বিশেষ প্রতিবেদন, সুদীপ্তা ঘোষ, ১৩ সেপ্টেম্বর: করোনা মহামারীর আবহে প্রতিদিন ভারতবাসীকে শারীরিক এবং মানসিক দিক থেকে সুস্থ করতে আজ কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফ থেকে। এমনকি,
করোনা থেকে সদ্য সেরে ওঠা রোগীদের সুস্থ থাকতেও রবিবার বেশকিছু পরামর্শ দিল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর), নিজেদের টুইটার অ্যাকউন্ট থেকে করোনা পরবর্তী বিধি জারি করেছে কেন্দ্র সরকার; যাতে এমনই নানা
পরামর্শের উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠলেও অনেকেই শরীরে ব্যথা-যন্ত্রণা, ক্লান্তি, শ্লেষ্মা, গলায় জ্বালা এবং শ্বাসকষ্ট অনুভব করছেন বলে জানাচ্ছেন। সে ক্ষেত্রে অনেকরই পুরোপুরি সুস্থ হয়ে
উঠতে লম্বা সময় লাগছে। তার সাথে আবার দীর্ঘদিন কাজ হারিয়ে বাড়িতে সম্পূর্ণরূপে বসে গিয়ে অনেকেই মানসিক অবসাদে ভুগছেন। আশেপাশের এলাকা, প্রিয়জনদের মৃত্যুর খবর শুনে অনেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। সবসময়
একটা ভয় কাজ করছে, এরপর আমাদের হবেনা তো!করোনার এই আবহে তাঁদেরও মানসিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্র।
*শারীরিক এবং মানসিক ভাবে ভাবে সুস্থ থাকার জন্য পরামর্শ* :
১)মাস্ক ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি হাত এবং শ্বাসযন্ত্রের ক্ষেত্রে অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথাও বলা হয়েছে।
২)উপযুক্ত পরিমাণ গরম জল পানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
৩)শরীরের খেয়াল রেখে নিয়মিত বাড়ির কাজকর্ম করা যেতে পারে।
৪) নিয়মিত যোগাসন, প্রাণায়াম, ধ্যান, ব্যায়াম এবং সকাল-সন্ধ্যা হাঁটতে হবে।
৫) পুষ্টিকর এবং পরিমিত খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
৬) উপযুক্ত বিশ্রাম এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমতে হবে।
৭) ধূমপান, মদ্যপান এবং অন্যান্য মাদক দ্রব্য বর্জন করতে হবে।
৮) শরীরের তাপমাত্রা,
রক্তচাপ, পালস এবং সুগার নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে।
৯) জ্বর, শ্বাসকষ্ট, বুকের ব্যথা, দুর্বলতা ইত্যাদি উপসর্গ সম্পর্কে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
১০) করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তিদের লড়াইতে জয়ী হওয়ার
অভিজ্ঞতা আত্মীয় ও বন্ধুদের জানানো এবং নিজেদের মানসিক চাপ কমাতে নিয়মিত তাদের সাথে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে যোগাযোগ রাখতে বলেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক।
১১) হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার ৭ দিন পর,
হাসপাতালে গিয়ে প্রথম বার চেক আপ করানো আবশ্যক।
১২) অ্যালোপ্যাথি, আয়ুষ বা অন্যান্য ওষুধের দ্বারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করানো যেতে পারে।
১৩) হোম আইসোলেশনে থাকা রোগীদের উপসর্গ যদি থেকে যায় সে ক্ষেত্রে
কাছাকাছি স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। এছাড়া, প্রতিদিন সকালে গরম দুধ বা গরম জলের সাথে হলুদ গুঁড়ো, মুলেঠি গুঁড়ো এবং রাত্রিতে এক চামচ চবনপ্রাস গরম দুধ দিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে
কেন্দ্র সরকার। এর ফলে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকটাই বাড়বে বলে আশ্বাস দিয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রক। আজ, ১৩ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক (Ministry of Health and Family Welfare) প্রদত্ত এই ১৩ টি
পরামর্শ মেনে চললে মহামারী প্রতিরোধ অনেকখানি সম্ভব বলে মনে করছেন, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও!
***আরো পড়ুন: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সর্বত্র সংক্রমণ….





