মণিরাজ ঘোষ, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২১ এপ্রিল: প্রখর নিদাঘতপ্ত দারুণ দিনে সমগ্র জীবজগৎ যখন তৃষিত, পিপাসার্ত; একটু সজীবতা আর শীতলতার খোঁজে উন্মুখপ্রায়, ঠিক সেই সময়ই সবুজ-সুন্দর পৃথিবী গড়ার অন্যতম কারিগর বনাঞ্চল আধিকারিক পাপন মোহান্তের পরিবেশ-বার্তা আবারও একবার মুগ্ধ করল জেলাবাসী তথা জঙ্গলমহলবাসী’কে! তাঁর কার্যালয় এবং সরকারি আবাসন চত্বর জুড়েই শুধু নয়, এই বনাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে পাখিদের তৃষ্ণা মেটানোর জন্য অনিন্দ্য সুন্দর আয়োজন করলেন। বর্তমানে, মেদিনীপুর বনবিভাগের অন্তর্গত ভাদুতলা রেঞ্জের রেঞ্জ অফিসার বা বনাঞ্চল আধিকারিক পাপন মোহান্ত। তাঁর আন্তরিক পরিবেশ ভাবনা, সজীব-সুন্দর স্বতন্ত্র এক মানসিকতা আর প্রকৃতি প্রেমের সাহচর্যে রুক্ষ-শুষ্ক জঙ্গলমহলের মাটিতে গড়ে উঠেছে সবুজ দিয়ে ঘেরা অপরূপ এক বাগান। তাঁর স্নেহস্পর্শে ভাদুতলা বনাঞ্চলের কার্যালয় এখন জেলার অন্যতম এক দৃষ্টিনন্দন ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। এই কার্যালয় চত্বর এবং সংলগ্ন এলাকায়, গ্রীষ্মের এই প্রচন্ড দাবদাহের দিনে পাপন বাবু তাঁর সহকর্মীদের নিয়ে পাখিদের পিপাসা মেটানোর জন্য জলের ব্যবস্থা করে অভিনব পরিবেশ বার্তা দিয়েছেন। মাটির খুরিতে ঠান্ডা জল ভর্তি করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে বড় বড় গাছে কিংবা ছাউনি করে মাটির খুরি সাজিয়ে পাপন বাবু তাঁর কার্যালয় এবং সংলগ্ন আবাসন চত্বরে পাখিদের আহ্বান জানিয়েছেন পিপাসা মেটানোর জন্য! আর, মহানন্দে নানা ধরনের পাখি এসে এই প্রখর রৌদ্রের দিনে প্রাণভরে জল পান করে যাচ্ছে। নিয়ম করে প্রতিদিন সেই খুরিগুলিতে জলও ভর্তি করে দিচ্ছেন এই বনাঞ্চলের বনকর্মীরা। ফলে, পাখিদের অন্যতম প্রিয় বিচরণক্ষেত্র এখন হয়ে উঠেছে এই ভাদুতলা বনাঞ্চল।


Whatsapp Group এ

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ভাদুতলা রেঞ্জ অফিসের দায়িত্ব নেওয়ার আগে, পাপন বাবু যথাক্রমে হুমগড় ও পিড়াকাটা রেঞ্জের দায়িত্ব পালন করেছেন রেঞ্জ অফিসার হিসেবে। তাঁর, সৌন্দর্যায়ন ও সবুজায়নের স্পর্শে সেজে উঠেছিল হুমগড় ও পিড়াকাটা রেঞ্জ অফিসও। তাঁর পরিবেশবান্ধব ভাবনায় তৈরি পিড়াকাটার বাগান বার বার জায়গা করে নিয়েছে দেশ, রাজ্য ও জেলার সংবাদমাধ্যমের পাতায়। দূরদূরান্ত থেকে সৌন্দর্য পিয়াসী মানুষ ছুটে এসেছেন। মুগ্ধ হয়েছেন সকলে। বছর খানেক আগে, পিড়াকাটা রেঞ্জ অফিস থেকে স্থানান্তরিত (ট্রান্সফার) হন পাপন বাবু। পরিচর্যার অভাবে তাঁর নিজের হাতে তৈরি পিড়াকাটার সেই দৃষ্টিনন্দন বাগান এখন সৌন্দর্য হারিয়েছে! তবে, ভাদুতলার দায়িত্বে এসে পাপন বাবু “আপন মনের মাধুরী মিশায়ে” সাজিয়ে নিয়েছেন এই কার্যালয় চত্বর টিকেও। আর এবার পাখিদের জন্য অনন্য ভাবনা। পাপন বাবু তাঁর এই প্রচেষ্টাকে “ক্ষুদ্র প্রয়াস” রূপেই তুলে ধরতে চান। তিনি বললেন, “এভাবে সকলে মিলে যদি পরিবেশের সকল পশু-পক্ষীদের নিয়ে একটু ভাবা যায়, সামান্য সময় ব্যায় করা যায়, তবে আমাদের চারপাশের পরিবেশ আরও সুন্দর হয়ে উঠবে; বাস্তুতন্ত্রও রক্ষিত হবে।” তবে সে যাই হোক, পাপন বাবুর ‘বাসা’ যে এখন পাখিদের ‘ভালো-বাসা’য় পরিণত হয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না!












