মেদিনীপুরের বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার খরচ ২ লক্ষ টাকা! নজিরবিহীন তৎপরতায় ১ ঘন্টার মধ্যে ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ড তুলে দিলেন খড়্গপুরের SDO

thebengalpost.in
মহকুমাশাসক আজমল হোসেন ও অমিত পান্ডের সঙ্গে অনু শর্মা :

বিজ্ঞাপন

মণিরাজ ঘোষ, খড়্গপুর ও মেদিনীপুর, ১২ ফেব্রুয়ারি: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের “স্বাস্থ্যসাথী” প্রকল্প। সেই স্বপ্নের প্রকল্পই এবার খড়্গপুরের এক অসহায় পরিবারের একমাত্র ‘সহায়’ রূপে নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল! পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়্গপুর শহরের ২৭ নং ওয়ার্ডের (পুরী গেটের) বাসিন্দা অনু শর্মা’র একমাত্র সন্তান ভীম শর্মা (২০) গত মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে ভয়াবহ বাইক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। দুর্ঘটনায় তার পায়ের হাড় মাংস সমেত বাইরে বেরিয়ে চলে আসে বলে জানিয়েছেন অনু দেবী। বুধবার ভোরবেলা তিনি নিজের সন্তানকে মেদিনীপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসকেরা জানান, জটিল অপারেশন প্রয়োজন। অবিলম্বে, ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা লাগবে। তবে, ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ড থাকলে টাকা লাগবেনা। অনু দেবী নিজের সন্তানকে নিয়ে একাই থাকেন। তিনি এখনও স্বাস্থ্যসাথী কার্ড করাতে পারেননি! চরম অসহায় অবস্থায় তিনি নিজের ওয়ার্ডের তৃণমূল কর্মী জনৈক সঞ্জয় বাবু’র সাথে যোগাযোগ করেন। তাঁর মাধ্যমে যোগাযোগ হয় ২৩ নং ওয়ার্ডের তৃণমূল নেতা অমিত পান্ডের সাথে। অমিত বাবু ওই মহিলাকে নিয়ে যান খড়্গপুরের মহাকুমা শাসক (SDO) আজমল হোসেনের কাছে। নজিরবিহীন তৎপরতায় তিনি মাত্র ১ ঘন্টার মধ্যে অনু শর্মার হাতে ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ড তুলে দেন। আজ ওই বেসরকারি হাসপাতালে ভীম শর্মার পায়ের জটিল অপারেশন সম্পন্ন হবে বলে জানা গেছে।

thebengalpost.in
অনু শর্মা মাত্র ১ ঘন্টার মধ্যে হাতে পেলেন স্বাস্থ্যসাথী কার্ড :

ইতিপূর্বে, জরুরি সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় দ্রুততার সঙ্গে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের ব্যবস্থা করে দেওয়ার খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু, এত দ্রুত স্বাস্থ্যসাথী কার্ড হাতে তুলে দেওয়ার খবর পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় এই প্রথম বলেই জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সকলে! চোখের জল মুছতে মুছতে অনু দেবী আজ সংবাদমাধ্যমের সামনে বললেন, “প্রায় ২ লক্ষ টাকা অপারেশনের খরচ শুনে আমি ভয়ঙ্কর দুঃশ্চিন্তার মধ্যে পড়ি। আমি কোনোমতেই এত টাকা জোগাড় করতে পারতামনা! ধন্যবাদ জানাই আমাদের ওয়ার্ডের সঞ্জয় দা’কে এবং অমিত পান্ডে মহাশয়কে। আর আমি চিরকৃতজ্ঞ থাকব এসডিও সাহেবের কাছে! মাত্র এক-দেড় ঘন্টার মধ্যে আমার হাতে উনি স্বাস্থ্যসাথী কার্ড তুলে দেন। আমার অন্তরের অন্তর্স্থল থেকে প্রণাম জানাই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়’কে। এই ঋণ পরিশোধ করতে পারবনা কোনোদিন। অসহায় পরিবারের জন্য এই কার্ড যে কত মূল্যবান উপলব্ধি করতে পারলাম। তবে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসক কেও ধন্যবাদ জানাই আমাদেরকে সহযোগিতা করার জন্য।”

thebengalpost.in
মহকুমাশাসক আজমল হোসেন ও অমিত পান্ডের সঙ্গে অনু শর্মা :

[ আরও পড়ুন -   তেমাথানীতে একই পরিবারের ৬ জন করোনা আক্রান্ত, বিডিও'র পর নারায়ণগড়ের দুই স্বাস্থ্যকর্মীও সংক্রমিত ]