঘিরে জেলার প্রতিটি দপ্তর বা প্রশাসনিক স্তরে চরম তৎপরতা! গতকাল (৪ অক্টোবর), জেলাশাসক ডঃ রশ্মি কমল প্রদ্যোৎ স্মৃতি সদনে ব্লক পর্যায় পর্যন্ত আধিকারিকদের সাথে বৈঠক করেছেন। সেখানে, অতিরিক্ত জেলাশাসক থেকে শুরু করে বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিক, বিডিও’রা উপস্থিত ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী’র নব ঘোষিত ‘পথশ্রী প্রকল্প’ নিয়ে আলোচনা করেন জেলাশাসক। সাংবাদিকদের জানান, “জেলায় ৯৪৫ কিলোমিটার নতুন পাকা রাস্তা হবে এই প্রকল্পে। ৪০০ টি নতুন রাস্তা হবে এই প্রকল্পে। ৮৭ টি রাস্তা এবং ২৭০ কিলোমিটার ইতিমধ্যে সম্পূর্ণ হওয়ার পথে।” মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছনোর আগেই, গত ১ লা অক্টোবর থেকে বিভিন্ন ব্লকে এই সমস্ত রাস্তাগুলি উদ্বোধন হচ্ছে প্রশাসনিক আধিকারিক এবং জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগে! অপরদিকে, মেদিনীপুর ও খড়্গপুর শহরের বিভিন্ন রাস্তা-ঘাট, পথবাতি, ডিভাইডার প্রভৃতি সবকিছুই সংস্কার করা হচ্ছে দ্রুততার সাথে। বিশ্বস্ত সূত্রের খবর অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী পরিদর্শন করতে পারেন, একথা আগাম চিন্তা করে, জেলার গুরুত্বপূর্ণ করোনা হাসপাতাল থেকে মেদিনীপুর মেডিক্যাল সবই একেবারে ঝকঝকে-তকতকে করে দেওয়া হয়েছে আজ বিকেলের মধ্যে। তৎপরতা তুঙ্গে, পুলিশ প্রশাসনের মধ্যেও। গতকাল, শাসকদলের সাংসদ, বিধায়ক ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করেছেন, জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান দীনেন রায় ও জেলা সভাপতি অজিত মাইতিও। এদিকে, আজকেই জেলার প্রায় ৪০ জন (সারা রাজ্যের ৭৮৫ জন) মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের সংবর্ধনা দেওয়া হল জেলাশাসকের দপ্তরে। মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী ‘নবান্ন’ থেকে ভার্চুয়াল সংবর্ধনা সভা’র মাধ্যমে কৃতী ছাত্র-ছাত্রীদের অভিনন্দন জানান। সরাসরি পুরস্কার তুলে দেন, প্রতিটি জেলার জেলাশাসকেরা। মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, জয়েন্ট এন্ট্রান্স, মাদ্রাসা, হাই মাদ্রাসা প্রভৃতি পরীক্ষায় রাজ্য স্তরের মেধা তালিকায় ঠাঁয় পাওয়া কৃতি ছাত্র-ছাত্রীদের আজ সংবর্ধনা দেওয়া হল। এই কৃতি ছাত্র-ছাত্রীদের গতবছর পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী নিজের হাতে কলকাতা নেতাজী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে উপহার তুলে দিয়েছেন। এবার, কোভিড কারণে, সেই কাজ তাঁর হয়ে জেলাশাসকদেরই পালন করতে হল। গত, ৫ সেপ্টেম্বর (শিক্ষক দিবসের দিন) ‘শিক্ষারত্ন ২০২০’ প্রদানের ক্ষেত্রেও এবার জেলা থেকেই সম্মান দেওয়া হয়েছিল, রাজ্যের পরিবর্তে। পশ্চিম মেদিনীপুরের ৪০ জন কৃতি ছাত্র-ছাত্রী’র হাতে আজ উপহার তুলে দেন জেলাশাসক ডঃ রশ্মি কমল।

thebengalpost.in
মেদিনীপুর শহরের প্রদ্যোৎ স্মৃতি সদনে জেলাশাসকের প্রস্তুতি বৈঠক :

.
.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে