নন্দীগ্রাম দিবসের পর খেজুরি দিবস, ‘সমাজসেবক’ শুভেন্দুর কন্ঠে “ভারতমাতা জিন্দাবাদ” থেকে “জয় হিন্দ, বন্দেমাতরম”

thebengalpost.in
পদে না থেকেও মানুষের পাশে থাকার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ শুভেন্দু অধিকারী'র :
বিজ্ঞাপন

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পূর্ব মেদিনীপুর, ২৫ নভেম্বর: ১০ নভেম্বরের পর ২৪ নভেম্বর। ‘নন্দীগ্রাম দিবসে’র পর ‘খেজুরি দিবস’। এখনও দলীয় ব্যানার-হীন, প্রতীক-হীন ‘সমাজসেবক’ শুভেন্দু অধিকারী। জনস্রোতের মাঝে ভেসে গিয়েও, আবেগে ভেসে যাননি! নিজের সিদ্ধান্ত এখনও স্পষ্ট করলেন না! তবে, “হার্মাদ মুক্ত” খেজুরিতে রোমন্থন করলেন, হার্মাদদের বন্দুকের নলের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের লড়াইয়ের স্মৃতিকথা। স্মরণ করালেন, “২০১০ এ এসেছিলাম, ২০১১ থেকে ২০১৯ এও এসেছি। ২০২০ তেও এলাম।” তিনি দলীয় ব্যানার-প্রতীক হীন, তবে ‘মানুষের পাশে ছিলেন এবং থাকবেন’ বলে জানিয়ে দিলেন আবারও। এদিন, তাঁর পাশে ছিলেন, খেজুরির বিধায়ক রণজিৎ মণ্ডল এবং দঃ কাঁথির বিধায়ক বনশ্রী মাইতি।

thebengalpost.in
মিছিলের সম্মুখে লক্ষ্যে অবিচল শুভেন্দু অধিকারী :

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

দুই বিধায়ক’কে সঙ্গে নিয়ে মিছিলের জনস্রোতে বা এক সুবিশাল পদযাত্রার সামনে হেঁটে গেলেন ‘জননেতা’ শুভেন্দু অধিকারী। এক হাতে ধরা খেজুরি দিবসের প্ল্যাকার্ড। অন্য হাত ব্যানারে। আর সেই ব্যানারে লেখা, “বাংলার মুক্তিসূর্য শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে খেজুরি হার্মাদ মুক্ত দিবসের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বিশাল পদযাত্রা।” ‘অরাজনৈতিক’ শুভেন্দু এদিনও নিজের ‘রাজনৈতিক’ অবস্থান স্পষ্ট করেননি! তবে, গত ১০ নভেম্বর নন্দীগ্রামের গোকুলনগরের মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তব্য শেষ করেছিলেন, “জয় বাংলা, ভারতমাতা জিন্দাবাদ” বলে। এদিন, বক্তব্য শেষ করলেন, “জয় হিন্দ, বন্দেমাতরম” বলে। “বাংলা”র পরিবর্তে “হিন্দ” বা হিন্দুস্থান এল, “ভারতমাতা জিন্দাবাদ” এর পরিবর্তে “বন্দেমাতরম” বা মা তোমার বন্দনা করি ধ্বনি উঠে এল। আক্ষরিক অর্থ সবই প্রায় কাছাকাছি। তবে, সচেতন ভাবে অথবা আবেগের স্রোতে ভেসে গিয়ে শুভেন্দু যাই বলুন না কেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা তীব্র। অবস্থান ‘স্পষ্ট’ না করলেও, তাঁর ‘অনুগামী’ কিংবা ‘তৃণমূল’ সমর্থকেরা যেন এই “বন্দেমাতরম” ধ্বনিতেই আশার আলো খুঁজে বেড়াচ্ছেন! গতকালের সাংবাদিক বৈঠকে সাংসদ সৌগত রায়ের বক্তব্যে তাঁদের আশা আরও বেড়ে গিয়েছে। তিনি বলেছেন, “শুভেন্দু তৃণমূলেই আছেন। এখনও পর্যন্ত অন্য কথা তো বলেন নি!”

thebengalpost.in
সেই ব্যানার :

বিজ্ঞাপন

এদিকে, আজ (২৫ নভেম্বর) কাঁথি দেশপ্রাণ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের ডাকে “বিজয়া সম্মিলনী ও সংবর্ধনা সভা” উপলক্ষে যে ব্যানার দেওয়া হয়েছে, তা দেখে তো উৎসাহী তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস আরও বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে যেতে বাধ্য! ব্যানারে মমতা-শুভেন্দু-শিশির-দিব্যেন্দু সকলের সহাবস্থান ঘটেছে! সাংসদ ও জেলা সভাপতি শিশির অধিকারী’কে মধ্যমণি করে, একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারীর ছবি, অন্যদিকে দিব্যেন্দু অধিকারী সহ অন্যান্য স্থানীয় নেতৃত্বের ছবি। আজ বেলা ৩ টায় পেটুয়া ঘাটে অনুষ্ঠিত এই বিজয় সম্মিলনীর ব্যানারের সঙ্গে অবশ্য “দাদার অনুগামী”দের কোনো সম্পর্ক নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তাঁরা। জেলার একজন ঘনিষ্ঠ “দাদার অনুগামী” তো স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “এসব ব্যানার অতি-উৎসাহীদের কাজ। দাদা এখনও কিছু স্পষ্ট করেননি। দলের সাথে এখনও সমস্যা মিটেনি বলেই আমরা জানি। দেখা যাক, নেত্রী কি সিদ্ধান্ত নেন। তার আগে সম্ভবত দাদা কোনোকিছুই ঘোষণা করবেন না। তবে, এই সপ্তাহ বা পরের সপ্তাহেই সবকিছু স্পষ্ট হবে বলে আমরাও আশাবাদী!”

বিজ্ঞাপন

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে