দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২ ফেব্রুয়ারি: পণ্ডিতেরা বলেন, শিক্ষকেরাই সমাজ তথা জাতির মেরুদন্ড। আর, ছাত্ররা জাতির ভবিষ্যৎ। শিক্ষক দম্পতি হিসেবে সোমজিৎ বাবু আর মৌসুমী দেবী সমাজকে আবারও পথ দেখালেন। আর, তাঁদের শিশুপুত্র রিমো নিজের পঞ্চম জন্মদিন থেকেই ‘জাতির ভবিষ্যত’ রূপে মা-বাবার দেখানো পথ প্রত্যক্ষ করল। মেদিনীপুর শহরের হবিবপুরের বাসিন্দা, পেশায় শিক্ষক সোমজিৎ মাইতি এবং শিক্ষিকা মৌসুমী মাইতি তাঁদের একমাত্র পুত্র রিমোর পঞ্চম জন্মদিনকে স্মরণীয় করে রাখতে, আজ শালবনী ব্লকের ডাঙ্গরপাড়া গ্রামে দুই শতাধিক আদিবাসী পুরুষ ও মহিলাদের হাতে তুলে দিলেন, নতুন পোশাক এবং কচিকাঁচাদের হাতে তুলে দিলেন শিক্ষাসামগ্রী। আদিবাসী নৃত্যের প্রয়োজনীয় সামগ্রী, যেমন- ধুতি, জার্সি, শাড়ি, উত্তরীয়, ব্লাউজ এবং বাচ্চাদের জন্য স্কুল ব্যাগ, খাতা, পেনসিল বক্স প্রভৃতি তুলে দিয়ে, মনের আনন্দে সকলে মেতে উঠলেন চিরন্তন সেই আদিবাসী নৃত্যের তালে-তালে। সুন্দর এই কর্মসূচিটি সার্থক করতে এগিয়ে এসেছিলেন ‘জঙ্গলমহল উত্তরণ ঐক্য’ এর সদস্য জগন্নাথ পাত্র, ফারুক মল্লিক, চন্দন সিং, নাগার্জুন সাউ, সুজন রায়, সনত কবি, রিজু কারক, বাবুয়া ঘোষ সহ আপামর গ্রামবাসী বৃন্দ।

অপরদিকে, বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে নতুন জীবন শুরু করার ঠিক প্রাক্কালে মানবতার মহান কর্তব্য সাধনে এগিয়ে এলেন শালবনীর সুকান্ত বিষই। ‘ছত্রছায়া’ গ্রুপের সহায়তায়, তিনি এই কনকনে ঠান্ডার হাত থেকে কিছু অসহায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের মুক্তি দিতে এগিয়ে এলেন। গতকাল অর্থাৎ সোমবার, বিয়ের পিঁড়িতে বসার আগে তিনি ‘ছত্রছায়া’কে সঙ্গে নিয়ে কম্বল তুলে দিলেন এলাকার বেশ কয়েকজন শীতার্ত বৃদ্ধ ও বৃদ্ধার হাতে। আর এভাবেই, মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের শুভ সন্ধিক্ষণকে পাথেয় করে, সমাজসেবার মধ্য দিয়ে মাত্র একদিনের ব্যবধানে যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল জেলা শহর মেদিনীপুর আর জঙ্গল অধ্যুষিত শালবনী।








