দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, ঝাড়গ্রাম, ১৫ মে :
‘শূণ্য’ থেকে শুরু করেছিল, শুধু ঝাড়গ্রাম নয়, প্রতিটি জেলাই! তবে, ‘গ্রীন জোন’ ঝাড়গ্রামে প্রথম আক্রান্তের খোঁজ পাওয়া গেছে, অনেক পরে, গত ২৪ এপ্রিল। ঝাড়গ্রামের সাঁকরাইল ব্লকের বড়গহিরা গ্রামের
বাসিন্দা, পেশায় দিনমজুর (৪০) ই ছিলেন ঝাড়গ্রাম জেলার প্রথম করোনা আক্রান্ত; বর্তমানে যিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ‘বড়মা’ করোনা হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন। কিন্তু, উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সেই ‘প্রথম
আক্রান্ত’ এর সময় থেকেই ঝাড়গাম জেলা স্বাস্থ্য ভবন যে ‘লুকোচুরি’ খেলা শুরু করেছিল, তা এখনও অব্যাহত আছে।
ঝারগ্রামের প্রথম আক্রান্তের সঙ্গে এগরা যোগ ছিল বলে, সেই যাত্রায় তাঁকে পূর্ব মেদিনীপুরের ঘাড়ে চাপিয়েই দায় সেরেছিল, ঝাড়গ্রাম জেলা স্বাস্থ্য ভবন। এরপরও, দু’জন আক্রান্তের খবর ছিল, বেশকিছু সংবাদমাধ্যমের কাছে।
সেবারও এড়িয়ে গেছে, ঝাড়গাম জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য ভবন। আশ্চর্যজনক হল, গত ১০ মে, একদিনে ঝাড়গ্রামের তিন জন আক্রান্তের সংখ্যা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, রাজ্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের দেওয়া ‘করোনা
বুলেটিন’ এ, কিন্তু, সংবাদমাধ্যমের কাছে এই বিষয়েও বিন্দুমাত্র তথ্য প্রকাশ করেনি ঝাড়্গ্রাম জেলা স্বাস্থ্য ভবন। বিভিন্ন সূত্র কাজে লাগিয়ে, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানতে পেরেছিল, ঝাড়গ্রাম জুবলি মার্কেটের একটি
মুদি দোকানের কর্মচারী, জামবনীর তিন বছরের একটি শিশুকন্যা এবং ওড়িশার সম্বলপুরের সংস্পর্শে থাকা, ঝাড়গ্রাম গ্রামীণের জয়নগর এলাকার বাসিন্দা, এক শ্রমিকের ভাই (১৮) করোনা আক্রান্ত। তিনজনকেই বড়মা’তে স্থানান্তরিত
করা হয়েছিল, ১০ মে সন্ধ্যার মধ্যে।
কিন্তু, এই বিষয়েও সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে লুকোচুরি খেলতে গিয়ে, এক মর্মান্তিক ‘লুকোচুরি’র স্বীকার হলেন, ঝাড়গ্রাম ব্লকের জয়নগরের ওই পরিবার। আক্রান্ত ভাই (১৮) কে ‘বড়মা’ তে না পাঠিয়ে, সুস্থ-সবল(‘নেগেটিভ’)
দাদাকে (২৩) কে বড়মা হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছিল, ঝাড়গ্রাম জেলা স্বাস্থ্য ভবন (মতান্তরে, ঝাড়গ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল)! গত চার দিন, ওই নেগেটিভ ব্যক্তির করোনা চিকিৎসা হওয়ার পর গতকাল (১৪ মে) জানা গেল, আক্রান্ত
আছে ঘরে, হোম কোয়ারেন্টাইনে! এরপরই, তড়িঘড়ি নিজেদের দোষ ঢেকে, ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামে ঝাড়গ্রাম জেলা প্রশাসন। প্রকৃত আক্রান্তকে বড়মা’তে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয় বলে জানা যায়। কিন্তু, এতক্ষণে যা ক্ষতি হওয়ার
হয়ে গেছে, ওই পরিবার থেকে শুরু করে প্রকৃত আক্রান্তের সংস্পর্শে থাকা ওই এলাকাবাসীর। সেই আতঙ্কে যে ভুগছেন আপামর জেলাবাসী, আমাদের দপ্তরে আসা প্রতিদিন ৫-৬ টি ফোন কিংবা ম্যাসেজ থেকেই তা অনুভব করা যায়! এই বিষয়ে আজ (১৫
মে) ঝাড়গ্রাম জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক’কে ফোন করা হলে, তিনি বললেন, “করোনা বিষয় নিয়ে আমি কিছু বলতে পারবনা!” আর বড়মা হাসপাতালের সূত্র ধরে, জয়নগরের ওই দাদ-ভাই এর বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে
তিনি বললেন, “ওই পরিবারের সাথে কথা বলে দেখুন।” যদিও ইতিমধ্যে (গতকাল রাতে), সংবাদমাধ্যমকে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন, আক্রান্তের দাদা(২৩), যিনি উড়িষ্যার সম্বলপুরে শ্রমিকের কাজ করতেন এবং এক চরম ভুলের
স্বীকার হয়ে ভাইয়ের জায়গায় নিজে করোনা’র হাইডোজের ওষুধ খেলেন চারদিন ধরে!
এতসবের পরও, ঝাড়গ্রামের প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা এখনো গোলকধাঁধায়! রাজ্যের বুলেটিন বলছে ‘৩’; সংবাদ মাধ্যমের সূত্র বলছে, ১০ মে’র পরদিনই, ঝারগ্রাম পৌরসভার অস্থায়ী তিন কর্মীও করোনা আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে
বড়মা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। স্বীকার করেছে, বড়মা হাসপাতালের একটি সূত্র এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার একজন আধিকারিকও। আগের তিনজন বাদ দিলেও তাই বর্তমানে ঝাড়গ্রাম জেলা থেকে ৬ জন করোনা আক্রান্ত বলে বিশ্বস্ত সূত্রের
খবর। তবুও, ‘গ্রীন জোন’ ঝাড়গ্রাম অতীতের (করোনা হীন জেলা) রেকর্ড দেখাতেই ব্যস্ত; আর সাধারণ মানুষ অন্ধকারেই!