মেদিনীপুর শহরে ফের ১৪ জন সংক্রমিত, ২৫ জনের রিপোর্ট অমীমাংসিত, জেলায় ১২০ জনেরও বেশি করোনা আক্রান্ত

.

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৪ আগস্ট : জেলা স্বাস্থ্য ভবনের বৃহস্পতিবার রাতের রিপোর্ট অনুযায়ী, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় নতুন করে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন প্রায় ১২১ জন। ঘাটাল, দাসপুর (১ ও ২), চন্দ্রকোনা ও গড়বেতা এলাকায় গত কয়েকদিন সংক্রমণের গতিবেগ একেবারেই স্তিমিত থাকার পর, বৃহস্পতিবার রাতে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে! বৃহস্পতিবারের রিপোর্ট অনুযায়ী, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ১২১ জন। এরমধ্যে, অ্যান্টিজেন টেস্টে ৪৬ জন আক্রান্ত এবং আরটিপিসার পদ্ধতিতে ৭৫ জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। মেদিনীপুর শহর ছাড়াও কেশপুর, আনন্দপুর, গড়বেতা প্রভৃতি এলাকায় করোনা সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে।

thebengalpost.in
মেদিনীপুর শহরে ১৪ জন করোনা আক্রান্ত :

.

মেদিনীপুর শহরে গতকাল রাতের রিপোর্ট অনুযায়ী ১৪ জন করোনা সংক্রমিত। তার মধ্যে ১১ জন আক্রান্তের ফল এসেছে র‌্যাপিড অ্যন্টিজেন টেস্টের মাধ্যমে। মেদিনীপুর শহরের হবিবপুরে একসাথে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, স্বামী (৫৬) এবং স্ত্রী (৪৮) দু’জনই। জানা যায় ওই মহিলা শহরের স্টেশন রোডের এক জেরক্স দোকানে কাজ করতেন। ইতিপূর্বে, দোকানের অপর এক মহিলা কর্মীর বাড়ির প্রায় সকলেই করোনা আক্রান্ত সংক্রমিত হয়েছেন। এবার ওই মহিলার সংস্পর্শে আসায় হবিবপুরের স্বামী (৫৬) ও তাঁর স্ত্রী (৪৮) তাঁদের করোনা পরীক্ষা করান। বৃহস্পতিবার রিপোর্ট আসে পজিটিভ। শহরের নতুনবাজার সংলগ্ন জগন্নাথ দেবের মাসি বাড়ী এলাকায় বছর ২৯ এর এক যুবকেরও করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তিনি পেশায় ব্যবসায়ী। পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২-৩ দিন এভাবে চলার পর, বৃহস্পতিবার সকালেই অ্য‍ান্টিজেন পরীক্ষা করা হলে রাতে কোভিড রিপোর্ট পজিটিভ আসে। শহরের পাটনা বাজার এলাকাতেও নতুন করে এক যুবক (৩০) করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। অপরদিকে, শহরের মিত্র কম্পাউন্ড এলাকায়, বছর ৭৪ এর এক বৃদ্ধ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি অবসরপ্রাপ্ত রেলের কর্মী। পরিবারে স্ত্রী, ছেলে, বৌমা ও নাতিকে নিয়ে থাকতেন বলে জানা যায় পরিবার সূত্রে। তাঁর ছেলেও খড়গপুর রেল বিভাগের কর্মী। জানা যায় ওই ব্যক্তি স্টেশন রোড সংলগ্ন গেটবাজার এলাকায় বাজার করতেও যেতেন। সম্প্রতি, ওই বৃদ্ধ মুখের স্বাদ পাচ্ছিলেন না! তাই ১৩ আগস্ট সকালে অ্যন্টিজেন টেস্ট করালে ওই দিনই রাতে করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। শহরের কোতোয়ালী থানার অধীনে, মির্জাবাজার এলাকায় এক মহিলার (৩৮) কোভিড রিপোর্ট পজিটিভ অ‍া‌সে বলে জানা যায় স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে। পরিবার সূত্রে জানা যায় তাঁর স্বামী রাজমিস্ত্রীর কাজ করেন। গত ২-৩ দিন ধরে জ্বর থাকায়, ওই মহিলার লালারসের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হলে, বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। শহরের পুলিশ লাইনেও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এক মহিলা (৩১) সহ ৪ (২৯, ৩০ ও ৩১) জন পুলিশ কর্মী। জানা যায়, ওই মহিলা পুলিশ লাইনের পি.জি দফতরে কাজ করতেন। তিনি সারেঙ্গার বাসিন্দা। পুলিশ আবাসনেই থাকতেন। তবে তাঁর কোনো উপসর্গ নেই বলে জানা যায়। অপরদিকে, বাকি আক্রান্ত ৩ জন পুলিশ কর্মীর মধ্যে একজন বাঁকুড়া ও অন্যজন ঝাড়গ্রামের বাসিন্দা। কয়েকদিন ধরেই গা-হাত-পা ব্যাথা হওয়ার কারণে, তাঁদের অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করা হয়। পুলিশ লাইনের ভেতরেই কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে তাঁদের রাখা হয়েছে বলে জানা যায় বিশেষ সূত্রে। তবে তাঁরা প্রত্যেকেই উপসর্গহীন।
অন্যদিকে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের এক হাউস স্টাফেরও (২৬) কোভিড রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তিনি ঝাড়গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা যায়। কর্মসূত্রে তিনি মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের হোস্টেলেই থাকতেন। করোনা যুদ্ধের প্রথম সারির যোদ্ধা হওয়ায় বিভিন্ন রোগীর সংস্পর্শে এসেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে প্রাথমিক অনুমান স্বাস্থ্য দফতরের। মেদিনীপুর শহরের জজকোর্ট সংলগ্ন অরবিন্দনগর এলাকায় একই পরিবারের মা (৬৪) ও ছেলের (৪৫) কোভিড রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে বলে জানা যায়। মায়ের অ্যন্টিজেন টেস্ট এবং ছেলের আর.টি.পি.সি.আর পরীক্ষায় করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। জানা যায়, সম্প্রতি মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ‘রোগী কল্যাণ সমিতি’তে কর্মরত এক যুবকের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তাঁর সংস্পর্শে এসেই, জর্জকোর্ট অরবিন্দনগর সংলগ্ন এই ব্যক্তি ও তাঁর মায়ের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। শহরের আরো এক ব্যক্তির (৫৬) করোনা রিপোর্ট এদিন পজেটিভ এসেছে। সবমিলিয়ে, মেদিনীপুর শহরে এদিন (বৃহস্পতিবার) ১৪ জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন এবং কমপক্ষে ২৫ জনের রিপোর্ট অমীমাংসিত এসেছে। আজ, শুক্রবার যেগুলি পুনরায় পরীক্ষা করে দেখা হবে, কতজন পজিটিভ!

.
.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে