মদ্যপ চালকের কীর্তি! মোহনপুর ব্রিজের কাছে ৬০ নং জাতীয় সড়কে বড়সড় দুর্ঘটনা, প্রাণে রক্ষা পেলেন একাধিক জন

.

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, মেদিনীপুর, ১৮ অক্টোবর: একেই বোধহয় বলে “রাখে হরি মারে কে!” মদ্যপ ট্রাক ড্রাইভার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আর একটু হলেই চারচাকার মাহিন্দ্রা জাইলো গাড়িটিকে পিষে ফেলত! দু’জনের মাঝখানে একটি ডাম্পার বা বড় ট্রাক চলে আসায়, রক্ষা পেল ওই পার্সোনাল কার বা চারচাকার গাড়ি ও গাড়ির আরোহীরা। অপরদিকে, ওই ডাম্পারে সজোরে ধাক্কা মেরে গাড়ির মধ্যেই জ্ঞান হারায় মদ্যপ চালক! তার বড়সড় আঘাত না লাগলেও, দুমড়ে-মুচড়ে যায় ট্রাকের সামনের অংশ, ক্ষতি হয় ডাম্পারটিরও, অল্প ক্ষতি হয় ওই জাইলো গাড়িটির। তবে, ওই দুই গাড়ির চালক’সহ সকলেই প্রাণে বাঁচেন, অল্প বিস্তর চোট ছাড়া! তবে, রাত্রি ৯.৩০ টা-১০ টা (শনিবার) নাগাদ মেদিনীপুর শহরের উপকণ্ঠে ধর্মা ও মোহনপুর ব্রিজের সংযোগস্থলে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায়, প্রায় ১২ টা-১২.৩০ টা পর্যন্ত মোহনপুর ব্রিজের (বীরেন্দ্র শাসমল সেতু) দুই পাশে তিন-চার কিলোমিটার জুড়ে প্রবল যানজট তৈরি হয়। কোতোয়ালি থানার ট্রাফিক পুলিশ ও আধিকারিকরা ছাড়াও, জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যস্ততম ৬০ নং জাতীয় সড়ক যানজট মুক্ত করেন এবং ওই দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়ি গুলিকে সরানোর ব্যবস্থা করেন।

thebengalpost.in
দুর্ঘটনা ঘটানো ও ক্ষতিগ্রস্থ সেই ট্রাকটি :

.

প্রত্যক্ষদর্শী ও কর্তব্যরত কোতোয়ালি থানার ট্রাফিক পুলিশরা জানালেন, রাত্রি সাড়ে আটটা-ন’টা নাগাদ একটি তেল ট্যাঙ্কার (Oil Tanker) এর টায়ার ফেটে একেবারে মোহনপুর ব্রিজ (বীরেন্দ্র শাসমল সেতু) এর মাঝখানে দাঁড়িয়ে যায়। সেখানেও বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রেহাই পায় সামনে পিছনে থাকা গাড়িগুলি। কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশরা ঘণ্টাখানেকের জ্যাম বা যানজট সরাতে না সরাতে, রাত্রি ১০ টা নাগাদ শালবনী অভিমুখী একটি ট্রাক মোহনপুর ব্রিজ থেকে কয়েক মিটার এগিয়ে গিয়ে, একেবারে গ্লোকাল হাসপাতালের ঠিক সামনে, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টো দিক থেকে (খড়্গপুর অভিমুখী) আসা একটি বড় ডাম্পারে ধাক্কা মারে! তার ঠিক পেছনেই ছিল চার চাকার জাইলো (Xylo) গাড়িটি। সেটিতেও সামান্য আঘাত লাগে। ৬০ নং জাতীয় সড়কের (NH 60) উপর, একেবারে মাঝরাস্তায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। দু’দিক থেকেই তখন একাধিক যানবাহন, বিশেষত ট্রাক এসে দাঁড়িয়ে যায়।

.
thebengalpost.in
মোহনপুর ব্রিজের কাছে তখন প্রবল যানজট :

সকলেই ভাবে, দুর্ঘটনা ঘটানো ওই ট্রাক ড্রাইভার বোধহয় ইহলোক ত্যাগ করেছে! তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে দেখা যায়, সুরার গন্ধ ম ম করছে, আর তিনি ‘ইহলোক’ না হলেও ‘ইহমুহূর্ত’ ত্যাগ করেছেন, অর্থাৎ জ্ঞান হারিয়েছেন। আর, তার খালাসী ততক্ষণে পগার পার! কোনোমতে তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে পাশের একটি দোকানে শুইয়ে রাখা হয়, মুখে চোখে জল দেওয়া হয়। তবে, সাময়িক ভাবে চোখ খুললেও, আকন্ঠ সুরাপানের মহিমায় বাস্তব জগতে ফিরিয়ে আনা যায়নি, রাত্রি ১২ টা – সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত! আর উনি যখন চেতনা হারিয়ে নিঃশ্চিন্তে নিদ্রামগ্ন, উচ্চ পদস্থ একাধিক পুলিশ আধিকারিক সহ ১০-১৫ জন পুলিশকর্মী’র কালঘাম ছুটে যাচ্ছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে। দুর্ঘটনার কবলে পড়া ডাম্পার ও জাইলো গাড়ি দুটি নিজে থেকেই সরে গেলেও, দুর্ঘটনা ঘটানো ট্রাকটি মাঝরাস্তাতেই দাঁড়িয়ে থাকে। প্রায় ঘন্টা দু’য়েকের প্রচেষ্টায় দু’দুটি ক্রেন দিয়ে রাত্রি ১২ টা নাগাদ ওই ট্রাকটিকেও সরানো হয় এবং রাস্তা ক্লিয়ার করা হয়। ওই কীর্তিমান চালককে কোতোয়ালি থানার পুলিশ হয়তো থানায় নিয়ে গিয়ে একটু আধটু ‘আদর-শুশ্রুষা’ করলেই জ্ঞান ফিরে আসবে! তবে, এদিন যদি মারাত্মক ঘটনা ঘটে যেত বা কয়েকটি প্রাণ চলে যেত তার দায় কে নিত! অবিলম্বে, হাইরোডে কঠোর নজরদারি এবং কয়েক কিলোমিটার ছাড়া ছাড়া ট্রাক ড্রাইভারদের উপর কড়া নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।

thebengalpost.in
ক্রেনে করে সরানো হচ্ছে সেই ট্রাকটি :

.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে